Bollywood Gossip

বাবার নায়িকার সঙ্গে চারটি ছবিতে রোম্যান্স, একটি ছবি সুপারহিট হলেও অভিনেত্রীর সঙ্গে আর কাজই করেননি তারকা-পুত্র

একই বছরে পর পর তিনটি ছবি মুক্তি পেয়েছিল দুই তারকার। অভিনেত্রী ছিলেন অভিনেতার বাবার নায়িকা। বলিউডের ডাকসাইটে সুন্দরী অভিনেত্রী। বাবার নায়িকার সঙ্গে বড়পর্দায় ভরপুর রোম্যান্স করেছিলেন সেই তারকা-পুত্র।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ১১:১৬
Share:
০১ ১৭

বলিউডের ডাকসাইটে সুন্দরী অভিনেত্রী। তার উপর আবার বাবার নায়িকা। বলিপাড়ার ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্রের পুত্র সানি দেওল নাকি শ্রীদেবীকে সমঝে চলতেন। পর পর চারটি ছবিতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছিলেন তাঁরা। তার মধ্যে দু’টি ছবি বক্সঅফিসে মুখ থুবড়ে পড়়ে। কিন্তু একটি ছবি সুপারহিট হয়। তার পর আর শ্রীদেবীর সঙ্গে কখনও অভিনয়ই করেননি সানি।

০২ ১৭

১৯৮৮ সালে ‘রাম-অবতার’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করেছিলেন শ্রীদেবী এবং সানি। অনিল কপূরও অভিনয় করেছিলেন সেই ছবিতে। পরের বছর তিন তিনটি ছবি মুক্তি পায় শ্রীদেবী এবং সানির। সেগুলির মধ্যে দু’টি ছবি লক্ষ্মীলাভ করেনি। কিন্তু তৃতীয় ছবিটি সব সুদে আসলে পুষিয়ে দিয়েছিল।

Advertisement
০৩ ১৭

১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘জোশিলে’। এই ছবিতে শ্রীদেবী, সানি এবং অনিল ছাড়াও অভিনয় করেছিলেন মীনাক্ষী শেষাদ্রি, সতীশ কৌশিক, কুলভূষণ খরবন্দা এবং রাজেশ বিবেকের মতো তারকা। সিবতে হাসান রিজ়ভি পরিচালিত এই ছবির সংলাপ এবং চিত্রনাট্য নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন জাভেদ আখতার। ছবির সঙ্গীত নির্দেশক ছিলেন রাহুল দেব বর্মন।

০৪ ১৭

‘জোশিলে’ ছবির পরিচালনার দায়িত্ব প্রথমে ছিল শেখর কপূরের উপর। ছবির প্রযোজক ছিলেন সিবতে। কিন্তু ছবির শুটিং চলাকালীন প্রযোজকের সঙ্গে সৃজনশীল মতপার্থক্য সৃষ্টি হয় শেখরের। মাঝপথে শুটিং ছেড়ে চলে যান শেখর। প্রযোজনার পাশাপাশি পরিচালনারও দায়িত্বে এসে পড়ে সিবতের উপর। শেষ অর্ধটি সিবতেই পরিচালনা করেন।

০৫ ১৭

ছবির কিছু কিছু দৃশ্য লেহ এবং লাদাখে শুট করা হয়েছিল। ১৯৮৫ সালে ছবির গানগুলি মুক্তি পেয়েছিল বটে, কিন্তু নানা কারণে ছবির মুক্তির দিন পিছিয়ে যেতে শুরু করে। গানমুক্তির চার বছর পর ১৯৮৯ সালে প্রেক্ষাগৃহে ‘জোশিলা’ ছবিটি মুক্তি পায়। যদিও এই বিলম্ব নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেন সানি।

০৬ ১৭

‘জোশিলে’ প্রথম হিন্দি ছবি যেখানে শ্রীদেবী এবং মীনাক্ষী একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। এর আগে ‘মহাগুরু’ ছবিতে দুই অভিনেত্রী অভিনয় করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু মীনাক্ষীকে দেখা গিয়েছিল মুখ্যচরিত্রে। অন্য দিকে, শ্রীদেবী সেই ছবির একটি মাত্র গানের দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন।

০৭ ১৭

তারকা সমন্বিত ছবি হলেও বক্সঅফিসে ব্যবসা করতে পারেনি ‘জোশিলে’। একই সময় মুক্তি পেয়েছিল বিনোদ খন্নার ‘সূর্য: অ্যান অ্যাওয়েকিং’। বক্সঅফিসে এই ছবিটির সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে যায় সানি-শ্রীদেবীর ‘জোশিলে’।

০৮ ১৭

‘জোশিলে’র ব্যর্থতার কয়েক মাস পর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সানি-শ্রীদেবীর ‘নিগাহেঁ: নাগিনা পার্ট ২’। ১৯৮৬ সালে শ্রীদেবী এবং ঋষি কপূর অভিনীত ‘নাগিনা’ ছবির সিক্যুয়েল ছিল সেটি। প্রথম ছবিটির দুর্দান্ত সাফল্য দেখে সিক্যুয়েল বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ছবিনির্মাতারা।

০৯ ১৭

সিক্যুয়েলের নায়িকার মুখ বদল না করে নায়ক পরির্তন করেছিলেন ছবিনির্মাতারা। কিন্তু ‘নাগিনা’র মতো ব্যবসা করতে ব্যর্থ হয় সানি-শ্রীদেবীর ছবি। ১৯৮৯ সালের অগস্টে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নিগাহেঁ: নাগিনা পার্ট ২’ ছবিতে সানি এবং শ্রীদেবী ছাড়াও অভিনয় করেছিলেন প্রাণ, অনুপম খের ও গুলশন গ্রোভার।

১০ ১৭

আনন্দ বক্সীর লেখা গানের বাণী এবং লক্ষ্মীকান্ত প্যারেলাল জুটির সঙ্গীতনির্মাণের কারণে ‘নিগাহেঁ: নাগিনা পার্ট ২’ ছবির গানগুলি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। একই দিনে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল অমিতাভ বচ্চনের ‘তুফান’। অমিতাভের ছবিটির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়তে ব্যর্থ হয় ‘নিগাহেঁ: নাগিনা পার্ট ২’।

১১ ১৭

কানাঘুষো শোনা যায়, ‘নিগাহেঁ: নাগিনা পার্ট ২’ বক্সঅফিসে ভাল ব্যবসা করতে পারলে তার তৃতীয় পর্ব নির্মাণ নিয়ে আলোচনায় বসতেন ছবিনির্মাতারা। কিন্তু সানি-শ্রীদেবীর ছবিটি সেই আশায় জল ঢেলে দেয়।

১২ ১৭

১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘চালবাজ’। আবার শ্রীদেবী এবং সানিকে জু়টি বেঁধে অভিনয় করতে দেখা যায়। একই বছরে মুক্তি পাওয়া পর পর দু’টি ছবি সফল হয়নি বলে পরের ছবির চুক্তিতে সই করতে দোনোমোনো করছিলেন সানি। যদিও, শেষমেশ তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি হন।

১৩ ১৭

পঙ্কজ পরাশরের পরিচালিত ‘চালবাজ’ ছবির শুটিংয়ের সময়ই নাকি শ্রীদেবীর আচরণ দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন সানি। অভিনয়ের পাশাপাশি নৃত্যেও পারদর্শী ছিলেন শ্রীদেবী। ছবির ‘না জানে কহাঁ সে’ গানটির শুটিং নিয়ে কৌতূহলী হয়ে পড়েছিলেন শ্রীদেবী। সানির সঙ্গে এই গানের দৃশ্যে অভিনয় করতে হত তাঁকে। গানটির শুটিং তিন দিনের মধ্যে শেষ করতে হত তাঁদের।

১৪ ১৭

কী ভাবে প্রতিটি দৃশ্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায় তা নিয়ে মতামত রাখছিলেন শ্রীদেবী। নায়িকার মতামত শুনে রাজিও হয়ে গিয়েছিলেন পরিচালক। সানিকে যে শ্রীদেবীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নাচতে হবে সে কথা অভিনেতাকে জানিয়েছিলেন কোরিয়োগ্রাফার সরোজ খান। সে কথা শোনার পরেই নাকি সেখান থেকে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছিলেন সানি।

১৫ ১৭

শৌচালয়ে যাওয়ার নাম করে সেট থেকে ‘নিরুদ্দেশ’ হয়ে গিয়েছিলেন সানি। পুরো ফ্লোরে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না তাঁকে। অন্য দিকে, শট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলেন শ্রীদেবী। অভিনেতাকে ছাড়া শুট করা যাবে না বলে তাঁকেও অপেক্ষা করতে হচ্ছিল। টানা দু’ঘণ্টা পর সেটে ফিরেছিলেন সানি। তার পর গানের শুটিং শেষ করেন দুই তারকা।

১৬ ১৭

পরিচালক এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, শ্রীদেবী যে হেতু দুর্দান্ত নাচ করতেন তাই তাঁর সঙ্গে পারফর্ম করতে নাকি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন সানি। পরে ভয় নিয়ন্ত্রণে এলে নিজেই সেটে পৌঁছে যান অভিনেতা। বলিপাড়ায় কানাঘুষো শোনা যায় যে, শ্রীদেবীকে নাকি বেশ খানিকটা সমঝে চলতেন সানি। নায়িকার সঙ্গে ঠাট্টা-ইয়ার্কির সম্পর্ক ছিল না তাঁর।

১৭ ১৭

শ্রীদেবী প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে সানি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘‘শ্রীদেবীর সঙ্গে আমার বেশি কথাবার্তাই হত না। শ্রীদেবী যে ভাবে নিজেকে সকলের সামনে তুলে ধরতেন হয়তো তা দেখেই বেশি ঘনিষ্ঠ হতে পারিনি। তিনি দুর্দান্ত এক অভিনেত্রী ছিলেন। সেটের মধ্যেই তিনি কোনও দৃশ্যে তাৎক্ষণিক বদল আনতে পারতেন। শ্রীদেবীর সঙ্গে কাজ করার সময় নিজেকে সর্বদা সতর্ক রাখতে হত।’’

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement