মাথা গরম হয়ে গেলে পরিস্থিতি সামলাবেন কী করে? ছবি: সংগৃহীত।
হাতের পাঁচটা আঙুল যেমন সমান হয় না, তেমনই সহকর্মী, আত্মীয়, বন্ধুরাও সকলে সমান হন না। দৈনন্দিন জীবনে কাজের প্রয়োজনে বা ব্যক্তিগত কারণে, এমন অনেক মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয়, যাঁদের সঙ্গে কথা বললে মেজাজ ঠিক রাখা যায় না। কেউ গোঁয়ার, কেউ আবার অবুঝ। আবার এমন মানুষও থাকেন, যাঁরা সামান্য বিষয়কে তিল থেকে তাল করে ফেলেন।
এমন ধরনের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে না চাইলেও বলতে হয় কখনও কখনও। তার ফলেই দিনভর নিজের মেজাজ বিগড়ে যায়? প্রচণ্ড রাগ হয়? ৫ কায়দায় এমন পরিস্থিতি সামলে দেখুন।
প্রতিক্রিয়া নয়, উত্তর: রাগ হলেও ক্ষেত্র বিশেষে শান্ত থাকা জরুরি। অন্য জন যখন চিৎকার করছেন বা মনে হচ্ছে, কথার ভুল ব্যাখ্যা করছেন তখন উচ্চগ্রামে তর্ক না জুড়ে চুপ করে যাওয়াই শ্রেয়। প্রতিক্রিয়া না দিয়ে বরং শান্ত ভাবে নির্দিষ্ট উত্তর দেওয়া যায়। থেমে যাওয়া মানেই দুর্বলতা নয়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে মনে হলে, চুপ করে দাঁড়িয়ে বড় করে শ্বাস নিন। যদি মনে হয়, সেই মুহূর্তে মাথা ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না, সেই জায়গা থেকে সরে আসতে পারেন।
কাউকে বলতে পারেন: অশান্তি হলে বা মেজাজ খাপ্পা হয়ে থাকলে দিনভর কোনও কাজেই মন দেওয়া যায় না। একটা কথাই মাথায় ঘুরতে থাকে। অনেক সময় অশান্তির কথা কাউকে বলে ফেলতে পারলে মন হালকা হয়ে যায়। তবে যে কোনও মানুষকে নয়, যাঁকে বিশ্বাস করা যায় বা যিনি আপনাকে বুঝতে পারেন, এমন মানুষের কাছে অসুবিধা বা সমস্যার কথা বলে দেখতে পারেন মন হালকা হয় কি না।
মানসিক প্রস্তুতি: প্রত্যেকেরই নিজস্বতা থাকে। যদি বুঝে যান, মানুষটি আড়বুঝো ধরনের, তা হলে তার সঙ্গে কী ভাবে কথা বললে পরিস্থিতি শান্ত থাকবে, কাজের কাজটিও হবে, সেই পন্থা নিজের মতো করে ঠিক করে নিন। কোনও মানুষের স্বভাব বা তাঁর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে, তাঁর সঙ্গে কথা বলায় সুবিধা হয়।
কথোপকথন কমিয়ে দিয়ে দেখতে পারেন: যদি মনে হয়, বিশেষ কারও সঙ্গে কথা বললে অশান্তি হতে পারে বা মেজাজ গরম হয়ে যায়, তা হলে কাজের বাইরে অন্য কথা বলা এড়িয়ে চলুন। অন্য কাউকে মধ্যস্থ রেখে কথা বলিয়েও দেখতে পারেন অশান্তি এড়ানো যায় কি না।
বোঝানো অর্থহীন: মনে রাখা দরকার, যিনি যে ভাবে কথা বলছেন সেটা তাঁর নিজস্ব ব্যাপার। তিনি ভুল বলছেন বা ঠিক বলছেন না, এমনটা প্রমাণ করার বা অন্যকে বোঝানোর দায় নিজের ঘাড়ে না নেওয়াই ভাল। বদলে নিজের লক্ষ্য বা কাজে স্থির থাকা জরুরি।