সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বে কখন টানবেন সীমারেখা? কন্যা আলায়া এফ প্রসঙ্গে গল্প শোনালেন পূজা বেদি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
সন্তানের সঙ্গে বন্ধুর মতোই খোলামেলা ভাবে মেশেন বহু অভিভাবক। কিন্তু সেই বন্ধুত্বেরও তো কিছু না বলা সীমারেখা থাকে। ঠিক যেমন যে কোনও সম্পর্কেই উল্টো দিকের মানুষটির মর্যাদা বুঝে থামতে জানতে হয়। বাবা-মা এবং সন্তানসন্ততির বন্ধুত্বেও সেই অদৃশ্য সীমারেখাটি কত জরুরি, তা নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন তারকা জননী পূজা বেদী। যাঁর কন্যাও এক জন অভিনেত্রী, আলায়া এফ।
সন্তানকে মানুষ করতে হলে কি তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা উচিত নাকি গুরুজনোচিত দূরত্ব বজায় রাখা উচিত? সে বিতর্ক চিরকালীন। কেউ পক্ষে বলেন কেউ বিপক্ষে। তারকা সন্তানের তারকা মা পূজা বেদী কী মনে করেন? এক পডকাস্টে মেয়ে আলায়াকে লালনপালন করার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পূজা জানিয়েছেন, তিনি খুব ছোটবেলাতেই মেয়ের কাছে ওই সীমারেখাটি স্পষ্ট করে টেনে দিয়েছিলেন। আর তা করেছিলেন মেয়ের একটি আচরণ দেখে শঙ্কিত হওয়ার পরে।
পূজা জানিয়েছেন, এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে মেয়ে আলায়া তাঁকে কথাচ্ছলে ‘ইয়ার’ (বন্ধু) বলে সম্বোধন করেন। সে কথা শোনার পরেই পূজা মেয়েকে স্পষ্ট করে বলে দেন, “আমাকে ‘ইয়ার’ বলবে না। আমি তোমার বন্ধু নই, আমি তোমার মা। তোমার সঙ্গে আমার আচরণ বন্ধুর মতো হতে পারে। তোমার যে কোনও প্রয়োজনে আমি পাশে দাঁড়াতেও পারি, কিন্তু আদতে আমি তোমার মা-ই।”
নতুন প্রজন্মের বাবা-মায়েদের অনেকেই সন্তানকে কী ভাবে বড় করবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। পূজার ঘটনাটি থেকে শেখা যেতে পারে সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বে কোথায় সীমারেখা টানা জরুরি। আর সেই সীমা বজায় রাখার জন্য কতটা কঠিন হওয়া যায়।
একটা বিষয় মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আর তা হল, সন্তানের জীবনে শৃঙ্খলা, সঠিক দিকনির্দেশ এবং নিয়মানুবর্তিতার জন্য একজন পথপ্রদর্শকেরই দরকার সবচেয়ে বেশি। যে কাজ বন্ধু নয়, অভিভাবকই ভাল করতে পারেন।