Dating App trend

জীবনসঙ্গী খুঁজতে ‘খড়ের গাদায় আগুন’ দিতে হবে? নতুন পদ্ধতি আলোড়ন ফেলছে ডেটিং দুনিয়ায়

যাঁরা এ যুগে ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করছেন, তাঁদের বক্তব্য, প্রেম বা সম্পর্কে এখন আর কেউ শুধু রোম্যান্স খুঁজছেন না। বদল্‌ সম্পর্কে এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্পষ্ট কথায়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ১৮:৫২
Share:

ছবি: সংগৃহীত।

জীবনসঙ্গী খুঁজতে ডেটিং অ্যাপের সাহায্য নেন অনেকেই। তবে সেখানে সম্ভাব্য পাত্র-পাত্রীর সংখ্যাও প্রচুর। তার মধ্যে থেকে নিজের জন্য সঠিক পাত্র বা পাত্রী বাছাইয়ের একটি বিশেষ পদ্ধতি নিয়ে ইদানীং আলোচনা হচ্ছে বিস্তর। আর ওই পদ্ধতির নাম ‘হেস্ট্যাক বার্নিং’।

Advertisement

ওই ট্রেন্ডের বক্তব্য কী?

‘হেস্ট্যাক’ কথাটির অর্থ খড়ের গাদা। আর ‘বার্নিং’ মানে পোড়ানো। কিন্তু ডেটিং বা জীবনসঙ্গী খোঁজার সঙ্গে খড়ের গাদা পোড়ানোর সম্পর্ক কী? আসলে বিষয়টি পুরোটাই প্রতীকী। এই ট্রেন্ডের বক্তব্য— খড়ের গাদায় সুচ খোঁজার মতোই কঠিন সঠিক জীবনসঙ্গীর খোঁজ পাওয়া। তাই সেই কাজটিকে সহজ করতে খড়ের গাদাটিকেই যদি পুড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে সুচের দেখা সহজে মিলবে।

Advertisement

আদৌ কি তাতে কাজ হয়?

যাঁরা এ যুগে ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করছেন, তাঁদের বক্তব্য, প্রেম বা সম্পর্কে এখন আর কেউ শুধু রোম্যান্স খুঁজছেন না। বদলে, সম্পর্কে এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্পষ্ট কথায়। সম্পর্কে কোথায় থাকতে চাও, কতটা এগোতে চাও, কতটা এগনোর পরে থামতে চাও— সে সব বুঝেই সম্পর্কে যেতে চাইছেন মানুষ। তাতে অন্তত অনিশ্চয়তায় ভুগতে হবে না। এড়ানো যাবে মানসিক যাতনাও। আর সেই মানসিকতা থেকেই জন্ম ‘বার্নড হেস্ট্যাক ডেটিং’-এর।

ওই পদ্ধতিতে, যিনি জীবনসঙ্গী বাছতে বসেছেন, তিনি প্রথম থেকেই ‘অযোগ্য’ বা নিজের মনের মতো নয় এমন পাত্র বা পাত্রীকে তালিকা থেকে বাতিল করতে শুরু করেন। হয়তো এক বার কি দু’বার দেখা করলেন, দিন কয়েক কথা বললেন, তার পরে পছন্দ না হলে সম্পর্ক বেশি দূর গড়াতে না দিয়ে ইতি টানলেন। আবেগকে বাড়তে দিলেন না। যুক্তি— এক জন গোলমেলে মানুষকে বার বার সুযোগ দেওয়ার চেয়ে শুরুতেই বেগতিক দেখলে ছেঁটে ফেলা ভাল। আশা, তাতে সময় বাঁচবে। আর সঠিক মানুষটির সন্ধানে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া যাবে।

এটি কি সত্যিই নতুন পদ্ধতি, নাকি নতুন নাম?

এখানেই আসল মোচড়। এই প্রবণতা কিন্তু পুরোপুরি নতুনও নয়। বাঙালি পরিবারে ঠাকুমা-দিদিমার আমলে বা তারও আগে, যখন পারিবারিক উদ্যোগে বিয়ে ঠিক হত, তখন গোত্র, জাতি, সাকিন, কুষ্ঠি, ইত্যাদি নানা দিক বিচার করে তার পরে বাছাই হত পাত্র-পাত্রী। সেকালেও কড়া ছাঁকনি হাতে নিয়ে ভাবী পুত্রবধূ বা হবু জামাতা বাছতে বসতেন বাবা-মা এবং পরিবারের মানুষজন। কোনও একটি বিষয়ে গুরুতর অমিল হলে সম্বন্ধ বাতিলও হত। আজকের যুগের ‘বার্নড হেস্ট্যাক’ সেই পুরনো ছাঁকনিরই নব সংস্করণ বলা চলে। তফাত শুধু দু'টিই— এক, আগে ওই বাছবিচারের কাজটি করতেন পরিবারের বড়রা আর এখন ডেটিং অ্যাপের যুগে সেই দায়িত্ব মানুষ নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন। দুই, আগে বিচারের মাপকাঠিগুলি ছিল আlলাদা, খানিক সংস্কারপ্রবণ, আর এখন বিচারের মানদণ্ড মনের মিল বা অন্য বাস্তব বিষয়।

সুবিধা ও অসুবিধা

১। এই পদ্ধতি যেমন একদিকে ভুল মানুষের পেছনে ছুটে সময় নষ্ট করা থেকে বাঁচায়, তেমনই এর কিছু অন্ধকার দিকও রয়েছে।

২। অতি-সতর্ক হতে গিয়ে অনেক সময়েই উল্টো দিকের মানুষটির সামান্য খামতি দেখলেও পুরোপুরি নাকচ করে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এতে নিজের অজান্তেই এক ধরনের মানসিক দেওয়াল তৈরি হয়, যা প্রকৃত ভালোবাসা বা বিশ্বাস গড়ে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

৩। খড়ের গাদা পোড়ানোর সময়ে মনে রাখুন, দোষে-গুণেই মানুষ। অতি-সতর্কতার আগুনে একটি খারাপ বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে যেন অনেক ভাল গুণ পুড়ে ছাই না হয়ে যায়!

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement