একাধিক হিন্দি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাও করছেন চুটিয়ে। পঞ্জাবি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ‘কুইন’ বলে অধিক পরিচিত। কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক সরগুন মেহতা নাকি শাহরুখ খানের প্রতিবেশী হতে চান।
১৯৮৮ সালের সেপ্টেম্বরে চণ্ডীগঢ়ে জন্ম সরগুনের। বাবা-মা এবং ভাইয়ের সঙ্গে সেখানেই থাকতেন তিনি। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভাইও ব্যবসা শুরু করেন। সরগুনও চেয়েছিলেন মার্কেটিং নিয়ে এমবিএ করে বিদেশে চলে যাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হল না তাঁর।
শৈশব থেকেই নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল সরগুনের। ছোটদের নাচের এক রিয়্যালিটি শোয়ে ভাইয়ের সঙ্গে অংশগ্রহণও করেছিলেন। কিন্তু অডিশন দিতে গিয়ে বাদ পড়ে যান সরগুন। পরে অবশ্য ভাগ্যের চাকা এমন ভাবে ঘুরে যায় যে, বড় হয়ে সেই রিয়্যালিটি শোয়ের উপস্থাপনা করার সুযোগ পান তিনি।
চণ্ডীগড় থেকে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য দিল্লি চলে যান সরগুন। সেখানে গিয়ে বাণিজ্য নিয়ে পড়াশোনা করে স্নাতক হন। কলেজে পড়াকালীন বহু নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। এমবিএ নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য প্রস্তুতি নিতেও শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিনয়ের জন্য মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেন সরগুন।
‘১২/২৪ করোল বাগ’ নামের এক হিন্দি ধারাবাহিকের জন্য অডিশন দেন সরগুন। প্রথম সুযোগেই অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে যান তিনি। সেই ধারাবাহিকে সরগুনের সহ-অভিনেতা ছিলেন রবি দুবে। দু’জনের যখন ‘লুক টেস্ট’ চলছিল, তখন রবিকে দেখে মোটেও ভাল লাগেনি তাঁর। পরে সেই সহ-অভিনেতারই প্রেমে পড়ে যান সরগুন।
সরগুন এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ধারাবাহিকের শুটিং শুরুর সময় লাল জ্যাকেট পরে তাঁর মেকআপ ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন রবি। সেই মুহূর্তে তাঁকে দেখে প্রেমে পড়ে যান সরগুন। ধারাবাহিক থেকে তাঁদের বন্ধুত্ব এবং প্রেম।
২০১৩ সালে রবির সঙ্গে ছোটপর্দার জনপ্রিয় নাচের রিয়্যালিটি শোয়ে অংশগ্রহণ করেন সরগুন। সেই শোয়ে সরগুনকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রবি। সেই বছরের ডিসেম্বরে বিয়ে করেন তাঁরা। একের পর এক হিন্দি ধারাবাহিকে অভিনয় করছিলেন সরগুন। কিন্তু একসময় তাঁর মনে হচ্ছিল, এই ধারাবাহিকের জগতে সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না তাঁর। একই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে চলেছেন তিনি। তাই পঞ্জাবি ছবিতে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেন সরগুন।
২০১৫ সালে পঞ্জাবি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পদার্পণ সরগুনের। কম সময়ের মধ্যে একের পর এক ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দিতে শুরু করেন দর্শককে। পঞ্জাবি চলচ্চিত্রজগতের ‘কুইন’ বলেও সর্গুনকে সম্বোধন করেন অনেকে।
ছবিপ্রতি ১ থেকে ২ কোটি টাকা পারিশ্রমিক আদায় করেন সরগুন। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৫০ কোটি টাকারও বেশি। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার ক্ষেত্রেও কেরিয়ার গড়ে তুলেছেন সরগুন। ২০১৯ সালে স্বামীর সঙ্গে এক প্রযোজনা সংস্থা গড়ে তোলেন তিনি।
হিন্দি ধারাবাহিকের পাশাপাশি একাধিক পঞ্জাবি ছবিও প্রযোজনা করেছেন সরগুন। বর্তমানে যে পঞ্জাবি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। সরগুন সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান যে, একসময় বছরে ৭ থেকে ১০টা ছবি মুক্তি পেত। টানা দু’-তিন বছর এ ভাবেই কেটেছে। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে পরিস্থিতি বদলেছে ইন্ডাস্ট্রির।
সরগুন জানান, বর্তমানে বছরে ৭০ থেকে ৮০টি পঞ্জাবি ভাষার ছবি মুক্তি পায়। যেখানে আগে এক একটা ছবি তৈরি করতে ৬-৭ কোটি টাকা খরচ হত, সেখানে এখন ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা বাজেটের ছবি তৈরি করা হয়। দিলজিৎ দোশাঞ্জ এবং গিপ্পি গ্রেওয়ালের মতো তারকাদের সাফল্যের প্রশংসাও করেছেন সরগুন।
২০২৩ সালে গিপ্পি গ্রেওয়াল এবং সোনম বাজওয়া অভিনীত ‘ক্যারি অন জাট্টা ৩’ ছবিটি প্রথম ভারতীয় পঞ্জাবি চলচ্চিত্র হিসাবে ১০০ কোটি টাকার ক্লাবে নাম লেখায়। সরগুনের মতে, এই সাফল্য সমগ্র পঞ্জাবি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির।
পঞ্জাবি ছবির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত হলেও বলিউডের ‘বাদশা’ শাহরুখ খানের একনিষ্ঠ অনুরাগী সরগুন। তাঁর স্বপ্ন ‘মন্নত’-এর পাশে বাড়ি কিনবেন। শাহরুখের প্রতিবেশী হতে চান তিনি।
সমাজমাধ্যমে নিজস্ব অনুরাগীমহল তৈরি করে ফেলেছেন সরগুন। ইতিমধ্যেই ইনস্টাগ্রামের পাতায় অনুগামীর সংখ্যা ৯৩ লক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে পঞ্জাবি অভিনেত্রীর।