Delhi Medical Scam

আড়াই টাকার ওআরএস ১৫ টাকায়, তালিকায় বিছানার চাদরও! রাজধানীর স্বাস্থ্য দফতরের ঘুঘুর বাসা ভাঙতেই ফাঁস ৭০০ কোটির জালিয়াতি

দিল্লির স্বাস্থ্য দফতরে ৭০০ কোটির প্রতারণা ফাঁস করেছে ভিজিল্যান্স ও দুর্নীতি দমন শাখা। গ্রেফতার হয়েছেন তিন শীর্ষ আধিকারিক। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ১১:৫২
Share:
০১ ১৫

স্বাস্থ্য দফতরে কেঁচে খুঁড়তে বেরিয়ে পড়ল কেউটে! ৬৫০-৭০০ কোটি টাকা কারচুপিকাণ্ডে গ্রেফতার হলেন চিকিৎসক-অধিকর্তা। তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট (ওআরএস) থেকে শুরু করে বিছানার চাদর বা পোর্টেবল এক্সরে মেশিনের মতো হাসপাতালে ব্যবহৃত নিত্যদিনের বহু সরঞ্জামের বরাতে তহবিল তছরুপের অভিযোগ। যদিও এই ঘটনাকে ‘হিমশৈলের চূড়া’ হিসাবে দেখছেন তদন্তকারীদের একাংশ।

০২ ১৫

সম্প্রতি দিল্লি স্বাস্থ্য দফতরের জালিয়াতির পর্দাফাঁস হতেই দেশ জুড়ে পড়ে যায় শোরগোল। তদন্তকারীদের দাবি, সরকারি হাসপাতালের জন্য আড়াই টাকার ওআরএস ১৫ টাকায় কিনেছে ওই প্রতারক চক্র। একই ভাবে ১৫০ টাকার বিছানার চাদর ৪৫০ টাকায় বা ১০ লাখি পোর্টেবল এক্সরে মেশিনের জন্য ৩৩ লক্ষ টাকার বিল করে তারা। বিষয়টি নজরে আসতেই মোট তিন জনকে গ্রেফতার করে দিল্লির দুর্নীতি দমন শাখা।

Advertisement
০৩ ১৫

ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্য দফতরের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট এজেন্সির (সিপিএ) প্রাক্তন প্রধান (হেড অফ অফিস) ডি বিনোদকুমার রাঙ্গা, স্বাস্থ্য পরিষেবা বিভাগের সাবেক ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজিএইচএস) চিকিৎসক বৎসলা অগ্রবাল এবং সিপিএ ডিজিএইচএসের ডেপুটি কন্ট্রোলার অফ অ্যাকাউন্টস (ডিসিএ) নীরজ চোপড়া। তাঁদের বিরুদ্ধে ১৯৮৮ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় দায়ের হয়েছে মামলা।

০৪ ১৫

এ বছরের মে মাসে সরকারি হাসপাতালে ব্যবহৃত চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে কারচুপির বিষয়টি ভিজিল্যান্সের কর্তা-ব্যক্তিদের নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক কার্যালয়ে অভিযান শুরু করেন তাঁরা। তখনই বেশ কিছু ফাইলে সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়টি নজরে আসে তাঁদের। সূত্রের খবর, এই নিয়ে ডিজিএইচএস চিকিৎসক অগ্রবালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। ফলে গাঢ় হয় সন্দেহ।

০৫ ১৫

ভিজিল্যান্স সূত্রে খবর, সরকারি হাসপাতালের ওষুধ কেনা সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করতে প্রথমে চিকিৎসক অগ্রবালের দফতরে যাওয়া হয়। সেখানে ফাইলের অসঙ্গতির বিষয়গুলি বিনোদ রাঙ্গা জানেন বলে উল্লেখ করেন বৎসলা। শুধু তা-ই নয়, উপযাচক হয়ে নিজেই তাঁকে ফোন করেন ডিজিএইচএস। রাঙ্গাকে শাকারপুরের দফতরে অপেক্ষা করতে বলা হয়। যদিও সেখানে পৌঁছে সিপিএ-র প্রাক্তন প্রধানকে পাননি ভিজিল্যান্স অফিসারেরা।

০৬ ১৫

সূত্রের খবর, রাঙ্গার দফতর থেকে উদ্ধার হয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি। এর মধ্যে হাতে লেখা একটি তালিকাও ছিল। সেগুলি পরীক্ষা করে ভিজিল্যান্স অফিসারেরা বুঝতে পারেন, সরকারি হাসপাতালের ওআরএস, বিছানার চাদর, পোর্টেবল এক্সরে মেশিনের পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম এবং সি-আর্মের মতো জিনিসগুলি অনেক বেশি দামে কেনা হয়েছে, যা বৎসলা এবং রাঙ্গার অনুমতি ছাড়া করা অসম্ভব।

০৭ ১৫

এর পরই প্রতারণাচক্রের পর্দাফাঁস করতে যাবতীয় নথি দিল্লির দুর্নীতি দমন শাখার হাতে তুলে দেয় ভিজিল্যান্স। দায়ের হয় এফআইআর। সেখানে বলা হয়েছে, ‘‘সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার বরাতে কারচুপি করেছে ওই প্রতারণা চক্র। একটা সিন্ডিকেট তৈরি করে বিপুল অর্থে ওআরএস, বিছানার চাদর, পোর্টেবল এক্সরে মেশিন বা অস্ত্রোপচারের সরঞ্জামের কিনেছে তারা। যোগ্য সংস্থার বাইরে গিয়েও কাউকে বরাত দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

০৮ ১৫

সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছে দিল্লির দুর্নীতি দমন শাখা। তাঁদের দাবি, সরকারি হাসপাতালের বরাতে কারচুপি করতে অভিযুক্তরা ভুয়ো সংস্থা তৈরি করেন। বিষয়টিকে স্বচ্ছ রাখতে তারা ওআরএস-সহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করছে বলে ফাইলে লেখা হয়। এ ভাবেই একটা সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন রাঙ্গা এবং বৎসলারা। ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে টাকা কোথায় কী ভাবে পাচার হয়েছে, সেটাও এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

০৯ ১৫

প্রাথমিক তদন্তে দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকদের অনুমান, এই জালিয়াতিতে জড়িত থাকতে পারে কোনও বেসরকারি সংস্থাও। উদ্ধার হওয়া নথিতে সেই প্রমাণ মিললে তাদেরও তলব করা হবে। আর তাই নথির পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য জোগাড়ে জোর দিচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের আতশকাচের তলায় রয়েছেন স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক কর্মী ও আধিকারিক।

১০ ১৫

পাশাপাশি একজন দালালের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে দিল্লির দুর্নীতি দমন শাখা। তিনি সরকারি আধিকারিক ও বেসরকারি সরবরাহকারীদের মধ্যে সেতুবন্ধের কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর নামে বেশ কয়েকটা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেগুলি আসল না নকল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছোয়নি তদন্তকারী দল।

১১ ১৫

সূত্রের খবর, বরাত অনুযায়ী দিল্লির হাসপাতালগুলিকে যে সমস্ত সংস্থা চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে, তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর শুরু করেছে দুর্নীতি দমন শাখা। আর তাই রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজ়ের থেকে নথি সংগ্রহ করছেন তাঁরা। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য দফতরের আর্থিক নথি, চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটার ফাইল এবং অর্থ প্রদানের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

১২ ১৫

তদন্তকারীদের দাবি, নথি ঘেঁটে জানা গিয়েছে, বিছানার চাদরের জন্য ২৫ কোটি টাকা খরচ করলেই হত। সেটাই ৭৫ কোটি টাকায় কেনা হয়েছে। এ ছাড়া ৫০ হাজার প্যাকেট ওআরএসের বরাত দেন রাঙ্গা ও বৎসলা। সেগুলি আদৌ হাসপাতালগুলিতে পৌঁছেছে কিনা, সেই খবরও নিচ্ছে দুর্নীতি দমন শাখা।

১৩ ১৫

তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর আদালতে তোলে দুর্নীতি দমন শাখা। সেখানে অবশ্য জামিন পাননি তাঁরা। ৭ জুলাই পর্যন্ত তাঁদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। ফলে আপাতত বিচারাধীন বন্দি হিসাবে জেলে থাকতে হবে ওই অভিযুক্তদের।

১৪ ১৫

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই লাগতে শুরু করেছে রাজনীতির রং। স্বাস্থ্য দফতরের দুর্নীতির জন্য দিল্লির বিজেপি সরকারকে দুষেছে আম আদমি পার্টি বা আপ। তাদের অভিযোগ, আসল অপরাধীদের আড়াল করছে পদ্ম শিবির। স্বাস্থ্য দফতরের সিন্ডিকেট চক্রে জড়িত আছে তাদেরই তৈরি ভুয়ো সংস্থা।

১৫ ১৫

যদিও আপের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। বিজেপির তরফে বলা হয়েছে, আম আদমি পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। দলের সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরীবালকে জেল খাটতে হয়েছে। আর তাই ক্ষমতা হারিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে তারা। অভিযুক্তদের কাউকে রেয়াত করবে না প্রশাসন।

ছবি: সংগৃহীত ও প্রতীকী।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement