ছবি: কুনাল বর্মণ।
পূর্বানুবৃত্তি: বেশ ঘন ঘনই বিভুর কাজ পাচ্ছিল ভুজঙ্গ। তার মনে আছে, রূপেশ বর্মণের মাল চুরি করায় বেশ ঝামেলায় পড়ে গেছিল সে। সে ঘটনা নিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেলও করত বিভু। ভুজঙ্গর মনে পড়ছিল, তার বাবা, ম্যানেজার অনঙ্গ হালদারের কথা। নেশা করে তিনি বারবার মনে করতেন ভুজঙ্গর মায়ের কথা, তিনি ভাল শ্যামাসঙ্গীত গাইতেন। ভুজঙ্গর মনে পড়ছিল, আকুল আর তার বৌ শিখার কথা। আকুল মাতাল হয়ে কাঁদত, সে চলে গেলে তার বৌয়ের কী হবে এই কথা ভেবে। ভুজঙ্গর নাক কান চামড়ার কিছু কিছু অংশ লাল হয়ে যাওয়া চোখে পড়ে বিভুরও। ভুজঙ্গ ঠিক করে, যেদিন ‘পদপল্লব’ বন্ধ থাকবে, সেদিন এক বার ডাক্তার সেনগুপ্তর কাছে গিয়ে নাম লেখাবে।
ভাল করে খেয়াল করে ভুজঙ্গ দেখল, চোখেও যেন ক’দিন ধরে সমস্যা হচ্ছে। হাতে পায়ে কেমন যেন অবশ ভাব। খারাপ কিছু নয় তো! মনটা ভার-ভার লাগল ভুজঙ্গর।
ডাক্তারবাবু বললেন, “শুনুন, একদম ভয় পাবেন না। ঠিকমতো ওষুধ নিলে দেখবেন একদম সুস্থ হয়ে যাবেন। আজকাল যে সব মেডিসিন বেরিয়েছে... কুষ্ঠ কোনও রোগই নয়। দেখি পায়ের তলাটা! চোখে কোনও সমস্যা হচ্ছে?”
সব বলল ভুজঙ্গ। চোখের সমস্যা, হাত-পা নাড়াচাড়ায় সমস্যা, মাঝে মাঝে কথা বলতে কষ্ট হয়। তার গলা শুকিয়ে এসেছিল। ইচ্ছে করছিল টেবিলে রাখা থেকে গ্লাস থেকে জল নিয়ে পুরোটা খেয়ে ফেলতে। ডাক্তারের দু’হাতে গ্লাভস, মুখে ডবল মাস্ক, একটা পাওয়ার-কাচ দিয়ে ভুজঙ্গর লালচে জায়গাগুলো দেখছিল। আর একটা কথা তার বলা উচিত, কিন্তু বলতে সঙ্কোচ হচ্ছিল তার। রাতে জামা-প্যান্ট-জাঙিয়া খুলে শোয়ার সময় দেখেছে তার গোপন জায়গাতেও লালচে ফুসকুড়ি।
পেশেন্টদের নাম লেখে যে মেয়েটি, তার মুখের দিকে একটু তাকিয়েই কেমন যেন আড়ষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এক বার শুনেই তাড়াতাড়ি লিখে নিয়েছিল— ভুজঙ্গ হালদার। ভুজঙ্গ বলতে যাচ্ছিল, বি এইচ ইউ, অনেকেই ভি দিয়ে লেখে।
“ঠিক আছে,” বলে মেয়েটা সরে গিয়েছিল।
ডাক্তারবাবু বললেন, “একটু বেশি ছড়িয়েছে, তবে ভয় পাবেন না। নিয়ম মেনে চলুন। এমনি কন্টেজিয়াস নয়, তবে হাঁচি বা মুখের লালার ড্রপলেট থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আসলে এই ব্যাক্টিরিয়া আমাদের নার্ভ সিস্টেমকে অ্যাটাক করে। ব্যাক্টিরিয়া থেকে ছড়ায়। মাইকোব্যাক্টেরিয়াম লেপ্রি। ভ্যাকসিন নিতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে যেতে হবে অনেক দিন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবেন। কুষ্ঠ ফুলি কিয়োরেবল। ডোন্ট গেট নার্ভাস। আর একটা কথা, জানেন তো ডাক্তার আর উকিলের কাছে কিছু লুকোতে নেই। আর কোনও জায়গায়, মানে কুঁচকি বা আশপাশে, স্ক্রোটামে...”
ভুজঙ্গ স্পষ্টই বুঝতে পারল ডাক্তার কী জানতে চাইছে। হ্যাঁ, ওখানেও লালচে, ছোট ছোট গুটিতে ভরে গেছে। আচ্ছা, সে তবে কুষ্ঠরোগী। মনে পড়ল নদীর ওপারে জিশু-আশ্রমের কথা, বাজারে হাত-পায়ের আঙুলে কাপড়-জড়ানো ভিখারিদের কথা, ছোট কাঠের গাড়িতে বসে এক জন ভিক্ষে চায়, আর এক জন সেই গাড়ি ঠেলে নিয়ে যায়। মানুষজন দূরে সরে যায়। ঘেন্না পায় সবাই। সমাজ থেকে দূরে থাকতে হয় ওদের। সমাজ ওদের গ্রহণ করে না। ‘কুঠো’ বলে সরিয়ে দেয়। ভুজঙ্গকে কে ঠেলে ঠেলে নিয়ে যাবে!
বাড়ি ফিরে ভুজঙ্গ আলমারি খুলে সেই অ্যাটাচি বার করল। খাটের উপর বসে নম্বর লেখা চাকাগুলো ঘোরাতে শুরু করল। অনন্ত সময়ের জন্য এক খেলা শুরু করল ভুজঙ্গ হালদার। ঘুরিয়ে যাচ্ছে, ঘুরিয়েই যাচ্ছে। আর, মাথায় ঘুরছে কড়িকাঠ থেকে ঝুলে পড়া তার শরীরের কথা। কার সঙ্গে যেন দেখা হওয়ার কথা ছিল, কে যেন ফোন নম্বর দিয়েছিল, কে বলেছিল “আপনাকে দেখলে আমার বুকের ভিতরে কেমন যেন করে।”
বিছানা ছেড়ে উঠল ভুজঙ্গ। বালিশের নীচে সেই রক্তের ছিট-ধরা রুমাল নিয়ে নাকের সামনে ধরল। সবাই কি আর সুন্দরকে পায়। আহা, মেয়েটার পা দুটো ভাল করে দেখা হল না। পাঁচ নম্বর, নাকি ছয়! অচেনা একটা গন্ধ পেল ভুজঙ্গ। মৃত্যুর গন্ধ। কুয়োর দড়ি ফ্যানের হুকে বাঁধল। টুলের উপর দাঁড়িয়ে গলায় ফাঁস পরে পা দিয়ে টুল সরিয়ে দিল।
এসো সুন্দর! এসো আমার মাইকোব্যাক্টেরিয়াম লেপ্রি! শুয়োরের বাচ্চা শরীর!
তখনই প্রায় দৌড়ে এসে তার ঘরে ঢুকল বিভু সমাদ্দার। দুমড়ে যাওয়া গাড়ির পাশে একান্ন বাইশ বাইক দেখেছে এক জন। দেখল, মৃদুমন্দ দুলছে ভুজঙ্গর বডি। খাটের উপর একটা অ্যাটাচি। দেখেই চিনতে পারল বিভু। ভুজঙ্গ তখনও অল্প অল্প দুলছে। বিভু অ্যাটাচি নিয়ে দ্রুত কম্বিনেশন লক খোলার চেষ্টা করছে। এক মিনিটেই ডালা খুলে গেল। ফাইভ ওয়ান টু টু মিলে যেতেই বাক্স খুলে গেছে। ভিতরে বাবল র্যাপারে মোড়া পালযুগের কালো পাথরে তৈরি অনন্তশয়ানে বিষ্ণু। খুব রেয়ার আইটেম। পঞ্চাশ লাখ সে অ্যাডভান্স আগেই পেয়েছিল। কথা ছিল, জিনিস ঠিক জায়গায় পৌঁছনোর পর বাকি পঞ্চাশ লাখ পাবে। মাল তার ঘরেই ফেরত পেয়ে গেল। বেইমানির শাস্তি ভুজঙ্গ নিজেই নিজেকে দিয়েছে। এ-সব কপালে লেখা থাকে। বিভু সমাদ্দার আর কী করবে!
৭
শিবুকে ঠেলে সরিয়ে দিল নন্দা। ভাল লাগছিল না তার। এ রকম মেঘলা দিনে অকারণেই তার মন ভার হয়ে থাকে। খুব ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। বড়দিদার পাশে শুয়ে একপেয়ে পেতনির গল্প, বাড়ির গ্রামোফোনে লালকমল-নীলকমল, উল্টো পিঠে ছিল বুদ্ধু-ভুতুম। খেজুরগাছ কাটতে আসত মুর্শেদ। একটা নুলো হাত নিয়েই গাছে উঠত। আগের রাতের পেতে রাখা হাঁড়ি নামিয়ে আগে তাকে এক গ্লাস রস খেতে দিত। বড়দিদা বলত, “বুড়ি, সেই গানটা কর না। এক যে ছিল চাঁদের কোনায় চরকাকাটা বুড়ি...”
“আঃ দিদা, গান নয়, কবিতা। স্কুলে আমি আবৃত্তি করেছি। ফার্স্ট হয়েছি। ক্লাস-থ্রির মিতালি সেকেন্ড। ও বলেছে দামোদর শেঠ।”
“ওই হইল, যেটারে কয় চাউলভাজা, তারেই কয় মুড়ি। বুড়ি তুই গান শিখস না ক্যান। তরে না আমি বিয়া দিমু না। শুন, হলুদ গেন্দার ফুল রাঙা পলাশ ফুল, এনে দে এনে দে নইলে বাঁধব না বাঁধব না চুল। আমি নাচতাছি, কখন জানি তর দাদু আইস্যা খাড়াইছে। কাম সারসে, আমি এক দৌড় দিয়া ঘরে ঢুকসি। হ্যায় ঘরে আইসা কয়— ‘থামলা ক্যান, কী সুন্দর লাগতেসিল।’ আমি তো দুই হাত দিয়া মুখ ঢাইকা ফেলসি।”
নন্দা মনে মনে দেখতে পেত, তার সুন্দরী বড়দিদা লজ্জায় দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছে। পরনে হলুদ রঙের শাড়ি। খোঁপায় জড়ানো গাঁদাফুলের মালা। লজ্জায় জড়সড় হয়ে আছে। সে হলে পুরো নাচটা দেখাত। কিন্তু তাকে কেন বিয়ে দেবে না দিদা! বাবার কাছে নালিশ করে দেবে।
এ-সব কথা খুব মনে পড়ে। এ-সব কথা কি আর শিবুকে বলা যায়। মাছ ধরতে না গেলেও তার শরীরে মাছের চারের গন্ধ লেগে থাকে। কোনও কোনও দিন শিবু আগে ঘুমিয়ে পড়লে তাকে ভাল করে দেখে নন্দা। লোকটা কি আস্তে আস্তে একটা মাছ হয়ে যাচ্ছে! তার গায়ে কি রুপোলি আঁশ তৈরি হচ্ছে! এক দিন হয়তো এই সংসার ছেড়ে সে গভীর জলে চলে যাবে।
ঠান্ডা আজ বেশি। কম্বল তুলে আজ লেপ নামিয়েছে নন্দা। ইচ্ছে করেই দুটো ছোট লেপ বিছানায় রেখেছে। বিছানায় এসে শিবু একটা লেপের নীচে ঢুকেছিল। এখন নন্দার লেপের নীচে ঢোকার চেষ্টা করছে। সিঙ্গল লেপের চেয়ে একটু বড় হলেও দু’জনের কুলোয় না। আর, শিবুর শোয়া ভাল নয়। পরে একাই পুরো লেপ টেনে নেয়। শীতে কেঁপে উঠলে নন্দা টের পায় তার শরীরে লেপ নেই।
আজ সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। মনে হচ্ছিল গুঁড়ি-গুঁড়ি বৃষ্টি নামতে পারে। তবে তো সোনায় সোহাগা। জমিয়ে শীত নামবে। আকাশের অবস্থা দেখেই নন্দার মনেও মেঘ জমেছিল। ভাল লাগছিল না। মৃত একটা সম্পর্ক সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে। খুব ভুল একটা বিয়ে হয়েছে তার। ডাক্তার রামপ্রিয় সান্যালের ছেলে শুনে কেউ আর কিছু খোঁজখবর নেয়নি। সরকারি চাকরিও করে। পরে নন্দা বুঝেছে, খুবই সাধারণ চাকরি। স্বাস্থ্য দফতরের মোবাইল ইউনিটের গাড়ি নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ায়। স্বাস্থ্য সচেতনতার পোস্টার মারে। ‘টিবি একটি সাধারণ অসুখ,’ ‘কুষ্ঠ সম্পূর্ণ নিরাময় হয়’ — এ-সব বলে। গ্রামীণ হাসপাতালগুলোয় স্বাস্থ্য শিবিরগুলোর ডকুমেন্টারি দেখায়। আর খোঁজ নেয় এ গ্রামে ভাল পুকুর আছে কি না। মাসে বড়জোর পাঁচ দিন সে চাকরি করে। রামপ্রিয় ডাক্তারের ছেলে হিসেবে একটু সুবিধে হয়তো পায়।
শিবুর সঙ্গে তার মনের সুর ম্যাচিং হয়নি। যত দিন যাচ্ছে, শিবু আরও বেশি দূরের মানুষ হয়ে যাচ্ছে। নন্দার সূক্ষ্ম অনুভূতির সে কোনও খবরই রাখে না। নন্দা কানে নতুন রিং পরলে, কাজল পরলে, কি ঘরে পোলকা ডট পালাজ়ো পরলে সে প্রাত্যহিকতার এই পরিবর্তন বুঝতেই পারে না। কার জন্য সাজবে নন্দা? নিজের জন্য? ইচ্ছে করে না। গত সপ্তাহেই হস্তশিল্প মেলায় কেনা মাটির সেট কিনেছিল। কান, গলা আর হাতের। শিবু টেরই পেল না। সেটসুদ্ধ কাজের মাসিকে দিয়ে দিয়েছে। শিবু শঙ্খ ঘোষের নাম শোনেনি, বীরেন চট্টোপাধ্যায়ের নাম শোনেনি। সেটা দোষের নয়। কিন্তু যখন বলে, “ধুস! এ-সব কবিতা-ফবিতা আজকাল আর কেউ শোনে না। গান শিখলে পারতে। ‘বাগিচায় বুলবুলি তুই’, কিংবা ধরো তোমার ‘নয়নভরা জল গো তোমার’ আহা...”— তখন এক রকম অপমানে নন্দা ম্লান হয়ে যায়। সংসারে দুই নদী দু’টি আলাদা ধারায় নিজেদের মতো বয়ে যায়। ওরা কোনও দিন আর মিলবে না।
ঘরে হালকা সবুজ আলো জ্বলছিল। প্রথম প্রথম নন্দার অসুবিধে হত। ঘর অন্ধকার না হলে তার ঘুম আসে না। শিবুর আবার অন্ধকার ঘরে ঘুম আসতে চায় না। শিবুর সুবিধেই নন্দা মেনে নিয়েছে। আস্তে আস্তে তারও চোখে আলো অ্যাডজাস্ট হয়ে গেছে। কত কিছু অ্যাডজাস্ট করে নিতে হয় মেয়েদের!
তবু যদি শিবু সংসারী হত। নন্দার দিকে ভাল করে তাকিয়ে দেখারও তার অবসর নেই। আজকাল পাতে মাছ পড়লে তার কেমন রাগ হয়। ছেড়ে দেবে মাছ খাওয়া। আগে তাও মনোতোষের সঙ্গে গল্পগুজব করে সময় কাটত। ওরা শিলিগুড়ি চলে যাওয়ার পরও মাঝে মাঝে আসত। ইদানীং তার আসা একদম কমে গেছে। মনোতোষকেও তার ঠিক স্বাভাবিক মনে হয় না। মনে হয় যেন উপর থেকে হইচই করে। ভিতরে ভিতরে সব সময় অন্য কিছু ভাবে। কে জানে কারও পাল্লায় পড়ল কি না! ওদের স্কুলে নাকি অনেক দিদিমণি, কারও সঙ্গে কিছু হয়েও যেতে পারে। আনম্যারেড, সিঙ্গল, সরকারি চাকরি— মেয়েরা ইন্টারেস্টেড হতেই পারে। হয়েছে কি! নাঃ, তা হলে মন্টু তাকে অন্তত বলত।
শিবুকে ঠেলে সরিয়ে দিলে ‘উ’ বলে শিবু জোর করেই আবার তার লেপের নীচে ঢুকতে চাইল। এ বার বেশ জোরে শিবুকে ধাক্কা দিল নন্দা। অবাক হয়ে তাকাল শিবু।
“কী ব্যাপার, আমাকে তোমার লেপে অ্যালাউ করতে চাও না ?”
“তোমার জন্য তো আলাদা লেপ দিয়েছি, এই ছোট্ট লেপে দু’জনের হয় নাকি ? বিরক্ত কোরো না, আমার ঘুম পাচ্ছে।”
চোখে একরাশ বিস্ময় নিয়ে উঠে বসল শিবু। সে ভাবতে পারেনি এই ছোট ব্যাপারে নন্দা এ ভাবে রিঅ্যাক্ট করবে। এর আগে বহু বার তারা একটা ছোট লেপ কিংবা কম্বলের নীচে ঢুকে পড়েছে। খুনসুটি করেছে। শিবুর ঠান্ডা হাত নন্দা তার দু’হাতের তালুর ভিতর নিয়ে ঘষে গরম করে দিয়েছে। শরীরের উষ্ণতায় ওরা বাইরের শৈত্য টের পায়নি। শেষ পর্যন্ত অবধারিত ভাবেই অন্য উত্তেজনা এসে পড়েছে। মিলনের চূড়ান্ত সুখ উপভোগ করেছে ওরা। আজ কী হল নন্দার! আজ অনেক দিন বাদে নন্দার শরীরের কাছে যেতে ইচ্ছে করছিল তার। ভিতর থেকেই তীব্র উত্তেজনা টের পাচ্ছিল সন্ধে হতেই।
“তোমার কি আজ শরীর খারাপ?”
“একটা কথা বলো তো, তুমি আজ পর্যন্ত আমার মন খারাপ কি না জানতে চেয়েছ? তুমি কেন শরীর খারাপের কথা জানতে চাইছ? না, শরীর সব দিক দিয়ে সুস্থ আছে আমার। রাত হয়েছে, এ বার ঘুমোব। আজ কী হল তোমার? অন্য দিন তো শুতে না শুতেই নাক ডাকে।”
শিবু কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল। আজ যে বীভৎস অভিজ্ঞতা তার হয়েছে, নন্দাকে কি বলা যায়! বুঝতে পারছিল না। একটু কিন্তু-কিন্তু করে বলেই ফেলল, “নন্দা, আজ খুব বাজে একটা এক্সপিরিয়েন্স হয়েছে আমার। জীবনে প্রথম এ রকম অভিজ্ঞতা হল। ভাবছিলাম বাড়ি ফিরেই তোমাকে বলি। আজ অনেক দিন বাদে বাজারে গিয়েছিলাম। এমনি তো আমার বাজারে যেতে ইচ্ছে করে না। অনেক দিন পাবদা মাছ খাই না। আজ মনে হল নিজের হাতে মাছের বাজার করব।”
নন্দা মুখ ফিরিয়ে শিবুর দিকে তাকাল। সামান্য কৌতূহল হচ্ছিল তার। শিবুর গলার স্বরে সিরিয়াস কিছু টের পেল নন্দা। ‘বাজে এক্সপিরিয়েন্স’ শুনে ভুরু কুঁচকে গেল তার।
ক্রমশ
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে