রানি মুখোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
২০১৫ সালে মা হন রানি মুখোপাধ্যায়। রানি ও আদিত্য চোপড়ার মেয়ে আদিরার বয়স ১০ বছর। অন্যান্য তারকা সন্তানের মতো আদিরা সমাজমাধ্যমে একেবারেই জনপ্রিয় নয়। এতগুলো বছর কেটে গেলেও মেয়েকে লোকচক্ষুর আন্তরালেই রেখেছেন রানি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মেয়েকে নিয়ে নানা কথা বললেন অভিনেত্রী।
আদিরা জেনারেশন আলফার প্রতিনিধি। রানির কথায়, তিনি ছোটবেলায় যে ভাবে বড় হয়েছেন, আদিরার বেড়ে ওঠার পর্বটা একেবারেই আলাদা। রানি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘আদিরা আমার উপর রাগারাগি করে। ও জেনারেশন আলফার প্রতিনিধি, তাই ও আমায় বকাবকি করে আর আমাকে সেটা শুনতেও হয়। প্রতিটি প্রজন্মের সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকত্বের ধরনও বদলাতে হয়। ছোটবেলায় অন্যায় করলে আমার মা চড় মারতেন আমায়। তবে আমি এখন সেটা আদিরার সঙ্গে করতে পারি না। আমি মারলে ও উল্টে আমাকে মেরে দেবে। এমনিতে আদিরা খুবই মিষ্টি মেয়ে। তবে ও যে প্রজন্মে জন্মেছে, তাতে ওর থেকে আমায় ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়।’’
রানির মতে, এখনকার দিনের শিশুরা অনেক বেশি পরিণত, সেটা তাদের হাবেভাবেই বোঝা যায়। অভিনেত্রী বলেন, ‘‘বাবার মৃত্যুর পর আমি খুবই তাঁর অভাব বোধ করতাম। বাবা আমার প্রতিটি কাজের খুঁটিনাটি নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করতেন। তবে ভগবান সেই অভাবটা পূরণ করে দিয়েছেন আমার মেয়েকে আমার জীবনে পাঠিয়ে। ও আমার জীবনে বাবার জায়গাটা নিয়ে নিয়েছে। আমার প্রতিটি কাজেই ও আমাকে ভীষণ ভাবে উৎসাহিত করে।’’
মায়ের মেকআপ করা মোটেও পছন্দ করে না আদিরা। সে মাকে কোনও তারকা নয়, কেবল মাত্র ‘আদিরার মা’ হিসাবেই পেতে চায়। রানি বলেন, ‘‘আমি মেকআপ করলে আদিরা বলে, আমায় নাকি ওর মায়ের মতো দেখতে লাগছে না। যখন মেকআপ তুলে ফেলি তখন ও আমার কাছে এসে বলে, ‘এখন তোমাকে দেখে আমার মায়ের মতো লাগছে।’’’
বাবা-মা খ্যাতনামী হলে তাঁদের খ্যাতির আলোয় প্রতিফলিত হয় সন্তানেরা। ছোটবেলা থেকেই আর পাঁচটি শিশুর তুলনায় আলাদা খাতির পায় তারকা সন্তানেরা। এই ব্যাপারটি একেবারেই অপছন্দ রানির। তিনি নাকি মেয়েকে ‘ছাপোষা’ জীবনের স্বাদ দিতে চান। শুধু তিনিই নন, আদিত্যও এ বিষয়ে একমত। এখনই প্রচারের আলোয় এনে মেয়েকে বিব্রত করতে চান না তাঁরা।
রানি জানিয়েছেন, মেয়েকে সাধারণ ভাবে বড় করতে চান। ওর বাবা-মা যে বিশেষ কেউ— এ কথা জানিয়ে সচেতন করে দিতে চান না। একেবারে সাধারণ জীবন দিতে চান মেয়েকে। যদিও এক সাক্ষাৎকারে রানি বলেন, “আমি সবিনয়ে অনুরোধ করি ছবি না তোলার জন্য। আমার চোখটা দেখে কিছু আন্দাজ করতে পারেন ছবিশিকারিরা, তাই আর তোলেন না।’’