রবিবার সংসদে বাজেট পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এই নিয়ে টানা নবম বারের জন্য বাজেট বক্তৃতা করলেন তিনি। নরেন্দ্র মোদী তৃতীয় বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই নিয়ে তৃতীয় বার পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে চলেছে তাঁর সরকার।
বাজেট ঘোষণার আগে থেকেই ২০২৬-’২৭ আর্থিক বছরের ব্যয় বরাদ্দকে কেন্দ্র করে আমজনতা থেকে শুরু করে শিল্প সংস্থার মধ্যে চড়ছিল প্রত্যাশার পারদ। রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ সংসদে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন নির্মলা। তার আগে প্রথামাফিক রাষ্ট্রপতির কাছে যান তিনি।
তবে নির্মলার বাজেটে প্রত্যাশা-পতন হয়েছে। বাংলা নিয়ে যেমন বড় কোনও ঘোষণা নেই, তেমনই হতাশ করদাতারাও। তবে নিয়মমাফিক কিছু জিনিসের দাম কমতে চলেছে। বাড়তেও চলেছে কিছু জিনিসের দাম।
সরকার বিশেষ কিছু ওষুধ, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো বেশ কয়েকটি পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়েছে, ফলে সেগুলো সস্তা হচ্ছে। অন্য দিকে, ঘড়ি এবং অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়-সহ বিলাসবহুল পণ্যের উপর আরও কর আরোপ করা হবে, যার ফলে সেই সব পণ্য আরও দামি হবে।
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষে কোন কোন জিনিসের দাম বাড়ছে। দাম কমছে কোন কোন জিনিসের।
২০২৬-’২৭ সালের বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, শুল্ক কমানো হবে বিমানের যন্ত্রাংশের উপর। ফলে বিমানের যন্ত্রাংশের দাম কমবে।
বেশ কিছু বৈদ্যুতিন পণ্য, যেমন মাইক্রোওভেনের যন্ত্রাংশের উপরও শুল্ক কমানো হয়েছে। অর্থাৎ, দাম কমতে পারে মাইক্রোওভেনের। আমদানিকৃত বেশ কিছু পণ্যে কম শুল্ক আরোপ করা হবে।
বেশ কিছু ওষুধও সস্তা হতে চলেছে। বাজেট পেশের সময় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১৭টি ক্যানসারের ওষুধে আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। ফলে ওই ওষুধগুলির দাম কমবে। দাম কমবে মধুমেহ রোগের কিছু ওষুধেরও।
শুল্ক কমানোর ফলে বৈদ্যুতিন গাড়ির ব্যাটারি এবং সৌরশক্তিচালিত প্যানেলের দাম কমতে চলছে ২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষে।
মোবাইল তৈরির বেশ কিছু জিনিস সস্তা হওয়ায় ভারতে তৈরি স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট সস্তা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুল্ক কমানোর ফলে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আমদানি করা কিছু পণ্যের দামও কমতে পারে।
২০২৬ সালের বাজেট বক্তৃতায় দেশের চামড়া রফতানিকে উৎসাহিত করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত আমদানির প্রস্তাব করেছেন নির্মলা। ফলে চামড়াজাত পণ্যের দাম কমতে পারে। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ আমেরিকার ৫০ শতাংশ শুল্কের চাপের মুখে পড়া চামড়া রফতানিকারকদেরও সুবিধা প্রদান করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুল্ক কমানোয় বিদেশেভ্রমণ এবং শিক্ষার খরচও কমছে। ফলে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে এমন অনেকেরই প্রত্যাশাপূরণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বিশেষ কিছু ছাড়ের ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা। ফলে পরমাণু বিদ্যুতের দাম কমতে পারে। ভারতীয় জলসীমায় ভারতীয় জেলেদের মাছ ধরার ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছে।
অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের বর্জ্য এবং কিছু খনিজ পদার্থের উপর শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে।
কিছু জিনিসের দাম যেমন কমেছে, তেমনই দাম বাড়ছে বেশ কিছু জিনিসের। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে বিলাসবহুল ঘড়ি।
আরও ব্যয়বহুল হতে চলেছে বিদেশ থেকে আমদানি করা মদ। ফলে নামী বিদেশি সংস্থার মদ পছন্দ করেন এমন সুরাপ্রেমীদের খরচ বাড়তে চলেছে।
সরকার কফি রোস্টিং, ব্রিউইং এবং ভেন্ডিং মেশিনের উপর থেকে ছাড় তুলে নিয়েছে, ফলে তা আরও ব্যয়বহুল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দাম বাড়তে চলেছে বেশ কিছু সারের।
আমদানি করা টেলিভিশন সরঞ্জাম, ক্যামেরা এবং চিত্রগ্রহণের অন্যান্য সরঞ্জামের দামও বাড়তে চলেছে।
২০২৬-’২৭ সালের বাজেট বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর মুখে শোনা গিয়েছে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর স্তুতি। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার এবং ভোক্তা ও সাধারণ করদাতাদের স্বস্তি প্রদানের কথা বলে একাধিক ঘোষণা করেছেন তিনি। তবে বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, বলার মতো তেমন কোনও বড় ঘোষণা এই বাজেটে করেননি অর্থমন্ত্রী। ফলে প্রত্যাশাপূরণ হয়নি সাধারণ মানুষের।