Job opportunity In New Zealand

তিন গুণ বেতন, দিতে হবে না পরীক্ষাও! সঙ্কটে থাকা ক্রিকেট-পাগল দ্বীপরাষ্ট্রে অঢেল চাকরি, কাদের সামনে ‘সুবর্ণ সুযোগ’?

দক্ষ ভারতীয় পেশাদারদের জন্য দরজা খুলে দিচ্ছে এশিয়া ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ। সেই তালিকায় যোগ হয়েছে ওশিয়ানিয়া মহাদেশের একটি দ্বীপরাষ্ট্র। মহাসাগরের কোলে থাকা দেশটির একটি সঙ্কট ভারতীয়দের জন্য বর হয়ে উঠেছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০০
Share:
০১ ১৯

চাকরি আছে। কিন্তু সে চাকরি করার লোক নেই। কারণ দেশ ছেড়ে পড়শি দেশে পাড়ি দিচ্ছেন সেখানকার অধিবাসীরা। বিশ্বের অন্যতম সুন্দর দেশ। ছবির মতো সাজানো দেশটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। রয়েছে আধুনিক মানের জীবনযাপনের সমস্ত সুবিধাও। নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দিক থেকে র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০২৫ সালে তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় ক্রিকেট-পাগল দ্বীপরাষ্ট্রটি।

০২ ১৯

আন্তর্জাতিক ভাবে প্রচলিত মানব উন্নয়ন সূচকের উপরের দিকেই জায়গা করে নিয়েছে এই দেশ। জীবনযাত্রার মান, শিক্ষার হার, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার সব ক্ষেত্রেই ইউরোপ ও আমেরিকার শহরগুলির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে দেশটি। তাও মন টিকছে না নিউ জ়িল্যান্ডের বাসিন্দাদের।

Advertisement
০৩ ১৯

দেশত্যাগের হিড়িক বাড়ছে অধিবাসীদের মধ্যে। পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নিউ জ়িল্যান্ডের প্রায় ২০ শতাংশ নাগরিক দেশ ছেড়েছেন। ২০২৪ সালে বাসিন্দাদের ভিন্‌দেশে পাড়ি জমানোর সংখ্যাটা সবচেয়ে বেশি। ১ লক্ষ ২০ হাজার কিউই নাগরিক দেশের পাট চুকিয়ে বিদেশে চলে গিয়েছেন। মোট জনসংখ্যার আড়াই শতাংশ রয়েছেন এই দেশত্যাগীদের দলে। সে দেশের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের অগস্ট পর্যন্ত বছরে ৭৩ হাজার ৯০০ কিউই নাগরিক দেশত্যাগ করেছেন।

০৪ ১৯

নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যের তোয়াক্কা না করেই কেন তল্পিতল্পা গুটিয়ে দেশ ছাড়ছেন অধিবাসীরা? এর প্রধান কারণ হল ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী বাড়িভাড়া। সংবাদমাধ্যমের দাবি, ঘরভাড়া আকাশছোঁয়া হওয়ায় পাততাড়ি গোটাতে বাধ্য হচ্ছেন নিউ জ়িল্যান্ডের তরুণ-তরুণীরা। বিকল্প হিসাবে পছন্দ ২০০০ কিমি দূরে থাকা অস্ট্রেলিয়া।

০৫ ১৯

তুলনামূলক ভাবে বাড়িভাড়ার জন্য খরচ অনেক কম সেখানে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে (২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী) নিউ জ়িল্যান্ডে সাপ্তাহিক গড় ভাড়া ৫১০ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৬৪০ ডলারে (নিউ জ়িল্যান্ড ডলার) পৌঁছেছে। অকল্যান্ড, ওয়েলিংটন এবং ওটাগোর মতো প্রধান শহরগুলিতে এই ভাড়া আরও বেশি। আয়ের সিংহভাগই বাড়িভাড়া মেটাতে খরচ হচ্ছে বাসিন্দাদের।

০৬ ১৯

চাকরির সুযোগও তুলনায় অনেকটাই বেশি অসিদের দেশে। বেতনও আকর্ষণীয়। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ানের’ প্রতিবেদন অনুযায়ী ২২ বছর বয়সি জেনেভিভ ফুলটন নামের এক তরুণ জানুয়ারিতে মেলবোর্নে চলে আসেন। কিউইদের দেশে থাকাকালীন তিনি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২২.৭ নিউ জ়িল্যান্ড ডলার আয় করতে পারতেন। অস্ট্রেলিয়ায় তিনি সপ্তাহান্তে এর দ্বিগুণেরও বেশি আয় করেন বলে জানিয়েছেন জেনেভিভ।

০৭ ১৯

নিউ জ়িল্যান্ডের এই সঙ্কট ভারতীয়দের জন্য বর হয়ে উঠেছে। কর্মীসঙ্কটের কারণে কিউইদের দেশ ভারতীয় পেশাদারদের জন্য স্বপ্নের চাকরির দরজা খুলে দিতে পারে। ঝাঁ-চকচকে শহর। উন্নত অত্যাধুনিক জীবনযাত্রার সুযোগ। সঙ্গে মোটা মাইনের চাকরি। দেশের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি আয়ের হাতছানি। নিউ জ়িল্যান্ডে রয়েছে সব ক’টি সুবিধা।

০৮ ১৯

দক্ষ ভারতীয় পেশাদারদের জন্য তাদের দরজা খুলে দিচ্ছে দেশটি। সেখানে গড় বেতন ভারতের তুলনায় অন্তত তিন গুণ বেশি। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রগুলিতে ভারতীয়দের কাজের সুযোগ বাড়ছে।

০৯ ১৯

বিনিয়োগ ব্যাঙ্কার এবং পেশা উপদেষ্টা সার্থক আহুজার মতে, নিউ জ়িল্যান্ড সরকার উদার ভিসা নীতি এবং আকর্ষণীয় বেতন প্যাকেজের মাধ্যমে বিদেশি প্রতিভাদের জন্য তাদের দেশের দরজা খুলে দিচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলির প্রধান লক্ষ্য কর্মীঘাটতি পূরণ করা এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেন ভারতীয় পেশাদারেরা।

১০ ১৯

শুধুমাত্র ২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি ভারতীয়ের আগমন ঘটেছে কিউইদের দেশে। সংখ্যাটা ২৭ হাজারেরও বেশি। দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণ করতে লাল ফিতের ফাঁসও আলগা করতে পদক্ষেপ করছে দ্বীপরাষ্ট্রটি। ২০২৫ সালের জুন মাসে ভারতীয় ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দেওয়া শুরু করেছে দেশটি। নিয়োগ সমস্যা দূর করতে ভারতীয় অভিবাসীদের অতিরিক্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে ঘোষণা করেছে নিউ জ়িল্যান্ড।

১১ ১৯

ভারতীয় স্নাতকদের আর কর্ম বা আবাসিক ভিসার জন্য আবেদন করার জন্য আন্তর্জাতিক যোগ্যতা মূল্যায়নের পরীক্ষাও দিতে হবে না। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ চাকরির ক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মীঘাটতি রয়েছে নিউ জ়িল্যান্ডে। সেই শূন্যস্থান পূরণের জন্য ভারতীয় কর্মীদের সুবিধা করে দিয়েছে দেশটি। অতএব বাক্সপ্যাঁটরা গুছিয়ে নেওয়ার অপেক্ষা।

১২ ১৯

৫টি প্রধান ক্ষেত্রকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টির সরকার। এই বিশেষ ক্ষেত্রগুলিকে সবুজ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে যার জন্য তাৎক্ষণিক ভাবে আবাসিক ভিসা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, অর্থাৎ ডাক্তার, নার্স, চিকিৎসা সংক্রান্ত পেশাদার হলে ভিসা পেতে কোনও কষ্টই করতে হবে না।

১৩ ১৯

সিভিল, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, সফ্‌টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং ডেটাবেস ম্যানেজার বা ডেভেলপারদের জন্য চাকরির সুযোগ রয়েছে। পরিবেশবিজ্ঞানী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষক, এমনকি হিসাবরক্ষক এবং বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদেরও চাহিদা রয়েছে নিউ জ়িল্যান্ডে। ফলে এই দেশে পাড়ি জমালে খুলে যেতে পারে ভারতীয়দের সৌভাগ্যের ঝাঁপি।

১৪ ১৯

এই ধরনের চাকরির জন্য ভিসা পেতে দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার প্রমাণ-সহ সে দেশের চাকরিতে নিয়োগের চিঠি দিতে হবে। এই শিথিল নিয়মই বলে দেয় দেশটিতে এই মুহূর্তে বিদেশি দক্ষতা কতটা জরুরি।

১৫ ১৯

নিউ জ়িল্যান্ডে যাওয়া বেশির ভাগ মানুষই এই ভিসাকে অস্ট্রেলিয়ায় বৈধ ভাবে প্রবেশের জন্য ‘খিড়কি দুয়ার’ হিসাবে ব্যবহার করে থাকেন। দ্বীপরাষ্ট্রটিতে কর্মসূত্রে পাঁচ বছর ধরে বসবাসের পর অভিবাসীরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।

১৬ ১৯

এই নাগরিকত্ব পাওয়ার পর নিউ‌ জ়িল্যান্ড থেকে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে কাজ করার যোগ্য হয়ে ওঠেন তাঁরা। কিছু দিন পর মোটা বেতনের খোঁজে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান এবং চার বছর কাজ করার পর সে দেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করে থাকেন অনেকেই।

১৭ ১৯

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউ জ়িল্যান্ড এমন এক বিশ্বে একটি বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ করেছে যেখানে অভিবাসন রাজনীতির জায়গা নেই। সারা বিশ্বে বিরল উদাহরণ তৈরি করেছে দেশটি। তাদের কেবল দক্ষ অভিবাসী প্রয়োজন এবং পেশাদারিত্বের উপর ভরসা রেখেই সমস্ত নিয়মের ফাঁস আলগা করতে তারা প্রস্তুত। সুদক্ষ কর্মীদের অভাব পূরণের জন্য কিউইদের ভরসাস্থল হয়ে উঠছেন ভারতীয়েরাই।

১৮ ১৯

এই দেশটি ছাড়াও দক্ষ ভারতীয় পেশাদারদের জন্য তাদের দরজা খুলে দিচ্ছে এশিয়া ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ। এই দেশগুলির গড় বেতন ভারতের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং গণিত‌ের ক্ষেত্রগুলিতে ভারতীয়দের কাজের সুযোগ বাড়ছে।

১৯ ১৯

জীবনযাত্রার খরচ তুলনামূলক ভাবে বেশি হলেও আয়ের সম্ভাবনা, জীবনযাত্রার মান এবং পেশাদারিত্বের নানা সুবিধার কারণে ভারতীয় তরুণ প্রজন্মের কাছে স্বপ্নের গন্তব্য হয়ে উঠছে রাশিয়া, জার্মানি, জাপান, ফিনল্যান্ড, লাক্সেমবার্গের মতো দেশগুলিও।

সব ছবি:সংগৃহীত ও এআই সহায়তায় প্রণীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement