জনপ্রিয় হিন্দি ধারাবাহিকে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু কয়েকটি পর্বে অভিনয় করেই পোষাল না নায়িকার। মাঝপথে ধারাবাহিক ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন। প্রথম বিয়ে ভেঙেছে। তার পর একাধিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি। তবে বিয়ে করে সংসার সামলানোর ঘোর বিরোধী নায়িকা। ষাটের দোরগোড়ায় পৌঁছোলেও এখনও ‘সিঙ্গল’ রয়েছেন কৌশল্যা গিদওয়ানি।
১৯৬৭ সালের অক্টোবরে জন্ম কৌশল্যার। আসল নামের চেয়ে বরং কিটু নামেই অধিক পরিচিত তিনি। দেশভাগের সময় তাঁর পরিবার পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে চলে এসেছিল। মুম্বইয়ের এক শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন সকলে। তার পর মুম্বইয়েই পাকাপাকি ভাবে বসবাস শুরু কিটুর পরিবারের।
বাবা-মা এবং ভাইয়ের সঙ্গে মুম্বইয়ে থাকতেন কিটু। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর সেখানকার একটি কলেজে ভর্তি হন। বাণিজ্য বিষয়ে স্নাতক হওয়ার পর আবার উচ্চশিক্ষার জন্য ফরাসি ভাষা নিয়ে পড়াশোনা করে স্নাতকোত্তর হন কিটু।
ফরাসি ভাষার প্রতি আগ্রহ থাকার ফলে বহু ফরাসি নাটকে অভিনয় করেছেন কিটু। নাট্যাভিনেতা হিসাবে পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি। আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে টেলিভিশনের পর্দার পাশাপাশি বড়পর্দায় অভিনয় শুরু করেন কিটু।
১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কেতন মেহতার পরিচালনায় ‘হোলি’ ছবিতে প্রথম অভিনয় কিটুর। সেই ছবিতে বলিউডের ‘পারফেকশনিস্ট’ আমির খানের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তখন ইন্ডাস্ট্রিতে নবাগত ছিলেন আমির।
‘হোলি’ ছবিতে চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে আমির এবং কিটুর চুম্বনের একটি দৃশ্য রাখা হয়েছিল। কিন্ত সেই দৃশ্যে অভিনয় করার সময় অস্বস্তিতে পড়েছিলেন আমির। কিটু সেই প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘‘আমি তখন চিনতামও না আমিরকে। ও সদ্য কাজ শুরু করেছে। শুটিং চলাকালীন আমায় চুমু খেতে গিয়ে আমিরের গলদঘর্ম অবস্থা। সে একেবারে থতমত খেয়ে গিয়েছিল। তার পর পেশাদারিত্বের খাতিরে কোনও রকমে শুটিং শেষ করে।’’
কিটু যখন কেরিয়ারের গোড়ায়, তখন তিনি সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন। কিন্তু সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কানাঘুষো শোনা যায়, বিয়ের মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই তাদের মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্য দেখা দেয় এবং তাঁরা পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন।
বিবাহবিচ্ছেদের পরেও নাকি একাধিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন কিটু। তিনি আর কখনওই দ্বিতীয় বার সংসার পাতার কথা ভাবেননি। এক সাক্ষাৎকারে কিটু জানিয়েছিলেন যে, তিনি একা থাকতে ভালবাসেন এবং জীবনে সঙ্গীর অভাব বোধ করেন না।
কিটুর দাবি, সৃজনশীল মানুষের কাছে ব্যক্তিগত পরিসর থাকা অত্যন্ত জরুরি। প্রথাগত বৈবাহিক জীবনের সঙ্গে তিনি স্বাধীনচেতা সত্তার খাপ খাওয়াতে পারছিলেন না। যদিও কিটু কখনওই তাঁর স্বামীর নাম জনসমক্ষে প্রকাশ করেননি।
বলিপাড়ার গুঞ্জন, সুজয় সুদ নামে নিউ ইয়র্কের এক লেখকের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক ছিল কিটুর। অভিনেত্রী মনে করেন, কোনও নারীর জীবনের পূর্ণতার জন্য বিয়ে বা সন্তান অপরিহার্য নয়। স্বেচ্ছায় অবিবাহিতা রয়েছেন বলেই নিজের পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন কিটু।
কিটু এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘‘বিয়ের পর অনেক মহিলাকেই দেখেছি তাঁদের ছোট ছোট ইচ্ছা থেকে শুরু করে কেরিয়ার পর্যন্ত বিসর্জন দিয়ে দিয়েছেন। আমি তা করতে চাইনি। আমি ‘সিঙ্গল’ থেকে নিজের জীবন দারুণ ভাবে উপভোগ করি। কেরিয়ার, ঘোরাফেরা এবং নিজের শখ-আহ্লাদ নিয়েই বাঁচি আমি।’’
নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশনের পর্দায় মুক্তি পায় মুকেশ খন্না অভিনীত ‘শক্তিমান’। কম সময়ের মধ্যেই সেই ধারাবাহিকটি জনপ্রিয়তা পায়। ধারাবাহিক সম্প্রচারের শুরুর দিকে কয়েকটি পর্বে অভিনয় করেছিলেন কিটু।
‘শক্তিমান’ ধারাবাহিকে সাংবাদিক গীতা বিশ্বাসের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন কিটু। কিন্তু কাজ করে আনন্দ পাচ্ছিলেন না তিনি। কিটু মনে করেছিলেন, এই ধারাবাহিকটি শক্তিমানের চরিত্র ঘিরেই আবর্তিত। তাঁর অভিনীত চরিত্রটি পর্দায় তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না।
কিটু নাকি ইন্ডাস্ট্রিতে ‘টাইপকাস্ট’ হয়ে যাওয়ার ভয় পেয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, ‘শক্তিমান’ ধারাবাহিকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়ে গেলে তিনি একই ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেতে থাকবেন। নতুন কাজ করার সুযোগই পাবেন না। তাই মাঝপথে ধারাবাহিক ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি।
‘শক্তিমান’ ধারাবাহিক ছেড়ে কিটু বেরিয়ে গেলে আবার অডিশন নেওয়া হয়। পরে বৈষ্ণবী ম্যাকডনাল্ডকে পছন্দ করেন ধারাবাহিকনির্মাতারা। টানা আট বছর ধরে গীতার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি।
হিন্দি ধারাবাহিকে অভিনয়ের পাশাপাশি বহু হিন্দি ছবি এবং ওয়েব সিরিজ়ে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেছেন কিটু। বাণিজ্যিক এবং সমান্তরাল— দুই ধরনের ছবিতেই কাজ করে চলেছেন তিনি।