Koel Mallick

রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়তে পারেন কোয়েল মল্লিক, সংসদে তৃণমূলের ভাঙনের মাঝে ঘুরছে সেই জল্পনাও

গত ফেব্রুয়ারিতে, রাজ্যসভা নির্বাচনে দলের তরফে প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করেছিল তৃণমূল। সেখানেই ছিল অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের নাম। রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূলে লাগাতার ধস অব্যাহত। অভিনেত্রীও কি সেই পথেরই পথিক?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ২১:৩১
Share:

রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন কোয়েল মল্লিক? ছবি: সংগৃহীত।

রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়তে পারেন কোয়েল মল্লিক। শোনা যাচ্ছে, সেই কারণে অভিনেত্রী দিল্লি রওনা দিয়েছেন।

Advertisement

তিনি রাজনীতিতে যেতে ইচ্ছুক, এমনটা আগে বিশেষ শোনা যায়নি। ফলে গত এপ্রিল মাসে কোয়েল তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভায় যেতে রাজি হয়েছেন শুনে বেশ বিস্মিত হয়েছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠেরা। কেউ কেউ এমনও বলেছিলেন যে, তাঁর হয়ে অন্য কেউই এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। কোয়েলের রাজ্যসভার পদ ছাড়ার প্রসঙ্গ উঠতেই সে সব কথা ফিরে আসছে নানা মহলে।

শপথগ্রহণের দিনে কোয়েল, সঙ্গে রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। ছবি: সংগৃহীত।

গত ফেব্রুয়ারিতে, রাজ্যসভা নির্বাচনে প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করে তৃণমূল। সেই তালিকায়, রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী ছাড়াও অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের নাম ছিল। তার কয়েক দিন আগে তদানীন্তন রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের খতিয়ান নিয়ে মল্লিকবাড়িতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরে এপ্রিল মাসে দিল্লিতে রাজ্যসভার সাংসদ পদে শপথ নিতে যান কোয়েল। সঙ্গে ছিল তাঁর গোটা পরিবার। শপথের পরে অভিনেত্রী বলেছিলেন, “অনেক ভেবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তা নয়। এটা তো একটা মহৎ দায়িত্ব, দেশের সেবা, মানুষের সেবা— এর থেকে তো বড় মহৎ কাজ হতে পারে না। সেই জায়গা থেকে আমি নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবতী মনে করি যে, আমার নাম মনোনীত হয়েছে এবং আমি এত গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গায় আসতে পেরেছি।”

Advertisement

তৃণমূলের একটি সূত্র জানিয়েছিল, কোয়েলের যেহেতু পঞ্জাবি পরিবারে বিয়ে, তাই তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে নাকি ভবানীপুরের পঞ্জাবি ভোটারদের কাছে বার্তা দিতে চেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ভোটের ফলে এই অঙ্ক ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে। ভবানীপুরে পঞ্জাবিদের ভোট এমন কিছু বেশি নয়। ফলে, কোয়েলকে রাজ্যসভায় পাঠানোটা ‘তেলা মাথায় অতিরিক্ত তেল’ দেওয়ার মতো ঘটনা বলে অনেকে মনে করেন।

পরিবারের সঙ্গে কোয়েল। ছবি: সংগৃহীত।

দলের অন্দরে কান পাতলে আর একটা কথাও শোনা যায়। কোয়েলের স্বামী বর্তমানে প্রযোজনা ছাড়াও কিছু রিয়্যাল এস্টেটের কাজের সঙ্গে যুক্ত। রিয়্যাল এস্টেট ব্যবসার স্বার্থেই নাকি তিনি কোয়েলকে মমতার অনুরোধ ফেলতে বারণ করেন। কোয়েল-ঘনিষ্ঠ এক অভিনেতা অবশ্য এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন। অভিনেত্রীর বন্ধুস্থানীয়েরা মনে করেন, কোয়েল কখনও অনৈতিক কাজ করেননি। রাজ্যসভার একটি সামান্য পদের জন্য তো কখনওই করবেন না। এমনকি, তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভায় যাওয়ার পরেও কোয়েলের অভিনেতা পিতা রঞ্জিত মল্লিক বলেছিলেন, “কোয়েল বড় হয়েছে। বুঝদার মেয়ে। ওকে আলাদা করে বলার কিছু নেই। খুবই বুদ্ধি নিয়ে কাজ করে। এ ক্ষেত্রেও তেমনই করবে। বাবা হিসাবে যা যা বলার সেটুকু বলেছি। সৎ পথে থেকে ভাল কাজ করুক, এটাই চাওয়া।”

তবে এখন পালাবদলের সময়। যাদের হয়ে রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন কোয়েল, সেই তৃণমূলে ভাঙন ধরেছে। কিন্তু তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সদস্যদের দলে কোয়েল যোগদান করবেন না। সম্মান রেখে রাজনীতি থেকে দূরেই থাকবেন। অভিনেত্রীকে যাঁরা কাছ থেকে চেনেন, তাঁরা অন্তত এমনই মনে করছেন। প্রসঙ্গত, সোমবার সকাল থেকে কোয়েলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তিনি নিশ্চুপ। মেলেনি এ সংক্রান্ত কোনও উত্তর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement