তিন বছর পর পঞ্চাশের কোঠায় পৌঁছে যাবেন বলি নায়িকার বোন। তবুও তিনি অবিবাহিতা! তা নিয়ে নিন্দকমহলে কটাক্ষ শুরু হলে কড়া ভাবে জবাব দিয়ে দিয়েছেন শিল্পা শেট্টির বোন শমিতা শেট্টি। তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকের তালিকা দীর্ঘ। ৪৭ বছর বয়সে পৌঁছে জীবনসঙ্গীহীন তিনি। শমিতার দাবি, ‘সিঙ্গল’ জীবন সুখে-শান্তিতেই কাটাচ্ছেন। যদিও সম্পর্ক-সংসার নিয়ে অন্তরে যেন নেতিবাচক ধারণাই পোষণ করেন তিনি। তার নেপথ্যেও নাকি দায়ী শমিতার প্রাক্তন প্রেমিকেরাই!
শমিতা তখনও কিশোরী। কিশোরী জীবনের প্রথম প্রেম। সেই প্রেমেই তীব্র আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। ২০২১ সালে ‘বিগ বস্ ওটিটি’ রিয়্যালিটি শোয়ে প্রতিযোগী হিসাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন শমিতা। সেখানেই প্রথম প্রেমিকের প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। শমিতা জানিয়েছিলেন, গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রথম প্রেমিককে হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। সেই ঘটনার পর বহু দিন নিজেকে সম্পর্ক থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভালবাসার প্রতি আবার তাঁর বিশ্বাস জন্মেছিল।
২০০০ সালে আদিত্য চোপড়ার পরিচালনায় ‘মহব্বতেঁ’ ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, ঐশ্বর্যা রাই বচ্চনের মতো তারকাদের হাত ধরে বলিপাড়ায় পা রেখেছিল একঝাঁক নতুন মুখ। তার মধ্যে ছিলেন শিল্পার বোন শমিতাও। ছবিতে শমিতার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন আদিত্যের ভাই এবং যশ চোপড়ার ছোট ছেলে উদয় চোপড়া। কানাঘুষো শোনা যায়, উদয়ের সঙ্গে দীর্ঘ দিন সম্পর্কে ছিলেন শমিতা।
বলিপাড়া সূত্রে খবর, পেশাগত কারণে শমিতা এবং উদয়ের পরিবারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তাও গড়ে উঠেছিল। পরে জুটি বেঁধে অভিনয়ের সূত্রে দুই তারকার মধ্যে বন্ধুত্ব আরও গাঢ় হয়ে উঠেছিল। তবে সেই সম্পর্ক নাকি দু’বছরও টেকেনি। ইন্ডাস্ট্রির দুই নবাগত তারকার সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জনও কয়েক মাস পর বাতাসে মিলিয়ে গিয়েছিল।
২০০৩ সালে রামগোপাল বর্মার পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘ডরনা মনা হ্যায়’। এই ছবিতে শমিতার দিদি শিল্পার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন বলি অভিনেতা আফতাব শিবদাসানি। বলিপাড়ার জনশ্রুতি, আফতাব এবং শমিতা সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বটে। কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিংহের সঙ্গেও নাম জড়িয়ে পড়েছিল শমিতার। ২০১১ সালে যুবরাজের ২৯তম জন্মদিনের পার্টিতে শমিতা উপস্থিত ছিলেন। সেই পার্টিতে তাঁদের দু’জনকে বেশ হাসিখুশি মেজাজে একসঙ্গে সময় কাটাতে দেখা গিয়েছিল। সেখান থেকেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই কথা কানে গেলে শমিতা খুবই বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। যুবরাজের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছাড়া যে অন্য কোনও রকম সম্পর্ক নেই, তা-ও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
২০১২ সাল নাগাদ বলিপাড়ায় কান পাতলে শোনা যেত, বলি অভিনেতা হরমন বাওয়েজার সঙ্গে প্রেম করছেন শমিতা। শেট্টি পরিবারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও একসঙ্গে দেখা যেত দু’জনকে। বলিউডের একাংশের দাবি, শিল্পার স্বামী রাজ কুন্দ্রার ভাল বন্ধু হরমন। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও হরমনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন শিল্পা এবং রাজ। সেই সূত্রেই শমিতার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল হরমনের।
পুরনো সম্পর্ক নিয়ে শমিতা ‘বিগ বস্ ওটিটি’-তে থাকাকালীন বলেছিলেন, ‘‘আমি আজ পর্যন্ত যতগুলো সম্পর্কে জড়িয়েছি, একটিও ভাল ছিল না। কোনও পুরুষই আমায় নিজের সম্পর্কে ভাল অনুভব করায়নি। তার পর থেকে আমি আত্মরক্ষার জন্য নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি।’’ পরে সেই শোয়ের এক প্রতিযোগীর সঙ্গেই সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন শমিতা।
‘বিগ বস্ ওটিটি’ শোয়ে ঘরবন্দি জীবন কাটানোর সময় রাকেশ বাপাতের সঙ্গে বন্ধুত্ব গভীর হয়েছিল শমিতার। পরে তাঁরা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। শো শেষ হয়ে যাওয়ার পরে তাঁরা প্রকাশ্যে নিজেদের সম্পর্কের কথা ঘোষণা করেছিলেন। পারিবারিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা যেত শমিতা এবং রাকেশকে। দুই পরিবারের মধ্যেও সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। নিজেদের সম্পর্ক উদ্যাপন করতে একটি মিউজ়িক ভিডিয়োয় একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তাঁরা।
এক বছর ডেট করার পর রাকেশ এবং শমিতার সম্পর্কে ভাঙন ধরে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে দু’জনেই তাঁদের বিচ্ছেদের কথা জানিয়েছিলেন। পরে এক সাক্ষাৎকারে শমিতা জানিয়েছিলেন, জীবনদর্শনের পাশাপাশি অনেক কিছু নিয়েই তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা ছিল। কোনও তিক্ততা না রেখে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা।
২০২৩ সালে অভিনেতা আমির আলির সঙ্গেও শমিতার সম্পর্ক নিয়ে জলঘোলা হয়েছিল। এক পার্টি থেকে শমিতার কোমরে হাত রেখে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছিল আমিরকে। পরে শমিতাকে গাড়িতে ওঠানোর সময় তাঁর গালে চুমু খেয়েছিলেন আমির। পুরো ঘটনাটিই ছবিশিকারিদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। তার পর থেকেই শুরু হয় কানাঘুষো। অবশ্য শমিতা এবং আমির দু’জনেই এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।
সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে শমিতা লিখেছিলেন, ‘‘বাস্তবতাবর্জিত এই সমাজের কথাবার্তায় আমি সত্যিই স্তব্ধ! কোনও রকম সত্যতা যাচাই না করেই সকলে যে ভাবে মন্তব্য করতে শুরু করেন, তা মেনে নেওয়া যায় না। একজন সিঙ্গল এবং স্বাধীন নারী যদি তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা করেন, তবে কেন প্রতি বার তাঁর নাম সেই পুরুষের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়? কেন আমরা সঙ্কীর্ণ মানসিকতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারছি না?’’ অন্য দিকে আমির একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে বলেছিলেন, ‘‘একজন ভাল বন্ধু হিসাবে শমিতাকে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিতে গিয়েছিলাম। তা ছাড়া আমার মা শিখিয়েছেন, কোনও মহিলাকে সব সময় তাঁর গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিতে। আমি সেটাই করেছি। তার বেশি কিছু নয়। শমিতা আমার খুব ভাল বন্ধু। বর্তমানে সম্পূর্ণ সিঙ্গল ও সুখী রয়েছে সে।’’
৪৭ বছর বয়সেও কেন বিয়ে হয়নি তা নিয়ে সম্প্রতি কটাক্ষের শিকার হয়েছেন শমিতা। নিন্দকদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জীবনে কোনও কিছুই স্থায়ী নয়। এই বয়সে এসেও শমিতা যে সুস্থ-সবল এবং সুখী রয়েছেন, তা-ই যথেষ্ট। তার বেশি জীবনে আর কিছু চান না অভিনেত্রী।