Golden Horizon Missile

আকাশের যুদ্ধে পাক-চিনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ইহুদি অস্ত্রে শান! ব্রহ্মসের চেয়েও তেজি হাতিয়ার পাচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনা?

গোল্ডেন হরাইজ়ন একটি এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল। অর্থাৎ, এটিকে যুদ্ধবিমান থেকে আকাশপথে ছোড়া যায়। গোল্ডেন হরাইজ়নকে ভূগর্ভস্থ কমান্ড বাঙ্কার, শক্তিশালী সামরিক কাঠামো এবং পারমাণবিক অস্ত্রাগারে আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে। পুরু কংক্রিট কাঠামো এবং মাটির নীচে সুরক্ষিত শত্রুঘাঁটিতে আঘাত করতে সক্ষম এই ইহুদি অস্ত্র।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫১
Share:
০১ ১৭

ব্রহ্মসের থেকেও তেজি। ১৫০০ থেকে ২০০০ কিলোমিটার দূর থেকে উড়ে নিখুঁত লক্ষ্যে শত্রুঘাঁটি নিকেশ করতে সক্ষম। ইহুদি প্রযুক্তিতে তৈরি সেই মারণাস্ত্রই এ বার ভারতীয় বিমানবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নয়াদিল্লির। ভারতীয় বিমানবাহিনী ইজ়রায়েলের থেকে যে হাতিয়ারটি কিনতে চাইছে তার পোশাকি নাম ‘গোল্ডেন হরাইজ়ন’।

০২ ১৭

জঙ্গিশিবির গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্যই হোক কিংবা ‘অপারেশন সিঁদুর’-পর্বে শত্রুর বিমানবাহিনীর গতিবিধির উপর নজরদারি, ‘বন্ধু’র শস্ত্রের উপর অগাধ ভরসা রেখেছে ভারত। ভারতীয় বিমানবাহিনীর শিরদাঁড়া মজবুত করতে তাই ইজ়রায়েলের থেকে দূরপাল্লার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র পেতে চলেছে ভারত। সব কিছু ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইজ়রায়েল সফরের পরই ভারতীয় বায়ুসেনার ভাঁড়ারে ঠাঁই পাবে ‘সোনালি দিগন্ত’।

Advertisement
০৩ ১৭

বুধবার ইজ়রায়েলে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীর এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে, তা একবাক্যে জানিয়েছে নয়াদিল্লি এবং তেল আভিভ। এই সফরে কৌশলগত সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করতে একাধিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

০৪ ১৭

যৌথ উদ্যোগে অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের উদ্দেশ্যে নয়াদিল্লি-তেল আভিভ নতুন একটি সমঝোতা করতে চলেছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে। সেই সমঝোতারই অন্যতম অংশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা, লেজ়ার অস্ত্র এবং দূরপাল্লার ‘স্ট্যান্ড-অফ ক্ষেপণাস্ত্র’ এবং ড্রোন উৎপাদন ও সরবরাহ। সূত্রের খবর, দেড় থেকে দু’হাজার কিলোমিটার পাল্লাযুক্ত আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকার।

০৫ ১৭

যুদ্ধবিমান থেকে নিখুঁত নিশানায় শত্রুর উপর ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কৌশল রপ্ত করেছে অনেক দেশ। তবে ইজ়রায়েলের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রটি এককথায় তুলনাহীন। সেই গোপন হাতিয়ার দিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার আকাশপথে হামলার পরিধি আরও প্রসারিত করতে ইচ্ছুক ইহুদি রাষ্ট্রটি।

০৬ ১৭

গোল্ডেন হরাইজ়ন একটি এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল। অর্থাৎ, এটি আকাশপথে ছোড়া যায় এমন একটি বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। এই অস্ত্রটির শক্তি বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে হামাসের ঘাঁটিতে ইজ়রায়েলি হামলার সময়। কাতারের দোহায় হামাসের নেতাদের নিশানা করে সুনির্দিষ্ট বিমানহামলা চালায় ইজ়রায়েল। দোহার আকাশসীমায় না ঢুকেই লোহিত সাগরের উপর দিয়ে ইজ়রায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল হামাসের ঘাঁটি। হামলার ঘটনার পর মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের এক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, হামলাটি কাতারের আকাশসীমার বাইরে ‘দিগন্তের অপর পার’ থেকে করা হয়েছিল।

০৭ ১৭

হামলায় কোন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা নিয়ে তেল আভিভ কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলি এই নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছিল। মার্কিন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুসারে বিমানগুলি পশ্চিম থেকে পূর্বে উড়ে এসেছিল এমন ভাবে যে কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা আটকাতে ব্যর্থ হয়েছিল। মিডলবেরি ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ়ের ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ জেফ্রি লুইসের মতে, দোহায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলি হয় ‘গোল্ডেন হরাইজ়ন’, অথবা ইজ়রায়েলের স্প্যারোর উন্নত সংস্করণ।

০৮ ১৭

২০২৪ সালে মার্কিন গোয়েন্দা নথি ফাঁস হওয়ার পর ইজ়রায়েলের অস্ত্রভান্ডারের দু’টি তুরুপের তাস জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। একটি গোল্ডেন হরাইজ়ন এবং অন্যটি আইএস ০২ রক্‌স। গোয়েন্দা নথিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, ইজ়রায়েলের এই দু’টি অস্ত্র দিয়ে সম্ভবত ইরানকে লক্ষ্যবস্তু হিসাবে ব্যবহার করা হবে। যদিও দোহায় হামলার নেপথ্যে ব্যবহৃত অস্ত্র বা হামলার সুনির্দিষ্ট বিবরণ স্বীকার করেনি নেতানিয়াহু সরকার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইজ়রায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, এই হামলায় প্রায় ১০টি বিমান অংশ নিয়েছিল এবং প্রায় ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

০৯ ১৭

প্রতিরক্ষা চুক্তি সফল হলে ভারতই হবে প্রথম দেশ যাদের হাতে আসবে ইহুদি প্রযুক্তিতে তৈরি আকাশ থেকে উৎক্ষেপিত এই অস্ত্র। গোল্ডেন হরাইজ়ন নিয়ে সরকারি ভাবে রা কাড়েনি কোনও দেশই। বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ভারতীয় বায়ুসেনায় অস্ত্রাগারে ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থান পেলে এটিকে বহন করবে ভারতীয় বিমানবাহিনীর সুখোই এসইউ-৩০এমকেআই।

১০ ১৭

ইহুদিদের মারণাস্ত্র হাতে পেলে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে পারবে বায়ুসেনা। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, গোল্ডেন হরাইজ়ন তৈরির অনুপ্রেরণা সিলভার স্প্যারো। এটি আকাশ থেকে নিক্ষিপ্ত মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি মূলত অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা পরীক্ষা করার জন্য ও দীর্ঘ পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধি অনুকরণ করতে ব্যবহার করা হত। তবে সিলভার স্প্যারোর উন্নততম সংস্করণটি ১৫০০ থেকে ২০০০ কিলোমিটার পাল্লার। স্প্যারোরই নতুন রূপ যুদ্ধবিমান থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য একটি কার্যকরী অস্ত্রে রূপান্তরিত হয়েছে।

১১ ১৭

বর্তমানে ভারতীয় ফৌজের অস্ত্রাগারে রয়েছে ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট হাতিয়ারটি তৈরি করেছে নয়াদিল্লি। সূত্রের খবর, গত মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তানের নুর খান-সহ একাধিক বিমানঘাঁটিকে ধ্বংস করে এ দেশের বাহিনী। তা সত্ত্বেও নতুন এই বিধ্বংসী হাতিয়ারটির কেন প্রয়োজন, তা অবশ্য ইতিমধ্যেই ব্যাখ্যা করেছেন অস্ত্রবিশারদেরা।

১২ ১৭

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলি সাধারণত স্থির গতিপথে উৎক্ষেপণ করা হয়। বিমান প্রতিরক্ষা সুরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে এগুলিকে আটকে দেওয়া বেশ কঠিন। আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলি যুদ্ধবিমান বা বোমারু বিমান বয়ে নিয়ে যায়। আকাশ থেকে নিক্ষেপ করা এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলি নির্ভুল লক্ষ্যে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে আঘাত হানতে পারে।

১৩ ১৭

গোল্ডেন হরাইজ়নকে ভূগর্ভস্থ কমান্ড বাঙ্কার, শক্তিশালী সামরিক কাঠামো এবং পারমাণবিক অস্ত্রাগারে আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে। গোপন ও চাপা পড়া লক্ষ্যবস্তুর জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করা হয়। ডিফেন্স নিউজ় ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ আকাশ থেকে ভূমি ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে মাটির গভীরে থাকা বাঙ্কারে আঘাত হানা সম্ভব নয়। পুরু কংক্রিটের কাঠামো এবং ভূগর্ভে সুরক্ষিত শত্রুঘাঁটিতে আঘাত করতে বিশেষ অস্ত্রের প্রয়োজন হয়। এই কাজটি সফল ভাবে করতে পারে গোল্ডেন হরাইজ়ন।

১৪ ১৭

আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র গোল্ডেন হরাইজ়নকে এক বার নিক্ষেপের পর ব্যালিস্টিক গতিপথ অনুসরণ করে তা বেশ কিছুটা উচ্চতায় আরোহণ করবে এবং তার পর অত্যন্ত উচ্চ গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে নেমে আঘাত হানবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এর সর্বোচ্চ গতি হাইপারসনিক স্তরে পৌঁছোতে পারে। অর্থাৎ, এর গতি ম্যাক ৫ (শব্দের গতির ৫ গুণ) এর উপরে চলে যেতে পারে।

১৫ ১৭

রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি নয়াদিল্লির ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্রের তিনটি মূল শ্রেণি রয়েছে। যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং স্থলবাহিনীর লঞ্চার থেকে একে শত্রুর উপর ছুড়তে পারে সেনা। এর নির্মাণকারী সংস্থার নাম ‘ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস লিমিটেড’। শব্দের প্রায় তিন গুণ বেশি গতিতে ছুটে গিয়ে নিখুঁত নিশানায় হামলা করতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। ব্রহ্মস, প্রলয়ের মতো ক্ষেপণাস্ত্র বায়ুসেনার হাতে থাকলেও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দূরপাল্লার অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র আমদানিতে জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি। এমনটাই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞেরা।

১৬ ১৭

গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের গোড়ার দিকে ইহুদিদের আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। সেটি ‘ইজ়রায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ়’-এর তৈরি লরা। মূলত শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে উড়িয়ে দেওয়ার কাজ করবে ইজ়রায়েলি প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্রটি। লরার পাল্লা ৪০০ থেকে ৪৩০ কিলোমিটার। একে সুপারসনিক আধা ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বলা যেতে পারে। শব্দের পাঁচ গুণ গতিতে ছুটতে পারে ইহুদিদের লরা। ৫৭০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক নিয়ে নিখুঁত নিশানায় হামলা করতে সক্ষম সংশ্লিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র। এর মোট ওজন ১,৬০০ কেজি এবং দৈর্ঘ্য ৫.২ মিটার।

১৭ ১৭

এ-হেন বিপজ্জনক ক্ষেপণাস্ত্রটিকে পছন্দ করার নেপথ্যে ভারতীয় বায়ুসেনার একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, এ দেশের বিমানবাহিনী সর্বাধিক ব্যবহার করে রাশিয়ার তৈরি এসইউ-৩০ এমকেআই নামের লড়াকু জেট। সংশ্লিষ্ট যুদ্ধবিমানটি চারটি করে লরা ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম। অর্থাৎ, ইহুদিদের মারণাস্ত্র হাতে পেলে একাধিক লক্ষ্যবস্তুকে একসঙ্গে ধ্বংস করতে পারবে বায়ুসেনা।

ছবি: সংগৃহীত ও এআই সহায়তায় প্রণীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement