ছবি কুনাল বর্মণ।
পূর্বানুবৃত্তি: মনোতোষ যাতে জমি নেওয়ার ব্যাপারে মনঃস্থির করতে পারে, সেই জন্য চেষ্টা ত্রুটি রাখছে না নৃপেন। কিন্তু মনোতোষ কিছুতেই ভুলতে পারছে না সেই লোকটির কথা, স্ত্রীর অসুস্থতার জন্য যাকে বন্ধুদের কো-অপারেটিভ থেকে বেরিয়ে যেতে হয়েছে। মনোতোষ দেখতে দেখতে চলে কেমন করে মানুষের লোভের করাত পুরনো জঙ্গল সাফ করে, জন্তু-জানোয়ারদের বাসভূমি ধ্বংস করে মানুষের বসতি গড়ে তুলছে। কাছেই চায়ের দোকানে দেখা হল দু’জন স্থানীয় লোকের সঙ্গে। তারা খোঁজ নিল, মনোতোষ চুমুকপুরে জমি নেবে কি না। ওদের এক জনের নাম মন্তেশ্বর সাহা। সে সরাসরি তার দশ কাঠাতিন ছটাক জমি বিক্রির প্রস্তাব দেয় মনোতোষকে।
একটু খিদে পাচ্ছে। চায়ের সঙ্গে ওই বেকারির বিস্কুট নিলে হত। একটা বাতাস ছুটে এল জঙ্গলের দিক থেকে। শাল-সেগুনের খয়েরি পাতা উড়ল। একটা শিমুলফুল খসে পড়ল একটু দূরে।
“চলুন, আপনার জমিটা দেখে আসি। অসুবিধে নেই তো আপনার?” হঠাৎ কী মনে হল মনোতোষের, বলে বসল মন্তেশ্বরকে।
অবাক হয়ে নিপু তাকাল তার দিকে। জেনুইন তারকাটা কেস। বেলা গড়িয়ে গেলে ঠান্ডা আরও জাঁকিয়ে বসবে। ফাঁকা রাস্তায় স্কুটারে ফিরবে, কনকনে বাতাসে হাড় কাঁপিয়ে দেবে। কো-অপারেটিভের জমিটা কি তা হলে পছন্দ হয়নি বায়োলজি স্যরের!
“চলো নিপু, ওর জমিটা দেখে আসি। এসেই পড়েছি যখন, খোঁজখবর নিয়েই যাই।”
দোকানে একটা বাচ্চা মেয়েকে বসিয়ে মন্তেশ্বর তাদের সঙ্গে দোকান ছেড়ে বাইরে এল। যতটা খারাপ হবে ভেবেছিল, চা-টা অতটা খারাপ নয়। গরম কাচের গ্লাস দু’হাতের ভিতরে জড়িয়ে ওম নিচ্ছিল মনোতোষ। এখন একটা সিগারেট খেতে ইচ্ছে করছিল তার। কিন্তু নিপুর কাছে এক বার চেয়ে নিয়েছে, বার বার চাওয়া যায় না। বরং এই দোকান থেকেই দু’জনের জন্য দুটো কিনলেই হয়। সে রেগুলার স্মোকার নয়, যা হোক একটা ব্র্যান্ড হলেই তার চলবে।
সিগারেট ধরিয়ে দোকানের বাইরে পা দিতেই দেখল, কেমন নোংরা একটা রোদ উঠেছে। যেন হালকা ছাই মিশে রয়েছে রোদের সঙ্গে। দোকানের বাঁ দিকে ছাইগাদায় একটা কালো কুকুর শুয়ে আছে। লেজের ডগায় সাদা বিন্দু। সেটা গোল হয়ে ঘুরে প্রায় কুকুরটার নাকের সামনে শেষ হয়েছে। দেখেই বোঝা যায় পোয়াতি কুকুর। বলেন আর তার সঙ্গী বিড়ি টানছে। দুটো বাইক, একটা পাথর-বোঝাই ডাম্পার পলাশগুড়ির দিকে গেল। ধুলো উড়ল অনেকটা।
মনোতোষ সামনের জারুলগাছের দিকে তাকিয়ে দেখল, পাতাগুলো ধুলো মেখে ধূসর হয়ে আছে। সামনের পাঁচ বছরের ভিতরেই পথের পাশের গাছগুলো আর থাকবে না। এ রাস্তা খুব তাড়াতাড়ি ব্যস্ত রাস্তা হয়ে উঠবে। এক দিন ট্র্যাফিক জ্যাম হতে শুরু করবে। এক দিন পথের দু’পাশে শিলিগুড়ির বড় বড় নার্সিং হোম, ইংরেজি মাধ্যম স্কুল, হোটেল, সিমেন্ট আর লোহার বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং পাহাড়, ফরেস্ট আড়াল করে দাঁড়াবে। এই বৈকুণ্ঠপুর অরণ্যের প্রাচীন ইতিহাস, কোচবিহার রাজার কথা, রায়কত বংশের ইতিহাস, শিষ্যসিংহ-বিশ্বসিংহের কথা কোথায় হারিয়ে যাবে। সত্যিই কি এ-সব কথা হারিয়ে যায়! নাকি অরণ্যের মাটিতে, তিস্তার জলে, শাল-সেগুন-জারুলের পাতায়, বাকলে লেখা থাকে! থাকে বোধহয়।
আলের উপর দিয়ে হাঁটছিল ওরা। মাঠ শূন্য, আমন উঠে গেছে। ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার পর গোড়াগুলো গালের বাসি দাড়ির মতো খোঁচা-খোঁচা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নাড়া বলে এগুলোকে। ছেলেবেলায় স্কুলে যাওয়ার পথে খসরু মিঞার ধানখেতের নাড়া দিয়ে বাঁশি বানাত সবাই। এক দিন, এ রকমই ঠান্ডা আর মেঘলা ছিল— তখন মনোতোষের ক্লাস সিক্স বোধহয়, সেদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে কী ভাবে বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়াবে, এই ভেবে সে অস্থির হয়ে পড়ছিল। পকেটে নাড়ার বাঁশি ছিল, সেটা বাজাতে ইচ্ছে করছিল না। বিকেলের দিকে সেদিন যেন তাড়াতাড়ি সন্ধে নেমে এসেছিল। আর সব বন্ধুরা শীতে কাঁপছিল, মনোতোষের গরম লাগছিল, লজ্জা করছিল। যত বার তার আজ মানুর মুখ থেকে শোনা খারাপ শব্দটা মনে পড়ছিল, তত বার সে টের পাচ্ছিল, ততটা শীত নেই এখন। সেদিন সে ‘যোনি’ শব্দের চালু প্রতিশব্দ শিখেছিল।
“এই যে দ্যাখেন, কী আর করুম, মাটি ফালাইয়া রাখতে নাই, দিলাম কয়ডা ফুলের চারা বুইন্যা। বড় ভালা মাটি, দ্যাখেন কেমুন ফনফনাইয়া বাইড়া উঠছে। পুবদিকে সবজিখেত করছি। লাউ, পালং, পুঁই, টমাটো, লঙ্কাও বুনছি কিছু। পুরা জল দেওন লাগে। বড় জমিটা ছাইড়া দিমু। কিন্তু নিলে পুরাটা একলগে নিতে হইব। আপনেরে পাশ্শো গ্রাম, আর এক জনরে পাশ্শো গ্রাম কইরা এক কিলো করার পারুম না। কথা শুইনাই বুজ্জি, আপনে ভদ্র মানুষ। আপনে নিলে দিমুনে কমসম কইরা।”
অবাক হয়ে বাগানের দিকে তাকিয়ে রইল মনোতোষ। ঢোকার মুখেই বাঁশের চাঁচাড়ি দিয়ে খিলানের মতো, সেখানে সন্ধ্যামালতীর ঝাড় বেয়ে উঠেছে। কত দিন পরে সন্ধ্যামালতী দেখল মনোতোষ। বকুলডাঙার বাড়িতে ছিল। বোঁটা ছিঁড়ে উল্টো দিকে ফুঁ দিলে পুঁ-উ করে বাজত। ভিতরে ঢুকে চোখ জুড়িয়ে গেল তার। দু’কোণে দু’টো কাগজফুলের গাছ ফুলে ভরে রয়েছে। সোনালি আর বেগুনি। ঠিক জ্যামিতিক বিন্যাসে সাজানো নয়, এলোমেলো করেই ফুলের বেডগুলো তৈরি করা হয়েছে। সব ফুল মনোতোষ চিনতেও পারল না। গ্ল্যাডিওলা, সূর্যমুখী আর ডালিয়া চিনতে পারল। বড় বড় গাঁদা যেন বাগান আলো করে ফুটে আছে। কাঁঠালিচাঁপার মিষ্টি গন্ধ পাচ্ছিল। এখানে-ওখানে ছড়িয়ে আছে তেজি গোলাপ গাছ। সব গাছেই একটি দু’টি করে ফুল ফুটে আছে। পশ্চিম দিকের সীমানা জুড়ে কলাবতীর ঝাড়। রং যেন দু’চোখের ভিতর দিয়ে মনোতোষের মাথার ভিতরে ছড়িয়ে পড়ল। এত সুন্দর দেখে তার চোখে জল আসছিল।
“তুমি দোকান সামলে বাগানের কাজ করো কখন? এর পিছনে তো খাটতেও হয়।”
“ও হইয়া যায়। আপনাগো বৌমা আমারে হেল্পার দেয়। মালবাজারে অগো নার্সারি আছিল। হ্যায় তো বুদ্ধি দিল বাগান করার। আসলে মাটি, আর হইল আপনের ভালবাসা। আপনে বিরক্তি নিয়া, অছদ্দা নিয়া হাজার জল দিলেও ফুল ফুটব না। আবার ধরেন, আপনে পুরা ভালবাসা নিয়া জল দিলেন, সার দিলেন, পোকা বাছলেন। কিন্তু মাটিই ছিল খারাপ। কুনঅ লাভ নাই। আমাগো মানুষের সংসারে যেই নিয়ম, ফুলের সংসারেও তাই। শুনছ, তাপুর মা, দুইটা মোড়া নিয়া আসো বাগানে। ও না থাক। আমিই আনতাছি।”
“না মন্তেশ্বর, আজ আর বসব না। আমাদের ফিরতে দেরি হয়ে যাবে। ঘন কুয়াশা পড়লে স্কুটার চালাতে অসুবিধে হবে। খুব সুন্দর বাগান তোমার। ফোন আছে তোমার? থাকলে আমাকে নম্বরটা দিয়ো। আমি হয়তো মাঝে মাঝে আসতে পারি এখানে। আর, আপাতত জমিটার ব্যাপারে কারও সঙ্গে ফাইনাল কথা বোলো না। আমি একটু চিন্তাভাবনা করে নিই।”
“আপনের যখন খুশি আইসেন। আমি দেইখ্যাই বুজ্জি, আপনের ভিতরে একটা সাচ্চা মানুষ আছে। প্রেম আছে। তাগো চক্ষে জল এমনিই আয়্যা পড়ে। আপনের হাতে এই বাগান দিলে আমি নিচ্চিন্ত থাকুম। আমি কি আর আসল মালিক। পরের জায়গা পরের জমিন ঘর বানাইয়া আমি রই, আমি তো এ ঘরের মালিক নই... শুনছেন না?”
ফেরার পথে দূরের জঙ্গল মনে হচ্ছিল নীল ধোঁয়ার আড়ালে ঢাকা। উল্টো দিকের গাড়ি ফগলাইট জ্বালিয়ে আসছে। কনকনে বাতাসের ঝাপটায় ওরা দু’জনেই কেঁপে উঠছিল। নিপুর মুখ বেজার হয়ে ছিল। সে স্যরকে নিয়ে গেল এক কথা ভেবে, তারকাটা লোকটা আর এক কাজে নাক গলিয়ে এল।
স্কুটার চালাতে চালাতে মনোতোষ অন্য কথা ভাবছিল। সে ভাবছিল মন্তেশ্বরের বৌয়ের কথা। তাপুর মা। তাপুর ভাল নাম নিশ্চয়ই তপতী। সম্ভবত যে মেয়েটা দোকানে বসেছিল, সে-ই। বারো-তেরো বছর হবে। চোখদু’টো খুব মায়াবী। হয়তো চোখের পাতা, যাকে বলে আঁখিপল্লব— একটু বড়, তাই। তাপুর মায়েরও কী দীর্ঘ, মায়াবী চোখ! কী সুন্দর ফুল ফুটেছে তার হাতে। আর একটু বসলেই হত। তাপুর মাকে দেখা যেত।
উল্টো দিক থেকে তীব্র গতিতে আসা সাদা এসইউভি গাড়িটায় ফগলাইট জ্বলছিল না। মনোতোষের হ্যান্ডল-গ্রিপে থাকা হাতদুটো ঠান্ডায় আড়ষ্ট ছিল। সে অন্যমনস্ক হয়ে মন্তেশ্বরের না-দেখা বৌয়ের কথা ভাবছিল।
ভাগ্যিস রাস্তার বাঁ দিক ঘেঁষে চলছিল সে! তাকে ডান দিকে ঘষটে দিয়ে গাড়িটা বেরিয়ে যেতে এক মুহূর্তের জন্য তার মনে পড়ল, মন্তেশ্বরের বৌয়ের নাম নিশ্চয় মালতী। বাগানে ঢোকার মুখে যে গেট ছিল, সেখানে লেখা ছিল ‘মালতী নিকুঞ্জ’। সন্ধ্যামালতীর লতা ছেয়ে আছে সেই অর্ধবৃত্তাকার গেট। অল্প কিছু ফুল ফুটে আছে। শীতকাল তাই, গরমে ঝেঁপে ফুল ফুটত বকুলডাঙার শিবুকাকাদের বাড়ির গাছে।
নিপু ছিটকে পড়েছিল পাশের জলনিকাশি নালায়। মনোতোষ স্কুটার নিয়ে অনেকটা ঘষটে গিয়ে অবশেষে স্থির হল। গতিজাড্য শেষ হলে স্থিতিজাড্য প্রাধান্য পায়। স্থির স্কুটারের সামনের চাকা ঘুরতেই থাকে।
৬
আয়নার সামনে দাঁড়িয়েছিল ভুজঙ্গ হালদার। খুঁটিয়ে দেখছিল তার নাকের মাথা। কিছু দিন যাবৎ জায়গাটা কেমন লালচে হয়ে উঠেছে। ঠান্ডার জন্যও হতে পারে। হাতের পায়ের আঙুলের মাথাগুলো কেমন যেন আড়ষ্ট হয়ে থাকে। আর ক’দিন দেখে ডাক্তার দেখাতে হবে। মাঝে মাঝে তার সেই মহিলার মুখ মনে পড়ে। উইন্ডস্ক্রিনের ভাঙা কাচের গুঁড়ো তার সমস্ত মুখে ক্ষত তৈরি করে রক্তবিন্দুর আলপনা তৈরি করেছিল। কী অসম্ভব সুন্দরী ছিল মহিলা! তাকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ কোনও দিন পাওয়ার কথা নয় ভুজঙ্গর। কিন্তু মৃত সেই নারীকে ছুঁয়েছিল সে। আশ্চর্য! তখন কিন্তু তার কোনও সেক্স আসেনি। বরং কেমন একটা কষ্ট টের পাচ্ছিল সে। মৃত্যু এসে শরীরের রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেয়। সেক্সি নারীদেহ আর কদাকার পুরুষ— সব একতাল হাড়মাংস হয়ে যায়। তার পর পচন ধরে। মাংসখেকো পোকা আসে। তার সাদা রুমাল দিয়ে মেয়েটার মুখ সে মুছে দিয়েছিল। রক্তমাখা রুমাল সে তার বালিশের নীচে রেখে দিয়েছে। কোনও কোনও রাতে সে রুমালটা দেখে, নাকের সামনে এনে গন্ধ নেওয়ার চেষ্টা করে। তার পর আত্মরতি ছাড়া পরিত্রাণের আর কোনও পথ থাকে না।
সেই সুটকেস সে লুকিয়ে রেখেছে তার ঘরে। ধীরেসুস্থে সে নম্বর মেলানোর চেষ্টা করবে। মেলানো মুশকিল, সে জানে। তবুও মানুষ লক্ষ লক্ষ টিকিটের মধ্যেও লটারিতে ফার্স্ট প্রাইজ় পেয়ে যায়। কোনও এক শুভ মুহূর্তে কম্বিনেশন মিলে যায়।
বিভু সমাদ্দারের কাজ শেষ করে সে এসে রিপোর্ট করেছিল। ‘বাবল বয়’-এর হাতে সে সুটকেস পৌঁছে দিয়েছে। লিঙ্গেশ্বর মন্দিরে গিয়ে পুজো দেওয়ার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু ওয়েদার ভাল না থাকায় সে তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছে। এ রকমই রিপোর্ট করেছিল বিভুকে। একান্ন বাইশ— আপন মনে মাঝে মাঝে উচ্চারণ করে ভুজঙ্গ হালদার। নম্বরটা যেন তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তারাকান্ত মজুমদারের জুতোর দোকান ‘পদপল্লব’, সেখানে সে কাস্টমারদের পায়ে জুতো পরায়। মাঝে মাঝে বাবল বয়ের লোক আসে, তাদের হাতে বাক্স তুলে দেয়। কিন্তু এই নাচার পুরুষশরীর, হারামজাদা বেইমান শরীর— মাঝে মাঝে কোন এক গোপন ষড়যন্ত্রে উথালপাথাল করে ওঠে, তখন বৃষ্টিভেজা রাতে তার ইচ্ছে করে হাটের কানাপাগলির পাশে গিয়ে শুতে। সমস্ত দুর্গন্ধ পেরিয়ে কোন এক দুরন্ত বাসনা তাকে জন্তুর অধম বানিয়ে দেয়।
রসিক পালের বৌয়ের সঙ্গে তার আশনাই ছিল। তাকে অনেক বার সুখ দিয়েছিল বৌটা। কিন্তু ক্লাবের ছেলেদের হাতে মার খেতে খেতেও তার মনে হচ্ছিল চিৎকার করে বলে— ‘আমাকে নয়, ভিতরের কুত্তাটাকে মার তোরা! শালা, ভাদুরে কুত্তা! কিছুতেই কন্ট্রোল হয় না।’
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভুজঙ্গ আর এক বার বলল—“একান্ন বাইশ।” আয়নাতেও ঠোঁট নড়ল, কিন্তু আয়না শব্দ ফেরত পাঠাল না। সত্যি, আয়না এক আশ্চর্য জিনিস। আয়না এক রহস্যময় বস্তু। আয়নায় সব কিছু অবিকল দেখা যায় না। পার্শ্বীয় পরিবর্তন ঘটে যায় নিঃশব্দে। ভাষাকে উল্টে দেয়। কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ‘হ্যাঁ’ বললে আয়না কোনও দিনও ‘না’ ফিরিয়ে দেয় না। প্রকৃতপক্ষে আয়নার পিছনে কেউ থাকে না।
নাকের মাথাটা লাল হয়ে আছে। জায়গাটা হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখল। ঠিকই তো আছে। নাঃ, অত ভয় পাওয়ার কিছু নেই। পরে এক সময় ডাক্তার দেখালেই হবে।
ক্রমশ
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে