থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্তকে রক্তদান যুবকের

রক্তের অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত এক যুবক অমিত বিশ্বাস। নিজে থেকেই এগিয়ে গিয়ে তাঁকে রক্ত দিলেন শঙ্কর ঘোষ নামে এক যুবক। শঙ্করবাবুর অবশ্য বক্তব্য, “কী আর এমন করেছি।” হাঁসখালি ফুলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা অমিতবাবুর বাড়ির লোক অবশ্য জানাচ্ছেন, ঠিক সময়ে শঙ্করবাবু এগিয়ে না এলে তাঁদের খুবই সমস্যায় পড়তে হত। শুধু তাই নয়, শঙ্করবাবু রক্ত দেওয়ায় শেষমেশ মুখ রক্ষা হল শক্তিনগর জেলা হাসপাতালেরও।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০১৪ ০২:৩৫
Share:

শঙ্কর ঘোষ।—নিজস্ব চিত্র।

রক্তের অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত এক যুবক অমিত বিশ্বাস। নিজে থেকেই এগিয়ে গিয়ে তাঁকে রক্ত দিলেন শঙ্কর ঘোষ নামে এক যুবক। শঙ্করবাবুর অবশ্য বক্তব্য, “কী আর এমন করেছি।”

Advertisement

হাঁসখালি ফুলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা অমিতবাবুর বাড়ির লোক অবশ্য জানাচ্ছেন, ঠিক সময়ে শঙ্করবাবু এগিয়ে না এলে তাঁদের খুবই সমস্যায় পড়তে হত। শুধু তাই নয়, শঙ্করবাবু রক্ত দেওয়ায় শেষমেশ মুখ রক্ষা হল শক্তিনগর জেলা হাসপাতালেরও।

শক্তিনগর হাসপাতালের সুপার হিমাদ্রী হালদার বলেন, “ব্লাড ব্যাঙ্কে এক বোতল রক্ত নেই। হাজার চেষ্টা করেও আমরা ওই রোগীকে এক ফোঁটাও রক্ত দিতে পারতম না। ওই যুবক এগিয়ে এসে রক্ত না দিলে রোগীকে বাঁচানোই মুশকিল হয়ে পড়ত। রোগীর বাড়ির লোকের পাশাপাশি আমরাও ওই যুবকের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।” শঙ্করবাবুর দান করা রক্ত পেয়ে অমিতবাবুর শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার পরে তাঁকে কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

Advertisement

বছর পঁয়ত্রিশের শঙ্করবাবু শক্তিনগর জেলা হাসপাতালেই কাজ করেন। হাসপাতালের পুরুষ রোগীদের সহায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি। থাকেন কাছেই অঞ্জনাপাড়ায়। বাড়িতে বাবা, মা, দুই সন্তান ও স্ত্রী রয়েছেন। বাবা রিকশাচালক। শঙ্করবাবু পড়াশোনা করেছেন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্তয় অমিতবাবুকে রক্ত দেওয়া জরুরি হয়ে পড়ায় ওই হাসপাতালেই রক্তের জন্য চেষ্টা করছিলেন তাঁর পরিবারের লোকজন। কিন্তু হাসপাতালে বেশ কয়েক দিন ধরে রক্ত না থাকায় প্রতিদিনই তাঁর পরিবারের লোককে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। কিন্তু রক্তের অভাবে অমিতবাবুর শরীরের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। শেষে চিকিৎসক তাঁকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন। সেই মতো বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু রক্ত নেই। শেষ পর্যন্ত ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীরা পরামর্শ দেন, বাইরে থেকে রক্তদাতা নিয়ে এলে সেই রক্ত অমিতবাবুকে দেওয়া যাবে। অনেক কষ্টে অমিতবাবুর পরিবারের লোকজন তিন রক্তদাতাকে নিয়ে আসেন। বৃহস্পতিবার সেই তিন জনের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহ করেন। ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীরা বিকেলে তার মধ্যে এক বোতল রক্ত অমিতবাবুকে দেন। ঠিক হয় বাকি দু’বোতল রক্ত পর দিন প্রয়োজন মতো দেওয়া হবে। এরই মধ্যে অমিতবাবুর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ায় শুক্রবার সকালেই চিকিৎসক তাঁকে কলকাতার হাসপাতালে ‘রেফার’ করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অমিতের শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে পড়েছিল যে নতুন করে আরও রক্ত না দিয়ে কলকাতার হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না।

সেই মতো সকালে তাঁর পরিবারের লোকজন ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত নিতে এলে জানতে পারেন ব্লাড ব্যাঙ্কে কোনও রক্ত নেই। তাঁদের রেখে দেওয়া রক্তেরও হদিস নেই। বিষয়টি জানার পরে তাঁর পরিবারের লোকেরা রক্ত ‘বিক্রি’ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। খবর পেয়ে ছুটে আসেন হাসপাতাল সুপার। কিন্তু ব্লাড ব্যাঙ্কে এক বোতলও রক্ত না থাকায় অসহায় হয়ে পড়েন সুপার। আর তখনই এগিয়ে আসেন শঙ্করবাবু। তাঁর কথায়, “আমি কর্তব্য করেছি মাত্র।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement