শুরুতেই রাম-ধাক্কা। ব্যর্থ ‘ইসলামাবাদ টক্স’। ফলে নতুন করে ইরান বনাম আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যুদ্ধ বাধা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ। পশ্চিম এশিয়ায় এ-হেন সংঘাত-শঙ্কার মধ্যেও সকলের চোখ কিন্তু আটকে আছে পাকিস্তানে। কারণ, তেহরান-ওয়াশিংটন মধ্যস্থতায় সুবিধা করতে না পারলেও দুই শত্রুর মধ্যে ‘সেতুবন্ধনের’ অতীত ইতিহাস ইসলামাবাদের নেহাত মন্দ নয়। এ বার কেন তারা ব্যর্থ? নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে কেউ?
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থামাতে গত ১১ এপ্রিল ‘ইসলামাবাদ টক্স’ আয়োজিত হয় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানে। সেখানে যোগ দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ও ইরানি পার্লামেন্টের অধ্যক্ষ (স্পিকার) মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বেশ কিছু ক্ষণ পর শান্তি বৈঠক থেকে বেরিয়ে দু’পক্ষই জানিয়ে দেয় যে আলোচনা ফলপ্রসু হয়নি। পরে এই নিয়ে আলাদা আলাদা করে বিবৃতি দিয়েছেন ভান্স ও গালিবাফ। সেখানে একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপাতে দেখা গিয়েছে তাঁদের।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের কথায়, এই ধরনের সংঘাত পরিস্থিতিতে যুযুধান দুই পক্ষকে আলোচনার টেবলে বসানোর ব্যাপারে মুনশিয়ানা রয়েছে পাকিস্তানের। শুধু তা-ই নয়, ‘বিপজ্জনক’ বিদেশনীতি বহু ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের জন্য ‘শাপে বর’ হয়েছে বললে অত্যুক্তি হবে না। উদাহরণ হিসাবে, গত শতাব্দীর ৬০ এবং ৭০-এর দশকের কথা বলা যেতে পারে। সেই সময় পুঁজিবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কমিউনিস্ট চিনের মধ্যে ‘করমর্দনের’ নেপথ্য কারিগর ছিল ভারতের পশ্চিমের প্রতিবেশী।
সালটা ১৯৬৯। ‘ঠান্ডা লড়াই’কে (কোল্ড ওয়ার) কেন্দ্র করে সে সময় আমেরিকা ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ক্রমশ চড়ছিল পারদ। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে তখন রিপাবলিকান পার্টির রিচার্ড নিক্সন। তাঁর বিদেশ সচিব ছিলেন ক্ষুরধার মস্তিষ্কের এক ইহুদি, নাম হাইনৎজ় আলফ্রেড কিসিংগার। অন্য দিকে কমিউনিস্ট ভাবাদর্শকে আঁকড়ে ধরে তখন ধীরে ধীরে উন্নতি করছে গণপ্রজাতন্ত্রী চিন (পিপল্স রিপাবলিক অফ চায়না)। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মতাদর্শগত মিল থাকায় মস্কোর সঙ্গে বেজিঙের ‘বন্ধুত্ব’ গড়ে উঠতে বেশি সময় লাগেনি।
গত শতাব্দীর ৬০-এর দশকের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বেশ বেকায়দায় পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, তত দিনে ভিয়েতনাম যুদ্ধে ভাল রকম জড়িয়ে পড়েছে ওয়াশিংটন। ফলে প্রায়ই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাহাড় ও জঙ্গলে ঘেরা ছোট্ট দেশটিতে মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণ করতে হচ্ছে মার্কিন বিমানবাহিনীকে। পাশাপাশি, চলছে হুমকি ও অন্যান্য চাপ তৈরির চেষ্টা। কিন্তু, এত কিছুর পরেও কাঙ্ক্ষিত সামরিক বিজয় অধরা। উল্টে লড়াইয়ের জন্য বিপুল পরিমাণে ডলার খরচ হচ্ছিল নিক্সনের। পাশাপাশি ঘরের মাটিতেও প্রবল প্রতিবাদের মুখে পড়েন তিনি।
এ-হেন পরিস্থিতিতে চিন-সোভিয়েত ‘মৈত্রী’তে প্রমাদ গোনে আমেরিকা। ফলে যে কোনও উপায়ে তাঁদের মধ্যে ভাঙন ধরাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন নিক্সন। ডাক পড়ে কিসিংগারের। প্রকাশ্যে বেজিঙের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ গড়ে তোলা যে অসম্ভব, তা বুঝতে তৎকালীন মার্কিন বিদেশ সচিবের বেশি সময় লাগেনি। কারণ, কমিউনিস্ট ড্রাগনভূমিতে তখন পশ্চিমি হাওয়া ঢোকা পুরোপুরি বন্ধ। তা ছাড়া মান্দারিনভাষীদের ‘অন্দরমহলে’ সজাগ দৃষ্টি ছিল সোভিয়েত গুপ্তচর সংস্থা কেজিবির (কমিতেত গোসুডার্স্টভেনয় বেজ়োপাসনস্তি)।
অন্য দিকে ১৯৬২ সালের যুদ্ধে চিনা লালফৌজের অতর্কিত আক্রমণে নয়াদিল্লির পরাজয় ইসলামাবাদ-বেজিঙের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করে। ১৯৬৫ সালে দ্বিতীয় ভারত-পাক যুদ্ধে এ দেশের বাহিনীর হাতে মার খেয়ে ড্রাগনের সঙ্গে সেই সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে বাধ্য হন রাওয়ালপিন্ডির জেনারেলরা। ফলে এই সুযোগকে কাজে লাগাতে দেরি করেননি কিসিংগার। মান্দারিনভাষীদের ঘরে সিঁদ কাটতে পশ্চিমের প্রতিবেশীর সেনাশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ৭০-এর দশকে এক দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অপর দিকে চিনের সঙ্গে দিব্যি সুসম্পর্ক রেখে এগোচ্ছিল পাকিস্তান। পাশাপাশি, ভারত বিরোধিতা বজায় রাখতে বিপুল পরিমাণে অত্যাধুনিক পশ্চিমি হাতিয়ার পেতে আগ্রহী হয়ে ওঠে ইসলামাবাদ। কিসিংগার সেটা পূরণ করার ইঙ্গিত দিতেই ওয়াশিংটন ও বেজিঙের মধ্যে ‘ভাব-ভালবাসা’ তৈরিতে উদ্যোগী হন জেনারেল আগা মহম্মদ ইয়াহিয়া খান। ১৯৬৯ সালের মার্চেই পূর্বসূরি ফিল্ড মার্শাল মহম্মদ আয়ুব খানকে সরিয়ে প্রেসিডেন্টের কুর্সি হাতিয়ে নিয়েছিলেন এই পাক সামরিক শাসক।
১৯৭১ সালের জুলাইয়ে পাকিস্তান সফরে যান কিসিংগার। ইসলামাবাদে পৌঁছে অসুস্থতার ‘নাটক’ শুরু করেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে পর্দার আড়ালে নিয়ে যায় ইয়াহিয়া প্রশাসন। গভীর রাতে অত্যন্ত গোপনে একটি চার্টার্ড বিমানে সেখান থেকে বেজিং যান তিনি। ড্রাগনভূমিতে পৌঁছে তৎকালীন চিনা প্রধানমন্ত্রী চৌ এনলাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক সারেন কিসিংগার। আর তাতেই ধীরে ধীরে গলতে শুরু করে সম্পর্কের বরফ। পাক সহায়তায় মার্কিন বিদেশ সচিবের এই সাজানো চিত্রনাট্যের সাঙ্কেতিক নাম ছিল ‘অপারেশন মার্কো পোলো’।
১৯৭১ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয় বারের জন্য ড্রাগনভূমিতে যান কিসিংগার। সেটা ওয়াশিংটন ও বেজিঙের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও কিছুটা সহজ করে তোলে। এর ঠিক পরের বছর (পড়ুন ১৯৭২ সাল) চিন সফর করেন খোদ প্রেসিডেন্ট নিক্সন। চিনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) কিংবদন্তি চেয়ারম্যান মাও জে দঙের সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা যায় তাঁকে। এই বৈঠক পরবর্তী দশকগুলিতে বিশ্ব রাজনীতির বহু অঙ্ক বদলে দিয়েছিল। কোনও সন্দেহ নেই, এর ভিত তৈরি করেছিল ইসলামাবাদ।
ওয়াশিংটন-বেজিঙের ‘বন্ধুত্বে’ মধ্যস্থতাকারী হিসাবে রাওয়ালপিন্ডির জেনারেলদের ভাবমূর্তি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশ উজ্জ্বল করে তোলে। ফলে ১৯৭০-’৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে (অধুনা বাংলাদেশ) ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ইয়াহিয়ার ফৌজ গণহত্যা চলালেও চোখ বুজে ছিলেন নিক্সন-কিসিংগারেরা। গণতন্ত্রকে বুটে মাড়িয়ে ইসলামাবাদে চলা সেনাশাসনেও কোনও রকম আপত্তি করেননি তাঁরা। পাশাপাশি, ওই সময় দেড় দশকের মধ্যে ২০০ কোটি ডলারের হাতিয়ার ভারতের পশ্চিমের প্রতিবেশীর হাতে তুলে দেয় মার্কিন প্রশাসন।
দ্বিতীয় বারের জন্য আমেরিকার কাছে পাকিস্তান অপরিহার্য হয়ে ওঠে ১৯৭৯ সালে। ওই বছর আমু দরিয়া পেরিয়ে আফগানিস্তান আক্রমণ করে বসে সোভিয়েত ফৌজ। মস্কোর এই আগ্রাসন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দুঃস্বপ্নের শামিল। ফলে তড়িঘড়ি পাল্টা প্রত্যাঘাতে নামে মার্কিন গুপ্তচরবাহিনী ‘সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি’ বা সিআইএ। হিন্দুকুশের কোলের দেশটিতে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে তারা। আর এ ব্যাপারে তাদের পাশে ছিল ইসলামাবাদের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স)।
পঠানভূমিতে গৃহযুদ্ধ সৃষ্টিকারী সিআইএ-র গোপন অভিযানের সাঙ্কেতিক নাম ছিল ‘অপারেশন সাইক্লোন’। পাক আইএসআইয়ের সাহায্যে স্বাধীনতাকামী আফগানদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয় তারা। এই লড়াকুদের বলা হত ‘মুজাহিদিন’ বা ধর্মযোদ্ধা। এককথায়, মার্কিন অর্থানুকূল্যে নিজেদের ঘরে একের পর সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর জন্ম দিতে শুরু করে ইসলামাবাদ। তাদের একটা অভিমুখ ছিল হিন্দুকুশের দিকে। অপরটা জম্মু-কাশ্মীর ও পঞ্জাব-সহ উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকাকে রক্তাক্ত করতে ব্যবহার করেন তৎকালীন পাক সেনাশাসক জেনারেল জ়িয়া উল হক।
টানা ১০ বছর আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ চালিয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় আমেরিকা। জেনেভা চুক্তি মেনে ১৯৮৯ সালে শেষ পর্যন্ত পঠানভূমি থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয় মস্কো। এর মাত্র দু’বছরের মাথায় (পড়ুন ১৯৯১ সাল) সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গিয়ে জন্ম হয় রাশিয়া-সহ ১৫টি রাষ্ট্রের। তত ক্ষণে সন্ত্রাসবাদের পাঁকে পুরোপুরি ডুবে গিয়েছে পাকিস্তান। তবে এতে দুটো সুবিধা পেয়েছিল ইসলামাবাদ। এক, মার্কিন আর্থিক সাহায্য থাকায় ভারতের ভিতরে জাল বিস্তারে সমস্যা হয়নি আইএসআইয়ের।
দ্বিতীয়ত, ৯০-এর দশকে জম্মু-কাশ্মীর এবং পঞ্জাবে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি হামলা চরম আকার ধারণ করে। তীব্র হয় বিচ্ছিন্নতাবাদী ‘খালিস্তান’ আন্দোলন। এ বারও সব জেনে না দেখার ভান করেছিল আমেরিকা। অন্য দিকে সোভিয়েতের পতনে আন্তর্জাতিক স্তরে শক্তিশালী ‘বন্ধু’ মস্কোর সমর্থন আর আগের মতো করে পাচ্ছিল না নয়াদিল্লি। ফলে ইসলামাবাদের দেওয়া যাবতীয় ঘা সহ্য করে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপে বাধ্য হয় তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভয়ঙ্কর জঙ্গি আক্রমণের মুখে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওই দিন যাত্রিবাহী বিমান ছিনতাই করে নিউ ইয়র্কের ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা’র (ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার) জোড়া গগণচুম্বী অট্টালিকা গুঁড়িয়ে দেয় কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী আল কায়দা। সংশ্লিষ্ট হামলার মূলচক্রী ছিলেন ওসামা বিন লাদেন। আদপে সৌদির বাসিন্দা হলেও ঘটনার পর আফগানিস্তানে আশ্রয় নেন তিনি। ফলে এ বার তাঁকে নিকেশ করতে পঠানভূমিতে সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন।
স্থলবেষ্টিত আফগানিস্তানে সেনা নিয়ে যাওয়া ছিল আমেরিকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে তৃতীয় বারের জন্য পরিত্রাতা হিসাবে সামনে আসে পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য করাচির বিন কাশেম নৌবন্দর খুলে দেন ইসলামাবাদের তৎকালীন সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ় মুশারফ। ফলে খুব দ্রুত কাবুল দখল করে ফেলে মার্কিন ফৌজ। স্বাধীনতাকামী পঠানেরা সেটা অবশ্য মেনে নিতে পারেনি। এ বার আমেরিকার বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করেন তাঁরা।
টানা দু’দশক আফগানিস্তানে কাটিয়ে ২০২১ সালে সেখান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনা সরতেই কাবুলে ক্ষমতায় ফেরে তালিবান। যুদ্ধ শুরুর আগে তাঁরাই ছিলেন পঠানভূমির শাসক। মজার বিষয় হল, বাহিনী তুলে নেওয়ার আগে কাতারের দোহায় তালিবানের সঙ্গে একটি চুক্তি করে আমেরিকা। এই সন্ধিতেও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিল পাকিস্তান।
ফলে প্রাথমিক ভাবে ‘ইসলামাবাদ টক্স’ ব্যর্থ হলেও নিজেদের ভাবমূর্তির খাতিরে ভারতের পশ্চিমের প্রতিবেশী যে হাল ছেড়ে দিচ্ছে, এমনটা নয়। গত ১২ এপ্রিল এই ইস্যুতে মুখ খোলেন পাক উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশক দার। তাঁর কথায়, ‘‘আগামী দিনে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে আলোচনা এবং বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা আমরা পালন করব।’’ পাশাপাশি, এ ব্যাপারে সেনা সর্বাধিনায়ক (চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস) ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।
সামরিক বিশ্লেষকদের কথায়, মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তানের ভূমিকা বেশ জটিল। কারণ, কিসিংগারের সময়ে হওয়া ওয়াশিংটন-বেজিঙ ‘বন্ধুত্ব’ বেশি দিন টেকেনি। বর্তমানে তালিবান শাসিত কাবুলের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক আদায়-কাঁচকলায়। উল্টে সন্ত্রাসবাদের দগদগে ঘা রাওয়ালপিন্ডিকেও সহ্য করতে হচ্ছে। সাবেক পারস্যের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় সেটাই এখন দেখার।