Bengal election celebrity voter

বাঙালিরা সত্যি রাজনীতি সচেতন হলে নেতারা এত অপশব্দ ব্যবহার করতে পারতেন না: ঋত্বিক চক্রবর্তী

তাঁরাও ভোটার। তবে তাঁদের ভাবনা-চিন্তা অনেককে দিশা দেখায়। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে তেমনই কয়েক জন তারকা ভোটারের কাছে ১৩টি প্রশ্ন নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। এ দফায় উত্তর দিলেন অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫২
Share:

রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের আগে নিজের মতামত জানালেন অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?

ঋত্বিক চক্রবর্তী: আমার মুখ্যমন্ত্রীকে আমি দেখব, তার পর চিনব, তার পর বুঝব। আমার মনে এমন কোনও ছবি নেই যে, এই পদে বা এই ভূমিকায় তেমনই একজনকে দেখতে চাইব।

Advertisement

২. দল দেখে ভোট দেন না কি প্রার্থী দেখে?

ঋত্বিক: ভোট দেওয়ার চেষ্টা করি নিজের চাহিদা বুঝে। দল দেখে ভোট দিই না। অমুক দলকে দিতেই হবে, এমন কোনও ব্যাপার নেই। আমি কোনও দলেরই ‘হার্ডকোর’ সমর্থক নই। কোন দল কী বলছে, সেই বুঝে ভোট দিই।

৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?

ঋত্বিক: এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। একটা পাবলিক সার্ভিস, সেটা সম্পর্কে যদি কারও বিন্দুমাত্র ধারণা না থাকে, তা হলে সেটা ভাল নয়। আর প্রশিক্ষণ তো জরুরি বটেই। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ। যে কোনও কাজই যদি প্রশিক্ষণ নিলে ভাল হয়, তা হলে বিধায়ক হলেই বা নয় কেন!

Advertisement

৪. নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?

ঋত্বিক: এই কল্পনা আমি একেবারেই করতে পারি না। যেমন আমি কল্পনা করতে পারি না যে, আমি হেলিকপ্টার চালাচ্ছি, ঠিক সেই রকমই ব্যাপার।

৫. আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?

ঋত্বিক: আমি মনে করছি না। আমি মনে করছি যে, তার থেকে বেঁচে থাকার জন্য জরুরি যে সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেগুলো নিয়েই ভোট হওয়া উচিত।

৬. নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?

ঋত্বিক: এটা আমি আসলে ঠিক বলতে পারব না। এটার খুব বিশদে আমি জানি না। কিন্তু আসলে আমি মনে-প্রাণে চাই একটা অশান্তি শূন্য, হিংসাবিহীন ভোট। মানুষ মারা যায়, মানুষ আহত হয়, এটা নেওয়া যায় না।

৭. ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?

ঋত্বিক: তাঁদের বিরুদ্ধে তো কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। একটি নিয়ম আছে সম্ভবত। কিন্তু সেই নিয়মের ফাঁকফোকর দিয়ে গলে গিয়ে তাঁরা দিব্যি বেঁচেবর্তে থাকেন। এটা তো সংবিধানের ব্যাপার। আমি এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ অবগত নই।

৮. রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?

ঋত্বিক: এটা তো একেবারেই বন্ধ হওয়া দরকার। বাঙালিরা কথায় কথায় বলি, আমরা খুব রাজনীতি সচেতন। কিন্তু আমরা যদি সত্যি সচেতন হতাম, তা হলে রাজনৈতিক নেতাদের অপশব্দ ব্যবহার বন্ধ করেই দিতে পারতাম। অতটা সচেতন বোধ হয় নই।

৯. দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

ঋত্বিক: সরকার তার নাগরিকের প্রতি একটা সমদৃষ্টি রাখবে, এটুকু তো চাওয়াই যেতে পারে। আসলে এই প্রত্যেকটাই বা নয় কেন! কেন এটা বনাম ওটা? প্রত্যেকটারই তো সমাজ চালাতে গুরুত্ব আছে। এটা তো রাজনৈতিক দলগুলো করছে।

১০. ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?

ঋত্বিক: এটার একটা গুরুত্ব আছে গরিব মানুষের ক্ষেত্রে। তবে পুরোটাই ভাতা-নির্ভর হয়ে গেলে কোনও দিন আবার ভাতাটাই না বকেয়া পড়ে যায় (হাসি)! এই ভয়টাও থেকে যায়। তবে প্রাথমিক ভাবে এটাও তো সরকারের একটা কাজ। যে সে তার জনগণকে সমান ভাবে দেখবে। পিছিয়ে পড়া মানুষ ভাতা পাবেন। কিন্তু শুধু পিছিয়ে পড়া মানুষ পাচ্ছেন না। আমরা দেখতে পাচ্ছি ব্যাপারটা খানিকটা ভোট-নির্ভরও।

১১. প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?

ঋত্বিক: একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। গণতন্ত্রের নিয়মই তো বিরোধী স্বর শুনতে পাওয়ার জায়গা তৈরি করা।

১২. তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?

ঋত্বিক: তাই যদি হবে তা হলে আমি খুবই হতাশ হয়ে যাব মানুষ সম্পর্কে। মানুষ কি তার নিজের ভাল বুঝবে না? এতখানি হতাশ হতে আমি ইচ্ছুক নই।

১৩.পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?

ঋত্বিক: গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অনেক আছেন। কিন্তু সত্যি বর্তমান সময়ে কাউকেই খুব একটা পছন্দের রাজনৈতিক ব্যক্তি বলে মনে হয় না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement