Greenland Crisis

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের ‘৫০০ বছর’ যুক্তি প্রশ্ন তুলছে আমেরিকার নিজস্ব অস্তিত্ব নিয়েই! কী এই ‘ডকট্রিন অফ ডিসকভারি’?

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, চিন এবং রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে আমেরিকাকে রক্ষা করতে গ্রিনল্যান্ড দখল নেওয়া প্রয়োজন। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে একটি গ্রাফিক পোস্ট করে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন দাবি করেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:২৬
Share:
০১ ২৯

গত কয়েক দিনে ট্রাম্প বার বার গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি করেছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘যে কোনও মূল্যে’ গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করা হবেই। হয় চুক্তির মাধ্যমে, নয়তো বলপ্রয়োগ করে! ট্রাম্প কেন গ্রিনল্যান্ড চাইছেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছে ওয়াশিংটন।

০২ ২৯

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, চিন এবং রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে আমেরিকাকে রক্ষা করতে গ্রিনল্যান্ড দখল নেওয়া প্রয়োজন। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে একটি গ্রাফিক পোস্ট করে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন দাবি করেন। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালেই বিশ্বের বৃহত্তম এই দ্বীপ মার্কিন ভূখণ্ডের অংশ হতে চলেছে।

Advertisement
০৩ ২৯

গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অভিযান চালানো হবে কি না, তা নিয়ে এখনও মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক কর্তা দাবি করেছেন, সামরিক অভিযানের বিকল্প উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে আলোচনা চলছে আমেরিকার প্রশাসনের অন্দরে।

০৪ ২৯

ইতিমধ্যেই গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে সামরিক বিমান মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবার নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড) জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের পিতুফিকে আমেরিকার সেনাঘাঁটিতে শীঘ্রই সামরিক বিমান পৌঁছে যাবে। ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা গ্রিনল্যান্ডের মার্কিন ঘাঁটিতে সামরিক বিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

০৫ ২৯

পুরো বিষয়টিতে জড়িয়ে পড়েছে ইউরোপের একাধিক দেশ। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর শোরগোল পড়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল করতে এতটাই মরিয়া যে, অজান্তে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।

০৬ ২৯

গ্রিনল্যান্ডের উপর ডেনমার্কের দাবির আইনি ও নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ৫০০ বছর আগে ডেনমার্কের একটি নৌকা গ্রিনল্যান্ডে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে, সেই জায়গার মালিকানাও ডেনমার্কের। উল্লেখযোগ্য ভাবে, এই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় বার ট্রাম্প এই ভিত্তিতে গ্রিনল্যান্ডের উপর ডেনমার্কের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

০৭ ২৯

নিজেকে ডেনমার্কের ‘বড় ভক্ত’ বলে ৯ জানুয়ারি ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘৫০০ বছর আগে গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের নৌকা থাকার অর্থ এই নয় যে তারা গ্রিনল্যান্ডের জমির মালিক। আমি নিশ্চিত যে আমাদেরও প্রচুর নৌকা সেখানে গিয়েছিল।’’

০৮ ২৯

ট্রাম্পের সেই বাণী আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ, এমনকি যুক্তিসঙ্গত হলেও তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তিরই পরিপন্থী বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। এমনকি, শুধু তা-ই নয়, ট্রাম্পের মন্তব্য অস্ট্রেলিয়া, নিউ জ়িল্যান্ড এবং কানাডার মতো অন্য অনেক আধুনিক রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে দেয়।

০৯ ২৯

কারণ, নজরের আড়ালে থাকা বা নতুন কোনও জায়গায় সবার আগে নৌকা অবতরণের ফলে মালিকানা অধিকারের দাবি অন্তত পাঁচ শতাব্দী ধরে আন্তর্জাতিক আইনের একটি ঐতিহাসিক নীতির অংশ। সেই নীতি পরিচিত ‘গানবোট ডিপ্লোমেসি’ বা ‘গানবোট কূটনীতি’ নামে। ভ্যাটিকান দ্বারাও বৈধতা পেয়েছিল সেই নীতি। এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাটিন আমেরিকায় উপনিবেশবাদের ন্যায্যতা হিসাবেও ব্যবহৃত হয়েছিল।

১০ ২৯

এ ছাড়াও, এই নীতিটি মার্কিন আইনে গভীর ভাবে গেঁথে রয়েছে এবং আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউ জ়িল্যান্ড জুড়ে আদিবাসীদের তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য একটি নজির হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ট্রাম্প যে প্রশ্ন তুলেছেন, সেই প্রশ্ন চার শতাব্দী ধরে করে আসছেন ওই দেশগুলির আদিবাসীরা।

১১ ২৯

আবিষ্কারের নীতি (দ্য ডকট্রিন অফ ডিসকভারি) বা খ্রিস্টীয় আবিষ্কারের নীতি (দ্য ডকট্রিন অফ ক্রিশ্চিয়ান ডিসকভারি) পঞ্চদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত হয়েছিল। নীতিটি ভ্যাটিকান থেকে পোপের জারি করা ডিক্রিতে নিহিত ছিল, যা খ্রিস্টীয় ইউরোপীয় শক্তিগুলিকে তাদের দ্বারা আবিষ্কৃত খালি বা খ্রিস্টানদের দ্বারা অধ্যুষিত নয় এমন ভূখণ্ডে নৌকা অবতরণ করে মালিকানা দাবি এবং উপনিবেশ স্থাপনের অধিকার প্রদান করে।

১২ ২৯

প্রথম যে ইউরোপীয় দেশ কোনও ভূখণ্ড আবিষ্কার করেছে, তার উপর যাতে অন্য কোনও দেশ মালিকানা না দাবি করতে পারে, তার জন্যই ওই নীতি তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ ওই নীতি, নতুন আবিষ্কৃত কোনও ভূখণ্ডের উপর আবিষ্কারকের একচেটিয়া অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল।

১৩ ২৯

ইউরোপীয় সেই নীতি আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং অন্যত্র উপনিবেশবাদকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্যও ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে আবিষ্কৃত ভূখণ্ডে যদি আগে থেকেই খ্রিস্টীয় মতবাদ প্রতিষ্ঠিত থাকে, তা হলে তার উপর কেউ মালিকানা দাবি করতে পারত না। তবে যদি সেখানে আদিবাসীদের বসবাস থাকত, তা হলে সেই ভূখণ্ডে মালিকানা দাবি করতে পারত আবিষ্কারক দেশ।

১৪ ২৯

যদি আদিবাসীরা খ্রিস্ট ধর্ম অনুসরণ না করত, তা হলে ওই জমিগুলিকে খালি বা ‘টেরা নুলিয়াস’ বলে গণ্য করা হত। হাজার হাজার বছর ধরে আদিবাসীরা সেখানে বসবাস করলেও মালিকানা যেত আবিষ্কারক দেশের হাতে। মালিকানার অগ্রাধিকার পেত নৌকায় করে সেখানে অবতরণকারী প্রথম খ্রিস্টীয় ইউরোপীয় শক্তি।

১৫ ২৯

উদাহরণস্বরূপ, ১৭৭০ সালে যখন ব্রিটিশ অভিযাত্রী এবং মানচিত্রকার জেমস কুক অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন, তখন সেখানে প্রায় ৭,৫০,০০০ লোক বাস করতেন, যাঁরা হাজার হাজার ধরে সেখানে বসবাস করছিলেন। কিন্তু জেমস ভূখণ্ডটিকে ‘টেরা নুলিয়াস’ ঘোষণা করেন। জমিটি খালি ঘোষণা করে রাজা তৃতীয় জর্জের জন্য সেটির মালিকানা দাবি করেন তিনি।

১৬ ২৯

১৮৪০ সালে ব্রিটিশ শাসকের আদেশে তে ওয়াইপোনামুকে ‘টেরা নুলিয়াস’ ঘোষণা করেন লেফটেন্যান্ট উইলিয়াম হবসন। তিনিও সেখানে মালিকানা দাবি করেছিলেন। একই ভাবে ভারত এবং লাটিন আমেরিকার দেশগুলিতে হাজার হাজার বছর ধরে সমৃদ্ধ সভ্যতা ছিল। তবুও সেখানে উপনিবেশ স্থাপন করে ইউরোপীয় শক্তি।

১৭ ২৯

১৪৫২ সালে পোপ পঞ্চম নিকোলাস ‘ডুম ডাইভারসাস’ জারি করেন, যা পর্তুগালের রাজা আফোনসো পঞ্চমকে ‘পৌত্তলিক এবং অন্য যে কোনও অবিশ্বাসী ও খ্রিস্টের শত্রুদের বশীভূত করার’ এবং ‘তাদের চিরস্থায়ী দাসে পরিণত করার’ অধিকার দেয়। ১৪৫৫ সালে, পোপ পঞ্চম নিকোলাস ‘রোমানাস পন্টিফেক্স’ জারি করেন, যা একই ভাবে পর্তুগালের কর্তৃত্ব বৃদ্ধি করে। সেই নথি পর্তুগালকে পশ্চিম আফ্রিকায় রাজত্ব করার এবং বাণিজ্য করারও নির্দিষ্ট অধিকার দিয়েছিল। অনেক ইতিহাসবিদ যুক্তি দেন যে নথিগুলি ‘আটলান্টিক দাস ব্যবসা’কে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্যও ব্যবহৃত হত।

১৮ ২৯

১৪৯৩ সালে আবার পোপ ষষ্ঠ আলেকজান্ডার একটি দানপত্র জারি করেন। সেই দানপত্র অনুযায়ী, কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জের প্রায় ৫৫৬ কিলোমিটার পশ্চিমে উত্তর-দক্ষিণ রেখা বরাবর বিশ্বকে দু’টি গোলার্ধে বিভক্ত করা হয়েছিল। সেই রেখার পশ্চিমে অবস্থিত দ্বীপপুঞ্জ এবং দেশগুলি স্পেনকে অন্বেষণ, বাণিজ্য, বিজয়, আধিপত্য এবং খ্রিস্ট ধর্মে ধর্মান্তরের জন্য দেওয়া হয়েছিল। পূর্বের দেশগুলি দেওয়া হয়েছিল পর্তুগালকে।

১৯ ২৯

ষোড়শ শতাব্দী জুড়ে পোপের সেই নথি ব্যবহার করে স্পেন এবং পর্তুগাল দাবি করেছিল, পোপ তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রের মধ্যে অভিযান, বাণিজ্য এবং অ-খ্রিস্টীয় ভূমি দখলের একচেটিয়া অধিকার দিয়েছে। কিন্তু ফ্রান্স, ইংল্যান্ড এবং সাবেক হল্যান্ড শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা এই দাবির বিরোধিতা করে। তাদের যুক্তি ছিল দখল করা আবিষ্কারের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২০ ২৯

ফরাসি রাজা কানাডায় উপনিবেশ স্থাপনের ন্যায্যতা প্রমাণ করার জন্য যুক্তি দিয়ে জানিয়েছিলেন, নতুন একটি ভূখণ্ড কেবল চোখ দিয়ে দেখা এবং সেটা আবিষ্কার করার অর্থ মালিকানা নয়। মালিকানার জন্য ভূখণ্ড দখল করা প্রয়োজনীয়। ১৭৯২ সালে আমেরিকার স্বাধীনতার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মার্কিন বিদেশমন্ত্রী টমাস জেফারসনও দাবি করেছিলেন, ইউরোপীয় দেশগুলির তৈরি আবিষ্কার এবং মালিকানা দাবির নীতি আমেরিকার নতুন সরকারের জন্য প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক আইন।

২১ ২৯

১৮২৩ সালে আমেরিকার শীর্ষ আদালত ‘জনসন বনাম ম্যাকিনটোশ’ মামলায় তার রায় জারি করে। রায়ে বলা হয়েছিল আবিষ্কারের নীতি বা ‘দ্য ডকট্রিন অফ ডিসকভারি’ ইউরোপীয় এবং ইংরেজ আইনের একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি ছিল, যা ব্রিটেনের উত্তর আমেরিকান উপনিবেশগুলিতে কার্যকর ছিল এবং এটি আমেরিকারও আইন। আবিষ্কারের মাধ্যমে একটি ইউরোপীয় দেশ যে একচেটিয়া সম্পত্তির অধিকার অর্জন করে তা সংজ্ঞায়িতও করে মার্কিন আদালত। তার অর্থ ছিল, ইউরোপীয় এবং ইউরো-আমেরিকান ‘আবিষ্কারক’ দেশ কেবল একটি পতাকা লাগানোর মাধ্যমে আদিবাসীদের ভূমিতে প্রকৃত সম্পত্তির অধিকার অর্জন করতে পারত।

২২ ২৯

যে দেশ সেই ভূখণ্ড আবিষ্কার করেছিল তাদের স্থানীয়দের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ এবং সেখানে বসতি স্থাপনেরও অধিকার ছিল। প্রকৃত অর্থে আদিবাসীদের অধিকার উপেক্ষা এবং ক্ষুণ্ণ করা হয়েছিল। আমেরিকার আদালতের সেই রায় আজও আমেরিকার আইন এবং বিশ্ব জুড়ে অন্যান্য বসতি স্থাপনকারী ঔপনিবেশিক দেশগুলির আইনশাস্ত্র এবং ইতিহাসকেও প্রভাবিত করেছে।

২৩ ২৯

পরবর্তী কালে অ্যান্ড্রু জ্যাকসন প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ‘ইন্ডিয়ান রিমুভাল অ্যাক্ট’ পাশ করা হয় আমেরিকায়। সেই আইনের অধীনে মিসিসিপি নদীর পূর্ব দিকের আদিবাসী জাতিগুলিকে জোরপূর্বক স্থানান্তরিত করা হয়, যা পরে ওকলাহোমার অংশ হয়ে ওঠে।

২৪ ২৯

পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপুঞ্জ ‘দ্য ডকট্রিন অফ ডিসকভারি’কে সমস্ত আদিবাসী উচ্ছেদের চালিকাশক্তি হিসাবে বর্ণনা করেছিল। ২০১২ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার এবং আদিবাসী অধিকার আইনজীবী মোয়ানা জ্যাকসন বলেছিলেন, ‘‘যদিও ডকট্রিন অফ ডিসকভারি সর্বদা আদিবাসীদের ভূমি দাবি করার কর্তৃত্ব হিসাবে প্রথম দফায় প্রচারিত হয়েছিল, তবুও এই মতবাদে আরও বিস্তৃত ধারণা অন্তর্নিহিত ছিল।’’ মোয়ানা এ-ও মন্তব্য করেন, নীতিটি ‘গণহত্যার এক ধরনের আইনি জাদু’, যা পতাকা উত্তোলন বা ঘোষণার মাধ্যমে দাবি করতে পারে যে এখন থেকে একটি ভূখণ্ড অন্য কারও এবং সেই ভূখণ্ডে আগে থেকে বসবাসকারী মানুষেরা উপনিবেশ স্থাপনকারীদের অধীনস্থ।

২৫ ২৯

পোপের ডিক্রি ব্যবহারের প্রায় ৫০০ বছর পর ২০২৩ সালে ভ্যাটিকানও সেই ডিক্রিগুলি প্রত্যাখ্যান করে বলেছিল, আদিবাসীদের সংস্কৃতি এবং জীবিকা নির্মূল করার ন্যায্যতা প্রমাণ করার জন্য ব্যবহৃত ‘দ্য ডকট্রিন অফ ডিসকভারি’ ক্যাথলিক বিশ্বাসের অংশ নয়।

২৬ ২৯

এখন প্রশ্ন, গ্রিনল্যান্ড আবহে ট্রাম্প কি ‘দ্য ডকট্রিন অফ ডিসকভারি’কে বেছে বেছে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন? শুধুমাত্র গ্রিনল্যান্ডের উপর ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই কেন এর বিরোধিতা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট? আমেরিকা যে সব ভূখণ্ডে উপনিবেশ তৈরি করেছিল সেগুলি নিয়েও তো তা হলে কথা তোলা উচিত।

২৭ ২৯

তবে মজার বিষয় হল, ট্রাম্প সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডের উপর ডেনমার্কের দাবির প্রেক্ষাপটে ‘ডকট্রিন অফ ডিসকভারি’র ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় নিজেই তাঁর নিজস্ব সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি ছবি পোস্ট করেছেন। সেখানে তাঁকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে এবং মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োকে গ্রিনল্যান্ড দ্বীপে একটি আমেরিকার পতাকা ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। পাশে একটি সাইনবোর্ডে লেখা, ‘গ্রিনল্যান্ড— মার্কিন অঞ্চল, ২০২৬’।

২৮ ২৯

গানবোট কূটনীতি যখন তুঙ্গে, ছবিটি সেই যুগের স্মৃতিচারণ করে। যেখানে কেবল একটি নতুন ভূখণ্ডে পতাকা লাগিয়ে এবং একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলি হাজার হাজার বছর ধরে সেই ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষের অধিকারকে অগ্রাহ্য করে সেই ভূখণ্ড নিজেদের দাবি করত।

২৯ ২৯

তবে গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি। ভাইকিংরা প্রথম গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছেছিল ৯৮২ খ্রিস্টাব্দে, এক হাজার বছরেরও বেশি আগে। তবে তারা কেবল গ্রিনল্যান্ড আবিষ্কারই করেনি। সেখানে বসতি এবং উপনিবেশ স্থাপনও করেছিল। তবে গ্রিনল্যান্ড প্রকৃত অর্থেই ‘টেরা নুলিয়াস’ ছিল। সেখানে কোনও মানুষ বসবাস করতেন না। গ্রিনল্যান্ডে বসতি স্থাপনের সময় কোনও আদিবাসীকেও উচ্ছেদ করা হয়নি। ১,০০০ বছরেরও বেশি ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও, ট্রাম্পের পোস্ট করা ছবিটি ইঙ্গিত দেয় যে তিনি কেবল মার্কিন পতাকা উত্তোলন করে সেই দ্বীপে ইতিমধ্যেই বসবাসকারী মানুষের অধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তবে প্রকৃত ভূখণ্ডে নয়, সমাজমাধ্যমে।

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement