—প্রতীকী চিত্র।
‘ক্লড’ কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি বাজারে এনে হইচই ফেলে দিয়েছে অ্যানথ্রপিক। এ-হেন মার্কিন টেক জায়ান্টের তৈরি জোড়া এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) মডেলকে ৯০ মিনিটের মধ্যে আংশিক নিষিদ্ধ করল আমেরিকা। ফলে ভারত ও চিনের বাসিন্দারা আপাতত ব্যবহার করতে পারবে না ‘মিথোস’ ও ‘ফেবল’। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের জেরে দুনিয়া জুড়ে সাড়া পড়ে গিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ‘মিথোস’ ও ‘ফেবল’-এর মতো এআই মডেলগুলি বেশ বিপজ্জনক। এগুলি ব্যবহার করে অনায়াসেই দেশের বহু সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে হ্যাকারদের গ্যাং। ভারত ও চিনের মতো তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রগুলির থেকে ওই ধরনের সাইবার হামলার আশঙ্কা অমূলক নয়। তাই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে ওয়াশিংটন।
সাইবার বিশ্লেষকদের দাবি, মার্কিন প্রশাসনের এই যুক্তি একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার নয়। অ্যানথ্রপিকের নতুন এআই মডেলগুলি বেশ শক্তিশালী। ফলে যে কোনও ব্রাউজ়ার ও অপারেটিং সিস্টেমের ‘নিরাপত্তা তালা’ খুলতে এগুলি যে হ্যাকারদের সাহায্য করবে, তা বলাই বাহুল্য। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বহুজাতিক টেক জায়ান্টের বড়সড় লোকসানের মুখে পড়া অসম্ভব নয়।
তা ছাড়া ‘মিথোস’ ও ‘ফেবল’-এর মতো এআই মডেলের অন্য নানা ক্ষেত্রেও অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে ষোলো আনা। কিন্তু তার পরেও যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাইবার বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, অ্যানথ্রপিকের কৃত্রিম মেধা ব্যবহার করে হ্যাকিংয়ের জন্য ভারত বা চিনের বাসিন্দা হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমেরিকাতে বসেও সেই কাজ দিব্যি করা যেতে পারে। তা হলে কেন এই দ্বিচারিতা?
মার্কিন প্রশাসন অবশ্য এই প্রশ্নের কোনও জবাব দেয়নি। অন্য দিকে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, কয়েক হাজার সফ্টঅয়্যারের দুর্বলতা বা ‘ভালনারেবিলিটি’ চোখের নিমেষে শনাক্ত করার ক্ষমতা রাখে ‘মিথোস’। তবে সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করার জেরে এর ব্যবহার বর্তমানে সীমিত করেছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ২০০টি সংস্থা কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তিটি হাতে পেয়েছে বলে সূত্র মারফত মিলেছে খবর।