India-GCC Trade Deal

আরব দুনিয়ায় ‘ভারতীয় বসন্ত’! বাজার ধরতে ধনকুবেরদের উপসাগরে মেগা বাণিজ্যচুক্তির ছক্কা হাঁকাবে নয়াদিল্লি?

পশ্চিম এশিয়ার উপসাগরীয় ছ’টি আরব দেশের সঙ্গে মেগা বাণিজ্যচুক্তি সেরে ফেলতে গাল্‌ফ কো-অপারেশন কাউন্সিল বা জিসিসির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে নয়াদিল্লি। এই আলোচনা সফল হলে তা কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের মাস্টারস্ট্রোক হতে পারে, বলছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫০
Share:
০১ ২০

প্রথমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তার পর আমেরিকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে শুল্ককাঁটা উপড়ে ফেলতে জোড়া বাণিজ্যচুক্তি একরকম নিশ্চিত করেছে কেন্দ্র। এই আবহে আমদানি-রফতানির ঘোড়া ছোটাতে এ বার নয়াদিল্লির নিশানায় পশ্চিম এশিয়ার উপসাগরীয় এলাকা। সূত্রের খবর, একসঙ্গে সেখানকার ছ’টি দেশের সঙ্গে কৌশলগত বাণিজ্যিক সমঝোতা সেরে ফেলার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। একে নরেন্দ্র মোদী সরকারের ‘খেলা ঘোরানো’ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

০২ ২০

গত বছরের (২০২৫) এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘পারস্পরিক শুল্ক’ নীতি (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) চালু করলে উথালপাথাল হয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। তাঁর ওই সিদ্ধান্তের জেরে রাতারাতি আমেরিকায় চড়তে থাকে ভারতীয় পণ্যের দাম। ফলে কিছু দিনের মধ্যেই হ্রাস পায় রফতানি। ওই সময় নয়াদিল্লির কাছে অন্যতম প্রধান কৌশলগত বাজার হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে পশ্চিম এশিয়ার উপসাগরীয় এলাকা। এর জেরে সংশ্লিষ্ট আরব দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে যে মোদী সরকার আগ্রহী হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

Advertisement
০৩ ২০

১৯৮১ সালের মে মাসে পশ্চিম এশিয়ার ছ’টি আরব রাষ্ট্র মিলে গড়ে তোলে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি (গাল্‌ফ কো-অপারেশন কাউন্সিল)। এর সদস্য বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ২০২৫ সালে ট্রাম্প শুল্কবাণ চালালে ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক ‘বন্ধু’ হয়ে ওঠে এই জিসিসি। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আসিয়ান (অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথ-ইস্ট এশিয়ান নেশনস), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমনকি চিনের থেকেও উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে বেশি পরিমাণে আমদানি-রফতানি করছে নয়াদিল্লি।

০৪ ২০

২০২৪-’২৫ আর্থিক বছর থেকে জিসিসি-ভুক্ত দেশগুলির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে থাকে ভারত। ওই অর্থবর্ষে এর পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। পরবর্তী সময়ে আরও ঊর্ধ্বমুখী হয় সেই সূচক। এর নেপথ্যে অবশ্য ২০২২ সালে ভারত ও আমিরশাহির মধ্যে হওয়া ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’কে (সিইপিএ) চিহ্নিত করেছেন আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ। ওই বাণিজ্যিক সমঝোতার জেরে ৮০ শতাংশের বেশি পণ্যের উপর থেকে শুল্ক কমাতে বা মকুব করতে রাজি হয় নয়াদিল্লি ও আবু ধাবি।

০৫ ২০

গত বছরের ডিসেম্বরে আমিরশাহির পাশাপাশি সিইপিএ চুক্তিতে সই করে ওমান। ফলে ভারতীয় পণ্যের জন্য খুলে যায় আর একটি উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রের বাজার। বর্তমানে খনিজ তেল সমৃদ্ধ ওই দুই দেশে রত্ন, ইস্পাত-সহ বিভিন্ন ধরনের ধাতু, বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম এবং রাসায়নিক বিপুল পরিমাণে রফতানি করছে নয়াদিল্লি। অন্য দিকে সেখান থেকে গুজরাত, মহারাষ্ট্র বা কর্নাটকের বন্দরগুলিতে আসছে তরল সোনা, প্রাকৃতিক গ্যাস, সোনার গয়না, মুক্তো, মূল্যবান পাথর, প্লাস্টিকের সামগ্রী ও যন্ত্রাংশ।

০৬ ২০

বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই পরিস্থিতিতে জিসিসির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি বা এফটিএ (ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট) সেরে ফেলে পশ্চিম এশিয়ার বাজার পুরোপুরি ভাবে কব্জা করতে চাইছে ভারত। সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির সদর দফতর রয়েছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধে। সেখানকার যুবরাজ তথা প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ বিন সলমন অল-সৌদের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সম্পর্ক বেশ ভাল। ফলে এ ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রকের সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা যে ষোলো আনা, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

০৭ ২০

বিশ্লেষকদের একাংশ, আমিরশাহি এবং ওমানের সঙ্গে হওয়া সিইপিএ-কে একরকম মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি হিসাবে গণ্য করেছেন। তাঁরা মনে করেন, এর মাধ্যমে আবু ধাবি ও মাস্কাটের সঙ্গে শুল্ক সংক্রান্ত যাবতীয় জটিলতা কাটিয়ে ফেলতে পেরেছে নয়াদিল্লি। এর জেরে লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। ফলে ওই সমঝোতার কাঠামো মেনে জিসিসির সঙ্গে আরও বড় আঙ্গিকে মোদী সরকার চুক্তি সারবে বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে সরকারি ভাবে এই নিয়ে এখনও কোনও ঘোষণা হয়নি।

০৮ ২০

উপসাগরীয় আরব দেশগুলিতে এক কোটির বেশি ভারতীয় বসবাস করেন। জিসিসির সঙ্গে শেষ পর্যন্ত মোদী সরকার মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি সেরে ফেললে আর্থিক দিক থেকে তারাও লাভবান হবে। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ভাবে আলোচনা শুরুর জন্য কার্যবিধি সংক্রান্ত শর্তাবলিতে সই করে দু’পক্ষ। সূত্রের খবর, সেখানে প্রস্তাবিত বাণিজ্যচুক্তির পরিধি ও পদ্ধতির একটা রূপরেখা তুলে ধরেছে নয়াদিল্লি ও জিসিসি। পরে গণমাধ্যমের কাছে এই নিয়ে মুখ খোলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়ল।

০৯ ২০

৫ ফেব্রুয়ারি জিসিসির সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট করেন মোদী মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পীযূষ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘‘আমরা দুই বাণিজ্যিক অংশীদার ৫,০০০ বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সামগ্রী লেনদেন করে আসছি। চুক্তি হলে সেটা কয়েক গুণ বাড়বে। সে ক্ষেত্রে একটা যুক্তিসঙ্গত, শক্তিশালী ও জোরালো সমঝোতায় আমরা প্রবেশ করতে পারব। সেটা পণ্য ও পরিষেবার অবাধ সরবরাহকে আরও সহজ করবে। আসবে বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতা। তা ছাড়া বৃহত্তর লগ্নিকেও এটা উৎসাহিত করবে।’’

১০ ২০

কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তিটি জিসিসি-ভুক্ত আরব দেশগুলিতে খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করবে। তাদের থেকে জ্বালানি সুরক্ষা পাবে ভারতও। পশ্চিম এশিয়ার ওই উপসাগরীয় দেশগুলি আবার খনিজ তেল রফতানিকারী সংস্থা ওপেকের (অর্গানাইজ়েশন অফ পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ়) অংশ। গত চার বছরে যাদের থেকে তরল সোনার আমদানির পরিমাণ হ্রাস করেছে নয়াদিল্লি। দু’তরফে সমঝোতা হলে ফের কি তাতে গতি আনবে মোদী প্রশাসন? সেই প্রশ্নের অবশ্য জবাব দেননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার সদস্য গোয়ল।

১১ ২০

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে রাশিয়ার উপর ১৬ হাজারের বেশি নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমি দুনিয়া। এর জেরে দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে সস্তা দরে ভারতকে তরল সোনা বিক্রির ‘মেগা অফার’ দেয় মস্কো। সঙ্গে সঙ্গে সেটা গ্রহণ করে ক্রেমলিনের থেকে বিপুল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল কেনা শুরু করে নয়াদিল্লি। এই বিষয়ে গত বছর থেকে বেশ কয়েক বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকির মুখেও পড়ে সাউথ ব্লক। হুমকির মুখে রুশ উরাল ক্রুডের আমদানি কমালেও তা একেবারে বন্ধ করেনি মোদী প্রশাসন।

১২ ২০

এ বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সেরে ফেলার কথা নিজের সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি লেখেন, মস্কোর থেকে আর তেল কিনবেন না বলে কথা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। যদিও তাঁর করা ওই দাবির সপক্ষে কোনও বিবৃতি দেয়নি নয়াদিল্লি। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের দাবি, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রুশ তরল সোনার আমদানি আরও কমাতে পারে কেন্দ্র। তারই বিকল্প হিসাবে কি পশ্চিম এশিয়ার দিকে দৃষ্টি ঘুরিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রক? পীযূষের কথায় মিলেছে তার ইঙ্গিত।

১৩ ২০

কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘‘জিসিসি-ভুক্ত দেশগুলি আমাদের জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র আনার ব্যাপারে সহায়তা করবে। কারণ আগামী দিনে জ্বালানির সূচক আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’’ পাশাপাশি, এফটিএ কার্যকর হলে এ দেশের পেট্রো-রাসায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ সংক্রান্ত শিল্প পণ্যগুলি পশ্চিম এশিয়ায় নতুন বাজার পাবে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন পীযূষ। অন্য দিকে সম্ভাব্য চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদও।

১৪ ২০

২০২৪-’২৫ আর্থিক বছরে জিসিসি-ভুক্ত দেশগুলিতে রফতানির অঙ্ক এক শতাংশ বৃদ্ধি করে ভারত। ফলে সেটা ৫,৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছোয়। ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে তা ছিল ৫,৬৩২ কোটি ডলার। তবে ২০২৪-’২৫ আর্থিক বছরে পশ্চিম এশিয়ার উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে ১৫.৩৩ শতাংশ আমদানি বাড়িয়েছিল নয়াদিল্লি। টাকার অঙ্কে সেটা ১২ হাজার ১৭০ কোটি ডলার। ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে অবশ্য ১০ হাজার ৫৫০ কোটি ডলারের পণ্য আরব মুলুক থেকে আমদানি করেছিল কেন্দ্র।

১৫ ২০

২০২৩-’২৪ আর্থিক বছরে ভারত ও জিসিসির দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ১৮২ কোটি ডলার। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে সেটা বেড়ে ১৭ হাজার ৮৭০ কোটি ডলারে গিয়ে পৌঁছোয়। শুধু তা-ই নয়, গত দু’টি আর্থিক বছরে নয়াদিল্লির তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল আমিরশাহি। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে এ দেশের মোট রফতানি বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩,৬৬৩ কোটি ডলার। সেখানে আমদানির অঙ্ক ৬,৩৪০ কোটি ডলার ছুঁয়েছিল। ফলে বাণিজ্যিক ঘাটতি ২,৬৭৬ কোটি ডলারে পৌঁছে যায়।

১৬ ২০

গত আর্থিক বছরে (২০২৪-’২৫) ভারতের পঞ্চম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল সৌদি আরব। রিয়াধে ১,১৭৫ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছিল নয়াদিল্লি। অন্য দিকে আমদানির পরিমাণ ছিল ৩,০১২ কোটি ডলার। অর্থাৎ, ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে ওই উপসাগরীয় দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক ঘাটতির অঙ্ক ১,৮৩৬ কোটি ডলারে গিয়ে পৌঁছোয়। জিসিসির বাকি দেশগুলির মধ্যে গত আর্থিক বছরে কাতার, ওমান ও কুয়েত ছিল নয়াদিল্লির যথাক্রমে ২২, ২৮ ও ২৯তম অংশীদার।

১৭ ২০

২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে কাতারে এ দেশের পণ্য রফতানির পরিমাণ ছিল ১৬৮ কোটি ডলার। বিনিময়ে সেখান থেকে ১,২৪৬ কোটি ডলারের সামগ্রী আমদানি করে নয়াদিল্লি। অর্থাৎ, দোহার সঙ্গে বাণিজ্যিক ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১,০৭৮ কোটি ডলার। একই ভাবে ওমানের ক্ষেত্রে রফতানি ও আমদানির অঙ্ক ছিল যথাক্রমে ৪০০ কোটি ও ৬৫৪ কোটি ডলার। কুয়েতকে আবার ১৯৩ কোটি ডলারের পণ্য বিক্রি করতে পেরেছে ভারত। সেখান থেকে এ দেশে এসেছে ৮২৮ কোটি ডলারের সামগ্রী।

১৮ ২০

জিসিসি-ভুক্ত বাহরাইনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের পরিমাণ অবশ্য আরও কম। গত অর্থবর্ষে (২০২৪-’২৫) পশ্চিম এশিয়ার ওই দেশটিতে প্রায় ৮০ কোটি ডলার মূল্যের সামগ্রী বিক্রি করেছিল নয়াদিল্লি। সেখান থেকে আমদানির অঙ্ক ছিল প্রায় ৮৫ কোটি ডলার। আরব দেশগুলির সঙ্গে কেন্দ্রের বাণিজ্যিক ঘাটতির মূল কারণ হল খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস। এই দুই জ্বালানি সম্পদের জন্য পুরোপুরি ভাবে নয়াদিল্লিকে বিদেশের উপর নির্ভরশীল বললে অত্যুক্তি হবে না।

১৯ ২০

ভারত ও জিসিসি-র মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছেন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফ্রি শ্যাক্স। তিনি বলেছেন, ‘‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে চিনের বড় প্রভাব রয়েছে। সেখানে নয়াদিল্লির জন্য সোনার ডিম পাড়া হাঁস হয়ে উঠতে পারে পশ্চিম এশিয়া। আর্থিক দিক থেকে উপসাগরীয় দেশগুলি বেশ সচ্ছল। ফলে তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক লেনদেন কেন্দ্রের মোদী সরকারের জন্য যথেষ্টই লাভজনক হবে।’’

২০ ২০

২০০৬ সালে প্রথম বার উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির ব্যাপারে কথা বলা শুরু করে নয়াদিল্লি। তখন অবশ্য এ ব্যাপারে তেমন সাফল্য আসেনি। ২০০৮ সালে দ্বিতীয় বার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় কেন্দ্র। পরবর্তী সময়ে আর কখনওই আলোচনার টেবিলে বসেনি দু’পক্ষ। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তা ফের শুরু করতে চলেছে মোদী সরকার, যার দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে বণিকমহল।

সব ছবি: সংগৃহীত ও এআই সহায়তায় প্রণীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement