parenting tips

অল্প বয়সেই ছেলের সাফল্য ভাবাচ্ছে মাধাবনকে! ব্যর্থতাও সামলাতে হবে, অভিভাবকত্বের পাঠ দিলেন অভিনেতা

ইতিমধ্যেই দেশের জন্য একাধিক পদক জিতেছেন আর মাধবনের ছেলে বেদান্ত। ২০২২ সালে ড্যানিশ ওপেনে স্বর্ণপদক জিতে শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছিলেন বেদান্ত। এ ছাড়াও কমনওয়েলথে পঞ্চম স্থান পান। ছেলের কৃতিত্বে গর্ববোধ করেন মাধবন। তবে মনে অজানা ভয়ও রয়েছে অভিনেতার।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ২১:১১
Share:

ছেলে বেদান্তের সঙ্গে আর মাধবন। ছবি: সংগৃহীত।

বাবা নামী অভিনেতা। তা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ অন্য পথে হেঁটেছেন আর মাধবনের ছেলে বেদান্ত মাধবন। সাঁতারু হিসাবেই কেরিয়ার গড়ার স্বপ্ন বছর ২০-র বেদান্তের। ইতিমধ্যেই দেশের জন্য একাধিক পদক জিতেছেন তিনি। ২০২২ সালে ড্যানিশ ওপেনে স্বর্ণপদক জিতে শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছিলেন বেদান্ত। এ ছাড়াও কমনওয়েলথ গেমসে পঞ্চম স্থান পান। ছেলের কৃতিত্বে গর্ববোধ করেন মাধবন। তবে মনে অজানা ভয়ও রয়েছে অভিনেতার।

Advertisement

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিভাবকত্ব নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করেন তিনি। মাধবন জানান, কোভিডের সময় তিনি এবং তাঁর স্ত্রী সরিতা বির্জে দু’জনে মিলিত ভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দুবাই চলে যাওয়ার। ছেলের কেরিয়ারের কথা ভেবেই তাঁদের এই সিদ্ধান্ত। মাধবন বলেন, ‘‘সেই সময় এই সিদ্ধান্তটা নেওয়া ভীষণ জরুরি ছিল। কোভিডের সময় দেশে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটার অনুমতি ছিল না। বেদান্ত সেই সময় সাঁতারু হিসেবে বেশ ভাল ফলাফল করছিল। সেই সময় সুইমিং পুলের ব্যবস্থা করতে না পারলে ওর কেরিয়ার একেবারে শেষ হয়ে যেত।’’

ছেলে ইতিমধ্যেই নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে, নিজের পরিচিতি অর্জন করেছে, তবুও বাবা হিসাবে নিজেকে ১০-এ ৬ দিয়েছেন মাধবন। মাধবনের মতে, তাঁর স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে তাঁর থেকে অনেক বেশি ভাবনাচিন্তা করেন। মাধবনের মতে, তিনি ছেলেকে জীবনবোধের সঙ্গে পরিচয় করান। জীবনের কোন ক্ষেত্রে কোন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সেই বিষয়ে তিনি ছেলেকে পরামর্শ দেন। মাধবন আরও বলেন, ‘‘বেদান্ত আরও বড় তারকা হতে পারবে কি না, তা নিয়ে আমি চিন্তিত নই। আমি বরং এটা নিয়ে বেশি চিন্তিত যে, বেদন্তের মধ্যে এই বোধটুকু আছে কি না, প্রচারের আলো তার উপর বেশি দিন না-ও থাকতে পারে। তবে জীবনে কঠিন সময় এলেও নিজের লক্ষ্যে সে যেন স্থির থাকতে পারে, সেটাই আমার কাছে চিন্তার বিষয়।’’

Advertisement

সন্তানের জীবনে ব্যর্থতা হলে কী ভাবে সামলাবেন বাবা-মায়েরা?

সন্তান তার জীবনে খুব অল্প বয়সে সাফল্য পেয়ে গেলে, অভিভাবকরেরা খুশি হন। তবে কোথাও গিয়ে তাঁদের মনে অজানা ভয়ও কাজ করে। ভবিষ্যতে ব্যর্থতা এলে সন্তান নিজেকে সামলাতে পারবে তো? দিল্লিনিবাসী মনোবিদ সাক্ষী মনধ্যান বলেন, ‘‘অল্প বয়সে অতিরিক্ত প্রশংসা পেতে শুরু করলে শিশুদের মধ্যে তারাই সেরা, এমন মনোভাব তৈরি হতে পারে। শিশুকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে পরিচয় করানোর দায়িত্বটা কিন্তু বাবা-মায়েদের নিতে হবে। শুধু সাফল্যই নয়, কী ভাবে ব্যর্থতাকে সামলাতে হবে, সে বিষয়ও সন্তানকে জীবনের পাঠ দিতে হবে অভিভাবককে। শিশু যতই সাফল্য পাক না কেন, যে যেন নিজেকে তারকা না ভেবে আর পাঁচজন সাধারণের মতোই দেখে, সে বিষয়টি বাবা-মায়েদেরই নিশ্চিত করতে হবে।’’

মনোবিদের মতে, বাড়িতে সারাক্ষণ প্রতিযোগিতা, সাফল্য, ব্যর্থতা— এই সব নিয়ে কথা বলা উচিত নয়। পরিবার, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝাতে হবে সন্তানকে। সাফল্যে যেমন পরিবার সঙ্গে আছে, তেমনই ব্যর্থতার দিনে সে পরিবারকে পাশে পাবে, সেই বার্তা সন্তানের কাছে যেন স্পষ্ট থাকে, সেই দিকটিও অভিভাবকদের নিশ্চিত করতে হবে। পুরো বিষয়টিই কথাবার্তা, আলাপ-আলোচনা আর একে অপরকে সময় দেওয়ার উপর নির্ভর করবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement