চরম দারিদ্রে বড় হয়ে ওঠা। ‘হাড় জিরজিরে’ বলে ডেকে খেপাতেন লোকজন। দুধ-ডিম খাওয়ার মতোও টাকাপয়সা ছিল না তাঁর। সেই তরুণই বর্তমানে তারকাদের ফিটনেস প্রশিক্ষক। মাথার উপর একসময় যাঁর নড়ব়ড়ে ছাদ ছিল, তিনি বর্তমানে ১৫ কোটি টাকা সম্পত্তির মালিক।
মুম্বইয়ের দাদারে খেটে খাওয়া মানুষের এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন বিনোদ চন্না। নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা ছিল বিনোদের। সংসারের খরচ চালাতে কম বয়সেই পাহারাদারের চাকরিতে যোগ দেন তিনি।
ছোট থেকেই শরীরচর্চা করার শখ ছিল বিনোদের। চাকরি পাওয়ার পর শরীরচর্চা করা শুরু করেন তিনি। পরে মুম্বইয়ের বান্দ্রার একটি জিমে ফিটনেস প্রশিক্ষকের চাকরি শুরু করেন বিনোদ।
গোড়ার দিকে আলাদা ভাবে জিমের কোনও সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ পাননি। উদ্দেশ্যহীন ভাবে জিমের ভিতরে ঘুরে বেড়াতেন তিনি। ধীরে ধীরে লোকজনের সঙ্গে পরিচিতি তৈরি হয় বিনোদের।
টানা ১২ বছর বান্দ্রার জিমে ফিটনেস প্রশিক্ষক হিসাবে চাকরি করেন বিনোদ। কিন্তু বেশি পারিশ্রমিক পাওয়ার আশায় অন্যত্র চাকরি খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন অনবরত। অবশেষে সে সুযোগও পেয়ে যান তিনি।
বলি অভিনেতা রীতেশ দেশমুখের এক আত্মীয়ের নজর পড়েছিল বিনোদের প্রতি। রীতেশের কাছে বিনোদের গুণগান গেয়েছিলেন তিনি। রীতেশও তাঁর কাছে শরীরচর্চার প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন।
বলিপাড়া সূত্রে খবর, রীতেশ যখন পেশার খাতিরে সারা বিশ্বে অনুষ্ঠান করতে বেরিয়েছিলেন, তখন তাঁর সঙ্গী ছিলেন বিনোদ। অনুষ্ঠান করতে গিয়েও বিনোদের কাছে শরীরচর্চার প্রশিক্ষণ নিতেন অভিনেতা।
অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, শিল্পা শেট্টি, এমনকি জন আব্রাহমের মতো বলি তারকাদেরও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বিনোদ। রাতারাতি ফিটনেস প্রশিক্ষক হিসাবে তারকামহলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পারিশ্রমিকও তরতর করে বাড়তে থাকে তাঁর।
ঘণ্টাখানেক শরীরচর্চার প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিবর্তে ২৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক আদায় করতেন বিনোদ। বলি তারকাদের পাশাপাশি শিল্পপতিদের ঘরেও প্রশিক্ষণ দিতে যেতে শুরু করেন তিনি।
আদিত্য বিড়লা গ্রুপের চেয়ারম্যান কুমার মঙ্গলম বিড়লার মেয়ে অনন্যা বিড়লাও নাকি শরীরচর্চার জন্য বিনোদের পরামর্শ নেওয়া শুরু করেন। জনপ্রিয়তার পাশাপাশি ব্যস্ততাও বাড়তে শুরু করে বিনোদের।
এক সাক্ষাৎকারে বিনোদ জানিয়েছিলেন, কেরিয়ারে সাফল্যের চূড়ায় থাকাকালীন দিনে টানা ১৬ ঘণ্টা করে কাজ করতেন তিনি। অম্বানীর পরিবারেও ফিটনেস প্রশিক্ষক হিসাবে কাজ শুরু করেন বিনোদ।
মুকেশ এবং নীতা অম্বানীর পাশাপাশি তাঁদের কনিষ্ঠ পুত্র অনন্ত অম্বানীকে একসময় ছিপছিপে করে তোলার নেপথ্যে পরামর্শ ছিল বিনোদের। ১৮ মাসে ১০৮ কেজি ওজন ঝরানো মুখের কথা নয়। সেই কঠিন কাজও সম্ভব করে তোলেন বিনোদ।
১৮ মাসের মধ্যে অম্বানী-পুত্রের ১০৮ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলানোর পর চর্চায় আসেন বিনোদ। দেশের অধিকাংশ ধনী, শিল্পপতি পরিবারের সদস্যেরা ফিট থাকতে বিনোদকেই ফিটনেস প্রশিক্ষক হিসাবে বেছে নেন।
বর্তমানে মুম্বইয়ে নিজের একটি জিম খুলে ফেলেছেন বিনোদ। অনলাইনেও শরীরচর্চার প্রশিক্ষণ দেন তিনি। ইতিমধ্যে ইনস্টাগ্রামের পাতায় তাঁর অনুগামীর সংখ্যা ১ লক্ষের গণ্ডি পার করে ফেলেছে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বর্তমানে ৫-৬টি বাড়ি কিনে ফেলেছেন বিনোদ। সংগ্রহে দামি গাড়িও রয়েছে তাঁর। সব মিলিয়ে বর্তমানে ১৫ কোটি টাকা সম্পত্তির মালিক তিনি।