Mahakal Standard Time

জিএমটি বাতিল করে চালু করা হোক ‘মহাকাল স্ট্যান্ডার্ড টাইম’! সারা বিশ্বের সমস্ত ঘড়ি এ বার বদলে ফেলবে ভারত?

মধ্যপ্রদেশের উজ্জৈন সফরে গিয়ে ‘গ্রিনিচ মিন টাইম’ বা জিএমটির বদলে ‘মহাকাল স্ট্যান্ডার্ড টাইম’ (এমএসটি) চালু করার প্রস্তাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু কেন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:০১
Share:
০১ ২০

আর গ্রিনিচ মানমন্দিরের ঘণ্টা-মিনিট-সেকেন্ড মিলিয়ে ঘড়ি ঠিক করা নয়। এ বার থেকে ‘মহাকাল’-এর রথচক্রে জানা যাবে ‘সঠিক’ সময়? মধ্যপ্রদেশের উজ্জৈন সফরে গিয়ে এ-হেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রস্তাব পেশ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর ওই মন্তব্যের জেরে দেশ জুড়ে পড়ে গিয়েছে শোরগোল। পাশাপাশি, ফের এক বার উঠেছে এ দেশে একাধিক ‘টাইম জ়োন’ বা ‘সময় অঞ্চল’ তৈরির দাবি।

০২ ২০

উজ্জৈন সফরে ঠিক কী বলেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র? তাঁর দাবি, ‘‘ভারতের এই প্রাচীন শহরটির সঙ্গে জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং সময় গণনার গভীর যোগসূত্র রয়েছে। আর তাই বিশ্বের সমস্ত ঘড়ির কাঁটা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হোক।’’ এক কথায় ‘গ্রিনিচ মিন টাইম’ বা জিএমটির বদলে ‘মহাকাল স্ট্যান্ডার্ড টাইম’ (এমএসটি) চালু করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, উজ্জৈনেই রয়েছে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের মহাকাল মন্দির।

Advertisement
০৩ ২০

নিজের অক্ষ এবং সূর্যের চারপাশে অবিরাম ঘুরে চলা পৃথিবীর সময় নির্ধারণ করা একেবারেই সহজ নয়। এর এক অংশে যখন দিন, ঠিক তখনই অপর দিকটা ডুবে থাকে রাত্রির অন্ধকারে। এই সমস্যা মেটাতে কতগুলি কাল্পনিক রেখায় গোটা বিশ্বকে ভাগ করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। সেগুলির কয়েকটা উল্লম্ব এবং বাকিগুলি আড়াআড়ি ভাবে চলে গিয়েছে। উল্লম্ব রেখার নাম ‘দ্রাঘিমা’, সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

০৪ ২০

নিজের অক্ষের চারপাশে এক বার পাক খেতে পৃথিবীর মোটামুটি সময় লাগে ২৪ ঘণ্টা। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একে এক দিন হিসাবে গণ্য করেছেন। এ বার সময় নির্ধারণের জন্য প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর একটি করে দ্রাঘিমারেখা আঁকেন তাঁরা। ফলে মোট চারটি ‘সময় অঞ্চল’ বা ‘টাইম জ়োনে’ ভাগ হয়ে গিয়েছে বিশ্ব। এর পর সূচক হিসাবে লন্ডন শহরের গ্রিনিচ মানমন্দিরের উপর দিয়ে চলে যাওয়া দ্রাঘিমারেখাটিকে বেছে নেওয়া হয়।

০৫ ২০

এই নিয়ম অনুযায়ী, গ্রিনিচের উপর দিয়ে অতিক্রান্ত দ্রাঘিমারেখার মান হল শূন্য ডিগ্রি। এর থেকে পূর্ব দিকে যত এগোনো যাবে প্রতি ১৫ ডিগ্রিতে ততই ১৫ মিনিট করে বাড়তে থাকবে সময়। আর পশ্চিম দিকে গেলে একই ভাবে ১৫ মিনিট করে সেটা হ্রাস পাবে। গ্রিনিচের ঘড়িকে স্বতঃসিদ্ধ ধরে নিয়ে পৃথিবীর প্রতিটা দেশ আলাদা আলাদা করে নিজেদের ‘স্ট্যান্ডার্ড টাইম’ ঠিক করেছে। এর উপর ভিত্তি করে চলছে রাষ্ট্রের যাবতীয় কাজকর্ম।

০৬ ২০

উদাহরণ হিসাবে ‘ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম’ বা আইএসটির কথা বলা যেতে পারে। পূর্ব দিকে অবস্থানের কারণে এটি জিএমটির থেকে ঠিক সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা এগিয়ে আছে। অর্থাৎ লন্ডন শহরে যখন বেলা ১২টা, এ দেশের ঘড়ির কাঁটা তখন বিকেল সাড়ে পাঁচটায় দাঁড়িয়ে থাকবে। একই নিয়মে ভারতের থেকে আধ ঘণ্টা এগিয়ে আছে বাংলাদেশের সময়। আর পাকিস্তান পিছিয়ে আছে ৩০ মিনিট।

০৭ ২০

তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। পৃথিবীর সব দেশ যে একটি মাত্র ‘সময় অঞ্চল’ বা ‘টাইম জ়োন’ মেনে তাদের স্ট্যান্ডার্ড সময় ঠিক করেছে, এমনটা নয়। যেমন রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দু’টি দেশই আয়তনে বেশ বড়। ফলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সময়কে স্বতঃসিদ্ধ ধরে মস্কো বা ওয়াশিংটনের পক্ষে এগোনো সম্ভব নয়। বর্তমানে ১১টি ‘সময় অঞ্চলে’ পশ্চিমের কালিনিনগ্রাদ থেকে শুরু করে পূর্বের কামচাটকা পর্যন্ত এলাকাকে ভাগ করেছে ক্রেমলিন।

০৮ ২০

লন্ডনের গ্রিনিচ সময় থেকে দু’ঘণ্টা এগিয়ে আছে কালিনিনগ্রাদ। অন্য দিকে কামচাটকার পার্থক্য ১২ ঘণ্টার। সোভিয়েত জমানার শেষের দিকে ১১ থেকে কমিয়ে ‘সময় অঞ্চল’ ৯-এ নামিয়ে আনে মস্কো। কিন্তু, ২০১৪ সালে ফের পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই কথা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। মূল ভূখণ্ড এবং দ্বীপ মিলিয়ে ওয়াশিংটনের টাইম জ়োনের সংখ্যা ১১।

০৯ ২০

গ্রিনিচের ঘড়িকে সূচক হিসাবে মেনে নেওয়ার নিয়ম কিন্তু গোড়া থেকে ছিল না। পৃথিবীর আলাদা আলাদা দেশ আলাদা আলাদা দ্রাঘিমারেখাকে শূন্য ধরে এগোচ্ছিল। কিন্তু, তাতে দুই রাষ্ট্রের সময়ের ব্যবধান মাপা বেশ জটিল হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যার সমাধান হয় ১৮৮৪ সালের আন্তর্জাতিক মধ্যরেখা সম্মেলনে। সেখানে গ্রিনিচের উপর দিয়ে যাওয়া দ্রাঘিমারেখাটি উল্লম্ব ভাবে পৃথিবীকে সমান দু’টি অংশে ভাগ করেছে বলে মনে নেয় পশ্চিমি বিশ্ব।

১০ ২০

পরবর্তী কালে জিএমটি নিয়ে আপত্তি জানায়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ ইউরোপের বাইরের অন্যান্য ‘সুপার পাওয়ার’রা। শুধু তা-ই নয়, এর উপর ভিত্তি করে সময়কে আরও নিখুঁত ভাবে মাপতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা তৈরি করেন একটি পারমাণবিক ঘড়ি। এর সময়ের সাঙ্কেতিক নাম দেওয়া হয় ‘কোঅর্ডিনেটেড ইউনিভার্সাল টাইম’ বা ইউটিসি। জিএমটির সঙ্গে এর যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

১১ ২০

প্রথমটির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে ‘সময় অঞ্চল’। অন্য দিকে ইউটিসি হল সময়ের অত্যন্ত নিখুঁত বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড। প্রসঙ্গত, জিএমটি চালু হওয়ার বহু আগেই গোটা ভারতকে কব্জা করে ফেলে ব্রিটিশরা। এ দেশে তাদের তিনটি মূল প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল। সেগুলি হল কলকাতা, বম্বে (অধুনা মুম্বই) এবং মাদ্রাজ (অধুনা চেন্নাই)। ফলে তিনটি আলাদা আলাদা ‘সময় অঞ্চল’ মেনে হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী এবং আরব সাগর থেকে অরুণাচল পর্যন্ত শাসনব্যবস্থা সাজিয়ে ফেলেন তাঁরা।

১২ ২০

১৮৯৯ সালে ভাইসরয় হয়ে কলকাতায় আসেন লর্ড জর্জ ন্যাথানিয়েল কার্জন। প্রশাসনিক সংস্কারের নামে তাঁর আমলে ১৯০৫ সালে পাশ হয় কুখ্যাত বঙ্গভঙ্গ আইন। ফলে অবিভক্ত বাংলায় শুরু হয় প্রবল ইংরেজ বিরোধী আন্দোলন। দানা বাঁধে বিপ্লবীদের সশস্ত্র সংগ্রামও। এর মধ্যেই ১৯০৬ সালে তিনটি আলাদা আলাদা ‘সময় অঞ্চল’কে মিশিয়ে সারা দেশে একটি স্ট্যান্ডার্ড টাইম চালু করে দেন কার্জন।

১৩ ২০

‘ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম’ বা আইএসটি চালু করতে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ (আগে নাম ছিল এলাহাবাদ) সংলগ্ন মির্জাপুর এলাকাটিকে বেছে নেন ইংরেজ ভাইসরয়। এর উপর দিয়ে গিয়েছে ৮২.৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। ব্রিটিশদের যুক্তি ছিল, এটাই ভারতের মধ্যমারেখা। ফলে গ্রিনিচকে মূল সূচক ধরে সেখানকার ঘড়ির সময়কেই সারা দেশের জন্য চালু করেন কার্জন। যদিও তার পরেও কলকাতা এবং মুম্বইয়ে বহু সরকারি-বেসরকারি কাজ হচ্ছিল স্থানীয় সময় মেনে।

১৪ ২০

স্বাধীনতার পর দেশে একতা বজায় রাখতে সমস্ত স্থানীয় সময় বন্ধ করে কেন্দ্র। আইএসটি হিসাবে মান্যতা পায় মির্জ়াপুরের ঘড়ি। আনুষ্ঠানিক ভাবে সেটা দ্বিতীয় বারের জন্য চালু হয় ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর। প্রশাসনের পাশাপাশি রেলব্যবস্থায় একতা আনতে এই তারিখটিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। কলকাতার স্থানীয় সময় বন্ধ হয় ১৯৪৮ সালে। যদিও মুম্বইয়ের স্থানীয় ঘড়িগুলি চলেছিল ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত।

১৫ ২০

গ্রিনিচের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বিশ্বের ‘সময় অঞ্চল’-এর এই হিসাব-নিকেশ নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই আপত্তি জানিয়ে আসছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রের এনডিএ সরকার। তাঁদের যুক্তি, সংশ্লিষ্ট ঘড়িগুলির সব ক’টি ঔপনিবেশিক শাসকদের তৈরি। প্রাচীন ভারতে সম্পূর্ণ অন্য পদ্ধতিতে সময় গণনা করতেন আর্যভট্ট বা ব্রহ্মগুপ্তের মতো জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তাঁদের বেছে নেওয়া সূচকটি ছিল উজ্জৈনের মহাকাল মন্দির।

১৬ ২০

খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে (৫০০-৬০০ সাল) ‘পঞ্চসিদ্ধান্তিকা’ নামের একটি বই লেখেন বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী বরাহমিহির। তার মধ্যেই সূর্যসিদ্ধান্তের সংক্ষিপ্ত রূপ সঙ্কলন করেন তিনি। ভারতে তখন গুপ্ত রাজাদের শাসনকাল। বরাহমিহির ছিলেন তাঁদের ‘নবরত্ন’ সভার একজন। জাতীয়তাবাদী ইতিহাসবিদদের একাংশের দাবি, সূর্যসিদ্ধান্তে ‘লঙ্কা-উজ্জৈন মধ্যমারেখা’র উল্লেখ রয়েছে। সেটা প্রকৃতপক্ষে উল্লম্ব ভাবে ঠিক পৃথিবীর মাঝখান দিয়ে গিয়েছে।

১৭ ২০

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সময় এবং দিক গণনার জন্য আড়াআড়ি ভাবেও ভৃপৃষ্ঠে বেশ কয়েকটি কাল্পনিক রেখা এঁকেছেন। এগুলির পোশাকি নাম অক্ষরেখা। এর মধ্যে আবার তিনটি রেখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর মাঝখান দিয়ে যাওয়া বিষুবরেখা, তার সাড়ে ২৩ ডিগ্রি উত্তরে থাকা কর্কটক্রান্তি রেখা এবং সাড়ে ২৩ ডিগ্রি দক্ষিণের মকরক্রান্তি রেখা। এর মধ্যে প্রথমটির সাহায্যে বছরের কোন সময় উত্তর গোলার্ধে কত দূর পর্যন্ত সূর্যকিরণ পৌঁছোতে পারে, তার গণনা করা হয়।

১৮ ২০

মজার বিষয় হল, কর্কটক্রান্তি রেখা এবং সূর্যসিদ্ধান্তের মধ্যমারেখার সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আছে আজকের উজ্জৈন। সেই কারণেই গ্রিনিচের বদলে মহাকাল মন্দিরকে শূন্য সূচক ধরে সারা পৃথিবীর ‘সময় অঞ্চল’ তৈরির প্রস্তাব তুলেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র। আন্তর্জাতিক সম্মতি ছাড়া অবশ্য সেটা কখনওই সম্ভব নয়। তা ছাড়া ‘মহাকাল স্ট্যান্ডার্ড সময়’ চালু হলে গ্লোবাল পজ়িশনিং সিস্টেম বা জিপিএসের মতো ব্যবস্থা যে এক নিমেষে ভেঙে পড়বে তা বলাই বাহুল্য।

১৯ ২০

এ ছাড়া বর্তমানে একটি ‘সময় অঞ্চলে’ ভারতকে বেঁধে রাখার জেরে বিপাকে পড়েছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল। কারণ, পূর্ব-পশ্চিমে অবস্থানের জেরে অরুণাচল প্রদেশের সূর্যোদয়ের প্রায় দু’ঘণ্টা বাদে ভোর হয় গুজরাতে। কিন্তু, ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম মেনে ঘড়ির সময়ের কোনও পরিবর্তন নেই। অর্থাৎ, ভোর ৪টের সময় ইটানগরে রীতিমতো রোদ উঠে গিয়েছে। আর অহমদাবাদ-গান্ধীনগরে তখনও অন্ধকার কেটে ঠিকমতো আলো ফোটেনি।

২০ ২০

এর ফলে উৎপাদনের ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়ছে উত্তর-পূর্বের একাধিক রাজ্য। আর তাই বিশেষজ্ঞদের একাংশ দেশে দু’টি ‘সময় অঞ্চল’ বা ‘টাইম জ়োন’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। তাতে অবশ্য এখনও সিলমোহর দেয়নি কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। তার মধ্যেই বিশ্ব জুড়ে ‘মহাকাল স্ট্যান্ডার্ড সময়’ চালু করার আওয়াজ তুললেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

ছবি: সংগৃহীত ও এআই সহায়তায় প্রণীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement