ফল কেনার নিয়ম শিখে নিন। ছবি: সংগৃহীত।
ঋতুকালীন ফল ও সব্জিতে ভরে উঠেছে বাজারহাট। বাজারে সুন্দর হলদেটে, কমলা রঙের পাকা পেঁপে দেখলেই কিনে ফেলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সব পাকা পেঁপেই কি আদতে পাকা? না কি দ্রুত বাজারে আনার জন্য কৃত্রিম ভাবে পাকানো হয়েছে? প্রাকৃতিক ভাবে পাকা পেঁপের মতো মিষ্টি স্বাদ কৃত্রিম ভাবে পাকানো ফলে পাওয়া যায় না। তার উপর, ওই পেঁপে শরীরের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। তাই পাকা পেঁপে কেনার আগে চোখ-কান খোলা রাখা উচিত।
পেঁপে কেনার কৌশল শিখে নিন। ছবি: সংগৃহীত
ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর পেঁপে বদহজমের সমস্যা কমাতে পারে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে, দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে পারে। ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্যও পেঁপের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু টাকা খরচ করে বাড়িতে পেঁপে এনেও যদি তা বিশুদ্ধ না হয়, তা হলে এ সমস্ত গুণের কোনও কিছুই মিলবে না। তাই টাটকা এবং বিশুদ্ধ পেঁপে কেনার ক্ষমতা তৈরি করতে হবে।
কী ভাবে বুঝবেন, কোন পেঁপে কৃত্রিম ভাবে পাকানো হয়েছে?
১. প্রথমেই নজর দিন রঙে। স্বাভাবিক ভাবে পাকা পেঁপের রং এক রকমের হয় না। যেমন, ধীরে ধীরে রং পাল্টাতে থাকে। কখনও কখনও অসমানও দেখতে লাগতে পারে। বাইরে হলুদ বা কমলা হলেও কিছু জায়গায় সবুজ ছোপ থেকে যেতে পারে। কিন্তু কৃত্রিম ভাবে পাকানো পেঁপের গাত্র অতিরিক্ত মসৃণ হয়। চারদিকের রং সমান দেখতে লাগে। এই অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লেই সতর্ক হওয়া উচিত।
২. স্পর্শ থেকেও কৃত্রিম ভাবে পাকানো পেঁপে চেনা যায়। স্বাভাবিক পাকা পেঁপে অল্প নরম হবে। বোঝা যাবে ফলটি পাকছে। কিন্তু কৃত্রিম ভাবে পাকানো ফলের গায়ে আলতো চাপ দিলে ভিতরটা শক্ত বা রাবারের মতো মনে হতে পারে।
৩. গন্ধ দিয়েও যায় চেনা। প্রাকৃতিক ভাবে পাকানো পেঁপে থেকে স্বাভাবিক মিষ্টি গন্ধ বেরোয়। কিন্তু কৃত্রিম ভাবে পাকানো ফলের গন্ধ অনেক সময়ে তেমনটা হয় না। কখনও সখনও রাসায়নিকের গন্ধও পাওয়া যেতে পারে।
৪. সবচেয়ে ভাল বোঝা যায় যদি ফল কেটে দেখা যায়। প্রাকৃতিক ভাবে পাকানো পেঁপের ভিতরটি উজ্জ্বল কমলা রঙের হবে। তা ছাড়া নরম এবং রসালো দেখতে হবে। আর কার্বাইড দিয়ে পাকানো ফল কাটলে হয়তো দেখা যাবে, অসমান ভাবে রং ছড়িয়ে পড়েছে। ভিতরে হলুদ বা ফ্যাকাশে ছোপ থাকতে পারে।
৫. ক্যালশিয়াম কার্বাইডের মতো রাসায়নিকের সংস্পর্শে এলে কখনও সখনও ফলের গায়ে পোড়া পোড়া ছোপও দেখা যায়। তা দেখেও আপনি চিহ্নিত করতে পারবেন।