বাজারে কি মাইক্রোওয়েভ অভেনের কদর কমছে? ছবি: সংগৃহীত।
সে দিন এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে তাঁর বসার ঘরে আড্ডা দিচ্ছিলাম। আড্ডার মাঝে মাঝে কানে আসছিল এক অদ্ভুদ ঝিঁ ঝিঁ শব্দ। ভাবলাম, বুঝি ও নতুন এয়ার পিউরিফায়ার কিনেছে। তবে যখন আাওয়াজের সঙ্গে সঙ্গে যখন নাকে এল এক সুন্দর ঘ্রাণ— তখন আর না থাকতে পেরে ঢুকেই পড়লাম ওর হেঁশেলে। দেখলাম, কিচেন কাউন্টারের উপর রাখা একটি বাক্স। সেই বাক্সের ভিতর থেকে বেরিয়ে এল গরমাগরম পিৎজ়া, যার ধারগুলি দেখেই মনে ভীষণ মুচমুচে, তখনও টগবগ করে ফুটছে গলানো চিজ়! তবে এতো মাইক্রোওয়েভ অভেন নয়!
বন্ধুর মুখে মুচকি হাসি। সে জানাল, মাস তিনেক হল বাড়ির মাইক্রোওয়েভ অভেনটি আর ব্যবহার করা হয় না। কথা বলতে বলতে সে আগে থেকে ভেজে রাখা কিছু ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ঢুকিয়ে দিল আবারও সেই যন্ত্রে। মিনিট দুয়েকের মধ্যেই মিইয়ে যাওয়া ফ্রাইগুলি একেবারে মুচমুচে হয়ে বেরিয়ে এল। অবাক হলাম। বন্ধু জানাল, তাঁর রান্নাঘরের নতুন সংযোজন ‘এয়ার ফ্রায়ার অভেন’। দেখতে খানিকটা মাইক্রোওয়েভের মতো হলেও এটিতে মাইক্রোওয়েভের মতো আওয়াজ হয় না, ভিতরে প্লাস্টিকের প্লেটও ঘোরে না আর পিৎজ়াও রবারের মতো শক্ত হয়ে যায় না।
মাইক্রোওয়েভ অভেনের বিকল্প
এয়ার ফ্রায়ার অভেন হল মাইক্রোওয়েভ আর এয়ার ফ্রায়ারের এক উত্তম সংমিশ্রণ। মাইক্রোওয়েভে খাবার চটজলদি হয় বটে, তবে স্বাদের ক্ষেত্রে কখনও কখনও তা পিছিয়ে যায়। পিৎজ়া, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, শিঙাড়া, ফিশ ফ্রাইয়ের মতো পদ মাইক্রোওয়েভে গরম করে নিলে তা দ্রুত হলেও একেবার মিইয়ে যায়, খেতে ভাল লাগে না। অন্য দিকে এয়ার ফ্রায়ারে একটু বেশি সময় লাগলেও তা মুচমুচে থাকে— তবে অনেকটা পরিমাণ খাবার তৈরির সময় বিপাকে পড়তে হয়। সে ক্ষেত্রে ভাল বিকল্প হতে পারে এয়ার ফ্রায়ার অভেন। হ্যাঁ ৩০ সেকেন্ডে খাবার গরম করা কিংবা ২ মিনিটে মাগ কেক তৈরি করার মতো ফিচার আপনি এয়ার ফ্রায়ার অভেনে পাবেন না, এর জন্য কিন্তু মাইক্রোওয়েভের উপরেই ভরসা রাখতে হবে। এয়ার ফ্রায়ার অভেনে পাওয়া যায় রোস্ট, ডিহাইড্রেট, বেক, ব্রয়েল বা গ্রিল, ওয়ার্ম, বেগেল বা রুটি তৈরি বা স্লো কুকের মতো একাধিক বিকল্প। তবে গ্রেভি জাতীয় কোনও খাবার রান্না করতে হলে মাইক্রোওয়েভই ভাল, এয়ার ফ্রায়ার অভেনে সেই রান্না হবে না। একটু সময় বেশি খরচ করে আপনি একেবারে রেস্তরাঁর মতো পিৎজ়া, গ্রিল্ড চিকেন, ফ্রাই, তন্দুরি, শিঙাড়া এয়ার ফ্রায়ার অভেনেই বানিয়ে ফেলতে পারেন।
এয়ার ফ্রায়ার আর এয়ার ফ্রায়ার অভেন আলাদা কোথায়?
প্রথমেই দেখতে হবে, কতটা খাবার রান্না করতে পারবেন, সেই বিষয়টা। একটা ৬ লিটারের এয়ার ফ্রায়ার আর একটা ২৩ লিটারের এয়ার ফ্রায়ার অভেন হেঁশেলে মোটামুটি একটি জায়গা নেবে। তবে একই সময়ে এয়ার ফ্রায়ার অভেনে অনেকটা বেশি রান্না করতে পারবেন সহজেই।
এয়ার ফ্রায়ার অভেনে একই সময় অনেক রকম খাবার একই সঙ্গে রাঁধতে পারবেন। এয়ার ফ্রায়ার অভেনে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, টোস্ট, গার্লিক ব্রেড সবগুলি একই সঙ্গে বানিয়ে ফেলতে পারেন। তবে এয়ার ফ্রায়ারে সেই সুযোগ নেই। এই কারণে বিদ্যুতের খরচও কম হয় আর সময়ও বাঁচে।
সাধারণত এয়ার ফ্রায়ারে ৬-৭টি প্রিসেট মেনু থাকে, তবে এয়ার ফ্রায়ার অভেনে ১০-১২টি প্রিসেট মেনু থাকে, ফলে রান্না করা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। এয়ার ফ্রায়ারের তুলনায় এয়ার ফ্রায়ার অভেনে রান্না তাড়াতাড়ি হয়। এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করলে অনেক সময় তা বড্ড শুকনো হয়ে যায় তবে এয়ার ফ্রায়ার অভেনে সেই সমস্যা হয় না।
এয়ার ফ্রায়ার অভেনের দাম মোটামুটি ৮ থেকে ১৪ হাজার টাকা, অন্য দিকে একটা ভাল এয়ার ফ্রায়ার কিনতে খরচ হবে প্রায় ৫-১২ হাজার টাকা। তাই দামে কিন্তু খুব বেশি তফাত নেই, তবে এয়ার ফ্রায়ার অভেনের ফিচার অনেকটাই বেশি।