Pakistan Afghanistan War

পঠানভূমিতে প্রাণ বাঁচাতে ‘নাকে খত’! রুশ-আমেরিকার পর ‘কাবুলিওয়ালার দেশে’ নিজের কবর খুঁড়ছে পাকিস্তান?

‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে পশ্চিমের প্রতিবেশী আফগানিস্তানে ঢুকে আক্রমণ শানাচ্ছে পাকিস্তানের ফৌজ। পাল্টা ‘ডুরান্ড লাইন’ সীমান্তে প্রত্যাঘাতে নেমেছে পঠানভূমির তালিবান যোদ্ধারা। অতীতে ‘কাবুলিওয়ালার দেশ’ দখলে গিয়ে লেজে-গোবরে দশা হয়েছে ব্রিটিশ, সোভিয়েত এবং মার্কিন বাহিনীর।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:০২
Share:
০১ ২০

আর জঙ্গিদমনের নামে সীমান্ত পার সামরিক অভিযান নয়। এ বার সরাসরি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধে’ (ওপেন ওয়ার) নামল পাকিস্তান। পশ্চিমের প্রতিবেশীর রাজধানী কাবুল এবং সেখানকার ক্ষমতায় থাকা তালিবানের গড় হিসাবে পরিচিত কন্দহরে ইতিমধ্যেই বোমাবর্ষণ করেছে ইসলামাবাদের বিমানবাহিনী। পাল্টা প্রত্যাঘাত শানাতে ‘ডুরান্ড লাইনে’ আগুন ছড়াচ্ছে পঠান-লস্কর। দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এই সংঘাতে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রপুঞ্জ। অন্য দিকে, রাওয়ালপিন্ডির ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

০২ ২০

চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি পঠানভূমির আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ‘এয়ারস্ট্রাইক’ চালায় পাক বায়ুসেনা। ওই দিনই রাতে প্রত্যাঘাত শানাতে ইসলামাবাদের সীমান্তরক্ষীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তালিবানের লড়াকু বাহিনী। ‘ডুরান্ড লাইনে’ (পাক-আফগান সীমান্ত) তাঁদের লাগাতার গুলিবর্ষণের মুখে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশ কয়েকটি সেনাচৌকি। এর পরই পশ্চিমের প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে খোলাখুলি যুদ্ধ ঘোষণা করেন রাওয়ালপিন্ডির ফৌজি জেনারেলরা, যার পোশাকি নাম ‘অপারেশন গজ়াব লিল-হক’।

Advertisement
০৩ ২০

আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে মুখ খোলেন ইসলামাবাদের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। তাঁর দাবি, ‘‘তালিবান লড়াকুদের ২৯৭ জনকে নিকেশ করছে পাক ফৌজ। আহত আরও ৪৫০। তা ছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় ৮৯টি সেনাচৌকি ধ্বংস এবং ১৮টি চৌকি দখল করতে সক্ষম হয়েছে তাঁদের বাহিনী। পাশাপাশি ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া গাড়ি মিলিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ১৩৫টি সামরিক যান।’’ পাক মন্ত্রীর কথা সত্যি হলে লড়াইয়ের শুরুতেই যে রাওয়ালপিন্ডি দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

০৪ ২০

আতাউল্লাহ জানিয়েছেন, হিন্দুকুশের বুকে তালিবানের ২৯টি গুপ্ত ঠিকানায় নিখুঁত নিশানায় বোমাবর্ষণ করেছে ইসলামাবাদের বিমানবাহিনী। সংবাদসংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে আফগানিস্তানের নঙ্গরহার প্রদেশের রাজধানী জালালাবাদ। ফলে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন আতঙ্কিত এলাকাবাসী। তাঁদের মধ্যে দৌড়োদৌড়ি পড়ে যায়। ওই সময় একাধিক পাক লড়াকু জেটকে পঠানভূমির আকাশে বাধাহীন ভাবে চক্কর কাটতে দেখা গিয়েছিল।

০৫ ২০

অন্য দিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে বিবৃতি দেন তালিবানের সামরিক মুখপাত্র ওয়াহিদুল্লাহ মহম্মদি। তাঁর দাবি, ইসলামাবাদের একটি লড়াকু জেটকে গুলি করে নামিয়েছে আফগান বাহিনী। ফলে তাদের হাতে বন্দি রয়েছেন যুদ্ধবিমানটির পাইলট। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলির দাবি, ‘ডুরান্ড লাইনে’ মাঝেমধ্যেই আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াচ্ছে পঠান-লস্কর। তাঁদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন রাওয়ালপিন্ডির ৫৫ জন সৈনিক। একাধিক পাক চৌকিও ধ্বংস করেছে তাঁরা। ফলে পরিস্থিতি যে জটিল হচ্ছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

০৬ ২০

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সম্প্রতি সামরিক শক্তির নিরিখে ১৪৫টি দেশের একটা তালিকা প্রকাশ করে ‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স’। তাতে ১৪ নম্বরে রয়েছে পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তানের নাম। অন্য দিকে তালিবান শাসিত আফগানিস্তান আছে ১২১ নম্বরে। ফলে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হতেই প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন। কাবুলের পতন কি তবে সময়ের অপেক্ষা? সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যা পারেনি, এ বার সেটাই করে দেখাবেন ইসলামাবাদের সিডিএফ (চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস) ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির?

০৭ ২০

বিশ্লেষকদের দাবি, পাকিস্তানের পক্ষে এই কাজ একেবারেই সহজ নয়। কারণ, উনিশ শতক থেকে পর্যায়ক্রমে পঠানভূমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে ইংরেজ, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই লক্ষ্যে লম্বা সময় ধরে যুদ্ধ করতে হয়েছে তাঁদের। গোড়ায় সাফল্য মিললেও শেষে ‘নাকে খত’ দিয়ে হিন্দুকুশের কোলের দেশটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে এই তিন বিশ্বশক্তি। শুধু তা-ই নয়, লড়াই থামার দু’বছরের মাথায় ভেঙে টুকরো হয়ে যায় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। তার পর আর কখনওই পুরোনো গৌরব ফিরে পায়নি মস্কো।

০৮ ২০

উনিশ শতকে অবিভক্ত ভারত মোটের উপর কব্জা হয়ে গেলে আফগানিস্তানের উপর নজর পড়ে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির। এ দেশের গভর্নর জেনারেলের গদিতে তখন লর্ড জর্জ এডেন অকল্যান্ড। ওই সময় হিন্দুকুশের কোলের দেশটিতে প্রভাব বিস্তারে মরিয়া হয়ে ওঠেন রাশিয়ার জ়ার (সম্রাট)। আমু দরিয়া পেরিয়ে মস্কোর ফৌজ পঠানভূমে ঢুকুক, তা কখনওই চাননি অকল্যান্ড। ফলে ১৮৩৯ সালে স্থলবেষ্টিত পাহাড় ঘেরা রাষ্ট্রটিতে সামরিক বাহিনী পাঠিয়ে দেন তিনি। ইতিহাসে যা প্রথম অ্যাংলো-আফগান যুদ্ধ নামে পরিচিত।

০৯ ২০

ভারতীয় উপমহাদেশে তত দিনে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ফৌজ। ফলে কাবুল দখল করতে তাদের বেশি বেগ পেতে হয়নি। কিন্তু অচিরেই ধীরে ধীরে নিজেদের সংগঠিত করে পাল্টা হামলা চালাতে শুরু করে পঠানযোদ্ধার দল। তাঁদের চোরাগোপ্তা আক্রমণে কোম্পানির বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছিল। শেষে ১৮৪২ সালে একরকম হার স্বীকার করেই সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য হন অকল্যান্ড। এর পর আরও দু’বার আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে ইংরেজরা। যদিও ফলাফলে কোনও পরিবর্তন হয়নি।

১০ ২০

১৮৭৮-’৮০ সাল পর্যন্ত চলেছিল দ্বিতীয় অ্যাংলো-ব্রিটিশ যুদ্ধ। এতে মার খাওয়ার পর ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা নির্ধারণে পঠানভূমির আমির (রাজা) আবদুর রহমান খানের সঙ্গে একটি চুক্তি সারেন কাবুলের ইংরেজ সচিব তথা কূটনীতিবিদ স্যর হেনরি মর্টিমার ডুরান্ড। সেই সমঝোতা মেনে ২,৬৭০ কিলোমিটার সীমান্তে টানা হয় ‘ডুরান্ড লাইন’। দেশভাগের পর যাকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের স্বীকৃতি দেয় পাকিস্তান। যদিও ‘ডুরান্ড লাইন’কে সীমান্ত মেনে নেওয়ার ব্যাপারে পরবর্তী কালে আপত্তি তুলতে শুরু করেন আফগানিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

১১ ২০

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-’৪৫ সাল) পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ঠান্ডা লড়াই’য়ে (কোল্ড ওয়ার) জড়িয়ে পড়ে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ান। মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বাড়াতে ওই সময় আফগানিস্তানে নিজেদের ‘পুতুল সরকার’ তৈরি করতে চেয়েছিল মস্কো। সেই লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালে আমু দরিয়া পেরিয়ে পঠানভূমিতে সামরিক অভিযান চালায় ক্রেমলিন। লড়াইয়ের প্রথম দিকে দুর্দান্ত সাফল্য পায় সোভিয়েত ফৌজ। খুব সহজেই কাবুল দখল করে ফেলে তাঁরা। শুধু তা-ই নয়, কাবুলের গদিতে পছন্দের ব্যক্তিকে বসাতেও সফল হন সোভিয়েতের কর্তা-ব্যক্তিরা।

১২ ২০

কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই আমূল বদলে যায় পরিস্থিতি। আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত ফৌজকে তাড়াতে আসরে নামে মার্কিন গুপ্তচরবাহিনী সিআইএ (সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি)। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের (ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স) সঙ্গে যোগসাজশে পঠানভূমিকে এক ভয়ঙ্কর গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয় তারা। তাদের হাত ধরে তৈরি হয় ‘মুজ়াহিদিন’ বা ধর্মযোদ্ধাদের ফৌজ, যাদের সামরিক প্রশিক্ষণ এবং হাতিয়ার সরবরাহ করে ওয়াশিংটন এবং ইসলামাবাদ। এই ষড়যন্ত্রের পোশাকি নাম ‘অপারেশন সাইক্লোন’ রেখেছিল সিআইএ।

১৩ ২০

আমেরিকার এই চাল বুঝতে ব্যর্থ হয় সোভিয়েত ফৌজ। ফলে ‘মুজ়াহিদিন’দের সঙ্গে গেরিলা যুদ্ধে দিন দিন নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছিল তাদের। এতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে সরকারের খরচ। শেষে ১৯৮৯ সালে পঠানভূমি থেকে সৈন্য প্রত্যাহারে বাধ্য হয় মস্কো। কাবুলে অবশ্য তখনও ছিল তাদের অনুগামী সরকার। ক্রেমলিন বাহিনী সরানোর পর সেটাও আর টেকেনি। উল্টে সোভিয়েত অর্থনীতির বেহাল দশা বেআব্রু হয়ে পড়ে। ১৯৯১ সালে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নটি ভেঙে গিয়ে জন্ম হয় রাশিয়া-সহ ১৫টি স্বাধীন রাষ্ট্রের।

১৪ ২০

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যাত্রিবাহী বিমান ছিনতাই করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক জায়গায় হামলা চালায় কুখ্যাত জঙ্গিগোষ্ঠী ‘আল কায়দা’। তাদের আত্মঘাতী আক্রমণে ভেঙে গুঁড়িয়ে যায় নিউ ইয়র্ক শহরের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের (ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার) গগনচুম্বী জোড়া ইমারত। সন্ত্রাসীরা আমেরিকার যুদ্ধ দফতরের (ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার) সদর কার্যালয় পেন্টাগনকেও নিশানা করেছিল। ওই ঘটনায় সব মিলিয়ে প্রাণ হারান ২,৯৭৭ জন। এর জেরে খবরের শিরোনামে উঠে আসে একটাই নাম, ওসামা বিন-লাদেন। তিনিই ছিলেন ওই হামলার মূল চক্রী।

১৫ ২০

৯/১১ হামলার সময় ‘আল-কায়দা’ প্রধান বিন-লাদেন লুকিয়ে ছিলেন আফগানিস্তানে। কাবুলের কাছে তাঁকে ফেরত চেয়ে পাঠায় আমেরিকা। হিন্দুকুশের কোলের রাষ্ট্রটির শাসনক্ষমতা তত দিনে হাতে নিয়ে ফেলেছে ‘মুজ়াহিদিন’দের উত্তরসূরি তালিবান। ওয়াশিংটনের প্রস্তাব পত্রপাঠ ফিরিয়ে দেয় তারা, যার জেরে পঠানভূমি আক্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের সঙ্গে ছিল ব্রিটেন-সহ নেটোভুক্ত একাধিক দেশের ফৌজ। সংশ্লিষ্ট সামরিক অভিযানের পোশাকি নাম রাখা হয় ‘অপারেশান এন্ডুরিং ফ্রিডম’।

১৬ ২০

আমেরিকার আক্রমণে অচিরেই গুঁড়িয়ে যায় আফগানভূমির ‘আল-কায়দা’র যাবতীয় গোপন ঘাঁটি। কাবুল ছেড়ে পালাতে হয় তালিবানকেও। ফলে সেখানে নিজের পছন্দসই সরকার প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের তেমন সমস্যা হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গোপন আস্তানা থেকে মার্কিন ফৌজের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে থাকেন তালিবানের রাজনৈতিক নেতারা, যার জেরে সোভিয়েত সেনার মতোই অবস্থা হয় ওয়াশিংটনের বাহিনীর। শেষে ২০২১ সালে হিন্দুকুশের কোলের দেশ ছাড়ে আমেরিকা, দ্বিতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় ফেরে তালিবান।

১৭ ২০

আর তাই পাক-আফগান যুদ্ধ শুরু হতেই বার বার ঘুরেফিরে আসছে পঠান-লস্করের হার না মানা মনোভাবের কথা। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের বড় অংশই মনে করেন, হিন্দুকুশের কোলের দেশটির ভিতরে ঢুকলে চক্রব্যূহে আটকা পড়বে ইসলামাবাদের ফৌজ। তালিবানের সেই গেরিলা আক্রমণ ঠেকানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। যদিও ধারে ও ভারে এগিয়ে আছে রাওয়ালপিন্ডি। তাদের সৈন্যসংখ্যা ৫.৬ লক্ষ। পাশাপাশি, ৬,০০০-এর বেশি সাঁজোয়া গাড়ি এবং ৪,৬০০ কামান রয়েছে মুনির বাহিনীর কাছে।

১৮ ২০

আফগান যুদ্ধে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শক্তি হল তাদের বিমানবাহিনী। ইসলামাবাদের হাতে আছে ৪৫০-এর বেশি লড়াকু জেট এবং প্রায় ২৫০টি সামরিক হেলিকপ্টার। পাশাপাশি, তুরস্কের তৈরি একাধিক আত্মঘাতী ড্রোন রয়েছে তাদের। উল্টো দিকে তালিবানের কোনও বায়ুসেনা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী নেই। পুরনো আমলের মাত্র ২৩টা সামরিক কপ্টার রয়েছে তাদের। লড়াই চালাতে আপাতত সোভিয়েত এবং আমেরিকার ফেলে যাওয়া হাতিয়ারের উপরেই ভরসা করতে হচ্ছে তালিব যোদ্ধাদের।

১৯ ২০

যদিও ইতিমধ্যেই তালিবান যোদ্ধারা ড্রোনহামলা চালিয়েছে বলে খবর। সাবেক সেনাকর্তাদের কথায়, লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হলে হিন্দুকুশকে আড়াল করে গেরিলা যুদ্ধে নামবে পঠান লস্কর। তখনই ইসলামাবাদের ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকছে। তা ছাড়া দীর্ঘ দিন ধরেই অশান্তির আগুনে পুড়ছে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বালোচিস্তান। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সেখানকার বিদ্রোহীরা আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ালে রাওয়ালপিন্ডির জ়েনারেলরা যে সাঁড়াশি চাপে পড়বেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

২০ ২০

ইতিহাসবিদদের কাছে ‘সাম্রাজ্যের সমাধিস্থল’ হিসাবে আফগানিস্তানের আলাদা পরিচয় রয়েছে, যার সর্বশেষ জ্বলন্ত উদাহরণ হল সোভিয়েতের পতন। হিন্দুকুশের কোলের দেশটিতে যুদ্ধ শুরু করে একই পরিণতির দিকে এগোচ্ছে পাকিস্তান? আগামী দিনে মিলবে এই প্রশ্নের উত্তর।

সব ছবি: সংগৃহীত, রয়টার্স ও এআই সহায়তায় প্রণীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement