Bypass Route of China

জাহাজ ছেড়ে পণ্যবোঝাই রেল-ট্রাকে ভরসা, হরমুজ় ও মলাক্কাকে ‘কাঁচকলা’ দেখিয়ে ‘রংরুটে’ ব্যবসা বাড়াচ্ছে ড্রাগন!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজ়রায়েলের সঙ্গে লড়াইয়ে হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করে ইরান। অন্য দিকে মলাক্কা প্রণালীতে নজরদারি বাড়াচ্ছে আমেরিকা। এই পরিস্থিতিতে ‘বাইপাস’ হিসাবে কোন রাস্তাকে আঁকড়ে ধরছে চিন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৫৮
Share:
০১ ১৮

এক দিকে হরমুজ়। অন্য দিকে মলাক্কা। অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে বন্ধ হওয়ার মুখে দুই সঙ্কীর্ণ সামুদ্রিক রাস্তা। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের (পিপল্‌স রিপাবলিক অফ চায়না) যে রক্তচাপ বাড়ছে, তা বলাই বাহুল্য। এ-হেন দমবন্ধকর পরিস্থিতিতে অবশ্য একেবারেই হাত-পা গুটিয়ে বসে নেই বেজিং। সমুদ্রকে এড়িয়ে দিব্যি সড়ক এবং রেলপথের ‘বাইপাস’ খুঁজে বার করেছে মান্দারিনভাষী সরকার, বর্তমানে যাকে ড্রাগনের ‘লাইফলাইন’ বললেও অত্যুক্তি হবে না।

০২ ১৮

চিনের আন্তর্জাতিক ব্যবসার একটা বড় অংশ জুড়ে আছে মধ্য এশিয়া। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের আগে পর্যন্ত এখানকার পাঁচটি দেশ, কাজ়াখস্তান, কিরগিজ়স্তান, তাজ়িকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং উজ়বেকিস্তান ছিল ওই কমিউনিস্ট ব্লকেরই অংশ। বর্তমানে এরাই হয়ে উঠেছে বেজিঙের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের অন্যতম বড় অংশীদার, যাদের সঙ্গে পণ্য লেনদেনের সিংহভাগ রেল এবং সড়কপথে করছে ড্রাগন সরকার।

Advertisement
০৩ ১৮

বছর কয়েক আগে কাজ়াখস্তান বা উজ়বেকিস্তানের মতো দেশগুলিতে প্রথম বার বিভিন্ন ধরনের পণ্য ট্রাকে এবং মালগাড়িতে পাঠানো শুরু করে চিন। ওই সময় এর পরিমাণ ছিল ২০ শতাংশ। বর্তমানে সেটাই বেড়ে ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এর জেরেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবৃদ্ধিতে মধ্য এশিয়ার ‘মাঝখানের বারান্দা’কে (পড়ুন মিডল করিডর) পাখির চোখ করেছে বেজিং। হরমুজ় ও মলাক্কা প্রণালীর ‘বাইপাস’ হিসাবে সংশ্লিষ্ট রাস্তাটির কথা উঠে আসছে বলেও মনে করছেন তাঁরা।

০৪ ১৮

মধ্য এশিয়ার ‘মিডল করিডর’-এর পোশাকি নাম হল ‘ট্রান্স-কাস্পিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট রুট’ বা টিআইটিআর। চিন থেকে শুরু হয়ে কাজ়াখস্তান হয়ে কাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত চলে গিয়েছে এই রাস্তা। তার পর বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদটি অতিক্রম করে ককেশাস এলাকায় পা রেখেছে ওই ‘বাইপাস’ রুট। দ্বিতীয় পর্যায়ে আজ়ারবাইজান, জর্জিয়া এবং তুরস্ক হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে টিআইটিআর। ২০১৭ সালে এটি চালু হলেও রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে পর্যন্ত এর গুরুত্ব সে ভাবে বোঝা যায়নি।

০৫ ১৮

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কোর ফৌজ কিভ আক্রমণ করলে পূর্ব ইউরোপে বেধে যায় সংঘাত। ফলে পরবর্তী বছরগুলিতে রাশিয়া এবং ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য করা চিনের জন্য বেশ কঠিন হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে পণ্য লেনদেনে ‘ট্রান্স-কাস্পিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট রুট’কেই আঁকড়ে ধরে বেজিং। ফলে ইউরোপের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায় ড্রাগনের, যাতে বাণিজ্যিক এবং কৌশলগত দু’দিক থেকেই লাভবান হয়েছেন মান্দারিনভাষীরা।

০৬ ১৮

মধ্য এশিয়ার ‘মাঝখানের বারান্দা’র একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ‘বাকু-তিবলিসি-কার্স’ রেলওয়ে নেটওয়ার্ক। আজ়ারবাইজান, জর্জিয়া হয়ে এটি চলে গিয়েছে তুরস্কে। গোড়ার দিকে এই রেলপথে ১০ লক্ষ টন পণ্য এশিয়া মাইনর এবং ইউরোপে পাঠাত চিন। পশ্চিমি গণমাধ্যমগুলির দাবি, সেটাই বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ লক্ষ টন। শুধু তা-ই নয়, ২০৩৪ সালের মধ্যে এই অঙ্ককে ১.৭ কোটি টনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বেজিঙের।

০৭ ১৮

মধ্য এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে কাজ়াখস্তানে সর্বাধিক লগ্নি রয়েছে চিনের। গত বছর (২০২৫ সাল) আস্তানার সঙ্গে বেজিঙের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪,৮৭০ কোটি ডলার। এককালে সোভিয়েতের অন্তর্গত কাজ়াখস্তানকে গুরুত্ব দেওয়ার নেপথ্যে ড্রাগনের একাধিক স্বার্থ রয়েছে। মধ্য এশিয়ার এই দেশটিতে রয়েছে বিপুল পরিমাণ খনিজ তেল এবং বিশ্বের ৪০ শতাংশ ইউরেনিয়াম। আর্থিক এবং সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে তা হাতে পেতে একরকম মরিয়া হয়ে উঠেছে মান্দারিনভাষীরা।

০৮ ১৮

এ-হেন কাজ়াখস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা ড্রাগনের পক্ষে বেশ সহজ। কারণ, সংশ্লিষ্ট দেশটি বেজিঙের প্রতিবেশী। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সড়ক ও রেলপথে মধ্য এশিয়ার পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়াকে জুড়ে নেওয়ার ছক রয়েছে চিনের। এর জন্য দীর্ঘ দিন ধরেই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ বা ‘বিআরআই’ প্রকল্পে জলের মতো টাকা খরচ করে চলেছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এর মাধ্যমেও ‘বাইপাস’ রাস্তা খুঁজে বার করার চেষ্টা রয়েছে তাঁর।

০৯ ১৮

কাজ়াখস্তানকে বাদ দিলে জ্বালানি সঙ্কট মেটাতে রাশিয়ার সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ বাড়ানোর রাস্তায় হাঁটছে চিন। ২০১৯ সালে বেজিঙের জন্য ‘পাওয়ার অফ সাইবেরিয়া’ পাইপলাইন চালু করে মস্কো। গত বছর (২০২৫ সাল) এর মাধ্যমে ৩,৮৮০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস পেয়েছে ড্রাগন। এ ছাড়া তুর্কমেনিস্তান, উজ়বেকিস্তান এবং কাজ়াখস্তানের মধ্যে দিয়ে মধ্য এশিয়া পাইপলাইন নেটওয়ার্কটিও মান্দারিনভাষীদের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

১০ ১৮

চিন সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে সংশ্লিষ্ট পাইপলাইনটি ৫০ হাজার কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করে চলেছে। মধ্য এশিয়া পাইপলাইন শুরুর সময় এর মাধ্যমে বছরে ৬০০০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস পেত বেজিং। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আবার জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে পরিবেশবান্ধব শক্তিখাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে ড্রাগন। ২০২৪ সালে এতে ৬২,৫০০ কোটি ডলার লগ্নি করে চিনের প্রশাসন, ২০১৫ সালের তুলনায় যা দ্বিগুণ।

১১ ১৮

বিকল্প রাস্তা থেকে জ্বালানির উৎস, ‘রংরুটে’ ড্রাগনের উৎসাহ বৃদ্ধির নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজ়রায়েল একযোগে ইরান আক্রমণ করলে পশ্চিম এশিয়ায় বেধে যায় যুদ্ধ। পাল্টা প্রত্যাঘাতে নেমে তড়িঘড়ি হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে তেহরান। ফলে বিশ্ব জুড়ে তৈরি হয় জ্বালানিসঙ্কট। আন্তর্জাতিক বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে অপরিশোধিত খনিজ তেলের দাম।

১২ ১৮

ইরান সংলগ্ন পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের মধ্যবর্তী হরমুজ় প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। ১৬৭ কিলোমিটার লম্বা এবং ৩৩ কিলোমিটার চওড়া এই সঙ্কীর্ণ সামুদ্রিক রাস্তাতেই বিশ্বের ২০ শতাংশ খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করে থাকে পশ্চিম এশিয়ার প্রায় প্রতিটি আরব রাষ্ট্র। সংঘর্ষের গোড়াতেই তেহরান সেটি অবরুদ্ধ করায় বেজায় বিপাকে পড়ে ওয়াশিংটন ও তেল আভিভ। জোড়া ‘সুপার পাওয়ার’-এর উপর বাড়তে থাকে আন্তর্জাতিক চাপ।

১৩ ১৮

ইরানের লড়াই থেকে শিক্ষা নিয়ে মলাক্কা প্রণালীর দিকে নজর দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই লক্ষ্যে গত ১৩ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে একটি সামরিক সমঝোতা করে আমেরিকা। এর পোশাকি নাম ‘বৃহৎ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অংশীদারি’ চুক্তি। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এর জেরে মলাক্কা প্রণালীতে বাড়তি নজরদারির অধিকার পাবে যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজ। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরের এই সঙ্কীর্ণ জলপথটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পণ্য চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রাস্তা।

১৪ ১৮

সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মলাক্কা প্রণালীতে নজরদারির জন্য ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় অবাধ প্রবেশাধিকার চেয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এ ব্যাপারে এখনও সবুজ সঙ্কেত দেয়নি জাকার্তা। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে দু’তরফে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে দ্বীপরাষ্ট্র। অন্য দিকে, যৌথ বিবৃতিতে চুক্তিবদ্ধ দু’টি দেশ জানিয়েছে, তিনটি স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে ‘বৃহৎ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অংশীদারি’ সমঝোতা হয়েছে। সেগুলি হল, সামরিক আধুনিকীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত দক্ষতা ও অভিযানে সহযোগিতা।

১৫ ১৮

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মলাক্কা প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ চাওয়ার নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, অবস্থানগত দিক থেকে সঙ্কীর্ণ জলপথটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। এর উত্তরে আছে মালয় উপদ্বীপ। দক্ষিণে সাবেক সুমাত্রা বা ইন্দোনেশিয়া। এই দু’য়ের মাঝ দিয়ে চলা সরু একফালি সামুদ্রিক রাস্তাটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ত পথ হিসাবে পরিচিত। বিশ্ব অর্থনীতির এক-চতুর্থাংশ পণ্যের আমদানি-রফতানি হয় এই রাস্তায়।

১৬ ১৮

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, আন্দামান সাগর এবং দক্ষিণ চিন সাগরকে সংযুক্ত করেছে মলাক্কা প্রণালী। গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের (পিপ্‌লস রিপাবলিক অফ চায়না) জন্য এই রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মলাক্কা দিয়েই বিশ্বের ৩৫ শতাংশ খনিজ তেল সরবরাহ হয়ে থাকে। ফলে সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক রুটে সিংহভাগ জ্বালানি এবং অন্যান্য পণ্য ঘরের মাটিতে আনছে বেজিং। ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও সংশ্লিষ্ট প্রণালীর কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ার হাতে।

১৭ ১৮

ইরান যুদ্ধ চলাকালীন হরমুজ় বন্ধ থাকলেও চিনের তেমন সমস্যা হয়নি। কারণ, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে জ্বালানি সংগ্রহে বেজিঙের জাহাজকে আটকানো হবে না বলে জানিয়ে দেয় তেহরান। কিন্তু, তার পরেও স্বস্তি পায়নি ড্রাগন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজ়রায়েলের উপর চাপ বাড়াতে মাঝেমধ্যেই জ্বালানি ট্যাঙ্কারে সাবেক পারস্যের শিয়া ফৌজের ছোড়া ড্রোন আছড়ে পড়তে দেখা গিয়েছে। আগামী দিনে আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত বাড়লে ওয়াশিংটন যে মলাক্কা বন্ধ করতে পারে, সেই আশঙ্কাও রয়েছে তাদের।

১৮ ১৮

বিশ্লেষকদের একাংশের অবশ্য দাবি, বিকল্প রাস্তার খোঁজ পেলেও সেটা ড্রাগনের জন্য কোনও দুর্দান্ত সমাধান নয়। গোড়া থেকেই ‘ট্রান্স-কাস্পিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট রুট’-এর নিয়ন্ত্রণ কিছুটা হাতে রেখেছে রাশিয়া। কাস্পিয়ান সাগরের উপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ রয়েছে মস্কোর নৌবাহিনীর। তা ছাড়া তুরস্ক এবং আজ়ারবাইজানের মতো দেশগুলির সঙ্গে আর্মেনিয়ার সম্পর্ক ‘সাপে-নেউলে’। ফলে ওই এলাকায় যুদ্ধের আঁচ যে পৌঁছোবে না, তা বলা বেশ দুষ্কর।

ছবি: সংগৃহীত, প্রতীকী ও এআই সহায়তায় প্রণীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement