ছবি: কুনাল বর্মণ।
পূর্বানুবৃত্তি: এক বার এক বেওয়ারিশ লাশ সৎকারের জন্য পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে শ্মশানযাত্রী হয়েছিল মনোতোষ। পাড়ার তীর্থ নামের একটি ছেলে ভাল করে সাঁতার না জেনেই ঝাঁপ দিয়েছিল আশ্বিনের ভরা নদীতে। হাবুডুবু খাওয়া তীর্থকে বাঁচাতে গিয়ে মরার উপক্রম হয়েছিল মনোতোষেরও। শেষ অবধি বাঁচানো যায়নি তীর্থকে। পরে ব্যারাজের লকগেটে পাওয়া গিয়েছিল তার বডি। সেবারও মত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছিল মনোতোষের। অন্য দিকে বিভু সমাদ্দারের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে পার্টির ছেলেদের। তারক নামে একটি পার্টির ছেলে বিভুর গাড়ি আটকে টাকা চেয়েছিল। বিভুর হয়ে এসব কাজ করত সিরাজুল। সে বুদ্ধি খাটিয়ে বিভুর নাম করে ফেলেনি। তার কাছ থেকেই সব খবর পেয়েছিল বিভু। সে টাকা দিয়ে তখনকার মতো ঝামেলা মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল।
সিরাজুল ঠিকই বলেছিল। এক বার গাড়ি আটকে টাকা পেলে বার বার করবে। ব্যাপারটা গোড়াতেই একটা ফয়সালা করে নেওয়া দরকার। বিভূতি লস্করের সঙ্গে তারককে তার ঘরে আসতে দেখে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল তার। জানা কথাই, কোনও প্রোগ্রামের জন্য টাকা চাইতে এসেছে। লোক না পাঠিয়ে বিভূতি নিজে এসেছে মানে অ্যামাউন্ট অনেক বেশি হবে। তার একটা অ্যাপিয়ারেন্স ভ্যালু আছে তো।
“আরে বিভূতিবাবু, আসুন আসুন। গৌরাঙ্গ, মধুর দোকানে দুটো স্পেশাল চা বলে আয়। তাড়াতাড়ি দিতে বলিস। বলুন...”
“এই এ-দিক দিয়ে যাচ্ছিলাম। ভাবলাম, একটু দেখা করে যাই। সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, ভালমন্দের খবর রাখা— এ তো করতেই হয়। জনসংযোগই আসল কথা। এত পরিশ্রম, কিন্তু আমার কোনও টায়ার্ডনেস নেই। বরং আজকাল বাচ্চা ছেলেগুলোকে দেখি কাজের কথা বললে মুখ কালো করে বসে পড়ে। এদের দ্বারা হবে না, বুঝলেন। নিজের সুখের কথা ভাবলে কি আর পাবলিকের কাজ করা যায়! ভিতরে আদর্শ থাকলে কাজে আপনিই উৎসাহ আসে।”
বিভূতি লস্করের মুখে আদর্শের কথা শুনে কাশিটা গিলে ফেলল বিভু। বেশি ভণিতা করছে বিভূতি লস্কর। ঝেড়ে কাশবে একটু বাদেই। তার আগে একটু আদর্শ মারিয়ে নিচ্ছে। জমির ফয়সালা করতে গেলে আগে জমির মাপ জানতে চায়, সেই হিসেবে তার ফিজ় দিতে হয়। তার সাঙ্গোপাঙ্গরাই সব কোটি কোটি টাকা কামিয়ে ফেলেছে।
“নিন, চা নিন। নাও ভাই, চা নাও।”
“ওর নাম তারক। ভাল ছেলে। মাথা একটু গরম করে ফেলে, কিন্তু একেবারে শিশুর মতো সরল। তবে ওই যে, হঠাৎ হঠাৎ মুড গরম হয়ে যায়। মুঠোটা দেখুন ওর। এক বার কারও গলায় ওই মুঠো পড়লে তার লাইফ শেষ। এ বার বালিকা বিদ্যালয়ের সেক্রেটারি করে দিয়েছি। বড়দি বড় ঘাড়ত্যাড়া লোক। উপরে নাকি কোথায় কানেকশন আছে। সেই রোয়াবে আমাদের সিদ্ধান্ত অনেক সময় মানতে চায় না। কত চাটমারা ঘোড়াকে সিধে করে তার পিঠে চাপলাম! মেয়েছেলের অত রোয়াব আমার আবার একদম সহ্য হয় না। এ বার তারক বুঝে নেবে।”
বিভু বুঝতে পারছিল না, তাকে এ সব শোনাচ্ছে কেন বিভূতি লস্কর। সে টুকটাক বিজ়নেস করে খায়। পবিত্র ব্যবসা বলে পৃথিবীতে কিছু হয় না। বিজ়নেস করতে গেলে একটু এ দিক-সে দিক হয়েই যায়। তাকেও কি চাটমারা ঘোড়া মনে করে দাবিয়ে রাখার ইশারা করছে? নাকি তার বিজ়নেসের গোপন দিকটা টের পেল কিছু! সম্ভবত জানে না। নইলে তার উপর চাপ আরও বেশি আসত।
“শুনেছেন তো আমাদের মোটরবাইক র্যালির কথা। দু’শো বাইক নিয়ে আমাদের ছেলেরা প্রায় দেড়শো কিলোমিটার মিছিল করবে। সারদাপল্লির বড়মাঠে শেষ হবে র্যালি। ওখানেই জনসভা। প্রচুর খরচ। আমাকে এটা সাকসেসফুল করতেই হবে। আপনারা আছেন বলেই ভরসা পেয়েছি।”
“সে তো বরাবরই আছি। আমার এখান থেকে কোনও দিন খালি হাতে আপনাদের ফিরতে হয়ছে, বলুন? আমার সাধ্যমতো করেছি।”
“হ্যাঁ, আমাদের ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বোকামি কে করবে। যাকগে, আপনার ব্যবসাবাণিজ্য কেমন চলছে? পেট্রল পাম্পের কথা ছেড়ে দিন, তা বাদে সব জায়গায় তো হাত ছুঁইয়ে রেখেছেন। শুনুন, আমাদের সাপোর্ট না পেলে কিন্তু এখানে আপনি দু’দিনেই শূন্য হয়ে যাবেন। আপনি বলে নয়, এমনিই বললাম, কারও পক্ষেই করে-কম্মে খাওয়া মুশকিল। বরাবর আমাদের ভোট দিয়ে আসছেন, সেটা জানি। আগের জমানায় কাদের ভোট দিতেন, তাও জানি। আপনার গাড়ি উইদাউট এনি ডিস্টার্বেন্স পার হয়ে যায়। আপনি কি মনে করেন শুধু আপনার চাঁদির জোরেই ক্লিয়ারেন্স পায়? ভুল জানেন। যে কোনও মোমেন্টে আপনার প্রচুর লস কিন্তু হয়ে যেতে পারে। না, সেটা করব না। আপনি আমাদের প্রতি সহানুভূতিশীল এক জন নাগরিক। অবশ্য এই রাজ না থাকলে কী হবে বলা মুশকিল। আমিও বলতে পারব না, আপনিও পারবেন না। আপনি বিজ়নেসম্যান, সব সময় ক্ষমতার পক্ষেই আপনারা থাকেন। যেখানে মধু, সেখানে মৌমাছি। গুনগুন গুনগুন। এ বার কিন্তু আপনাকে একটু বেশি দিতে হবে।”
বিভু জানত, এত কথা বলার পিছনে অন্য গল্প রয়েছে। বিভূতি লস্করের মতো ধূর্ত মানুষ খুব কম দেখেছে বিভু। খুব দ্রুত উপরের সারিতে উঠে এসেছে। চটজলদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। জায়গা বুঝে চোখ রাঙানো এবং জায়গা বুঝে পায়ের রাঙাজবা হতে তার খুব সময় লাগে না। বিভু জানে, বিভূতি লস্কর আরও উপরে উঠবে। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে তাকে একটু হুমকিই দিয়ে রাখল।
“বলুন, আমার সাধ্যের মধ্যে হলে নিশ্চয়ই দেব,” বলেছিল বিভু।
“তারক, তুই বল। তুই এস্টিমেট করেছিস, লিস্ট ধরে ধরে অ্যামাউন্ট ঠিক করেছিস, তুই বলে দে। টোটাল হিসেব তুই জানিস। কী ভাবে কী মেকআপ দিবি, তোর ব্যাপার। আমাকে এর মধ্যে জড়াস না।”
বিভূতি লস্করের মুখে ‘তারক’ নাম শুনেই বিভুর মাথা তেতো হয়ে গিয়েছিল। সিরাজুল এই ছেলেটার কথাই বলেছিল। তার নিজের পাড়ার ভিতরেই তার গাড়ি আটকে টাকা চেয়েছিল। সিরাজুল অবশ্য বলেনি, গাড়ি আসলে কার। গাড়ির তল্লাশি নিলে ঝামেলা হয়ে যেত। দাগাবাবুর গোডাউনে মাল আনলোড করার আগেই ও-পারের মালের হদিস বেরিয়ে যেত। সেই তারকের সঙ্গে এখন দর কষাকষি করতে হবে। বিভূতি লস্করের বডিগার্ড, সুতরাং যা খুশি করার অধিকার তার হাতে এসে গেছে, এমন ভাবছে।
তারক শীল এত ক্ষণ চুপ করে ওদের কথা শুনছিল। এ বার আড়মোড়া ভাঙল। কাঁধের দু’পাশে দু’টো হাত ছড়িয়ে দিলে বিভু দেখল ওর হাতের পাঞ্জা। বিভুর ইচ্ছে করছিল নিজের গলার মাপটা এক বার দেখে নিতে।
“দুটো গাড়ি দিতে হবে আমাদের। আর ক্যাশ ফিফটি, পঞ্চাশ হাজার।”
আঁতকে উঠল বিভু সমাদ্দার। অনেক বেশি! ওরা কি তাকে ব্ল্যাকমেলিং করতে চাইছে? সন্দেহ হল বিভুর।
“কী বলছ! এত পারব না ভাই। টুকটাক বিজ়নেস আমার, জানোই তো...”
“দেখুন দাদা, জানি সবই। ঘাঁটাবেন না। পোগ্রাম সফল করতে আমাদের সব রকম চেষ্টা করতে হবে। আপনার ব্যবসা-বাণিজ্যের খবর আমরা রাখি। রাখতে হয়। দু’টো গাড়ি আর ক্যাশ পঞ্চাশ, ব্যস। কেউ আপনার গাড়ি আটকাবে না। আপনার গাড়ির লোড-আনলোড, চেক-পোস্ট, রেভিনিউ,সব আমরা দেখব। কেউ কিচ্ছু বলবে না। আমরা আছি না!”
ম্যায় হুঁ না— বিভু শুনল। কেমন যেন একটা ঘেন্না হল তার। বিভূতি আর এই তারক শীলকে দুটো নেংটি ইঁদুর মনে হচ্ছিল তার। তার খাবারের থালার পাশে ঘুরঘুর করছে। সে একটু অন্যমনস্ক হলেই উচ্ছিষ্ট নিয়ে দৌড়ে পালাবে। কিন্তু কখনও ওরা কামড়েও দেয়। কী করবে সে এখন! ওদের ডিম্যান্ড মতো টাকা, গাড়ি সে দিতেই পারে। কিন্তু তার পর! নেক্সট প্রোগ্রামে চাহিদা আরও বাড়বে ওদের। তা ছাড়া, এই হারামি টাইপের ছেলেটা মনে হচ্ছে গোপন কোনও কথার ইশারা দিচ্ছে। কতটা জানে, কে জানে! ছেলেটাকে টাইট না দিলে মাথায় চড়ে বসবে। আজ পর্যন্ত তার গাড়ি কেউ আটকায়নি। লাইনে বিভু সামন্তর নাম শুনলে সবাই জায়গা ছেড়ে দেয়। আর এ ছোকরা পাঞ্জা দেখিয়ে আওয়াজ দিচ্ছে। বিভূতি নিজে সরে থেকে তারককে সামনে এগিয়ে দিয়েছে।
“দুটো গাড়ি আমি বলে দিচ্ছি, কিন্তু অতটা ক্যাশ পারব না ভাই। আমার ব্যবসা কিন্তু সত্যিই ভাল চলছে না। দিয়ে-থুয়ে কিছুই থাকে না। সব জায়গায় সবাই হাঁ করে আছে। তাদের মুখে কিছু তো দিতেই হয়। নইলে বিজ়নেস চালানোই মুশকিল।”
তারক তার প্রকাণ্ড থাবাটা বিভুর দিকেবাড়াল। চোখদুটো যেন হায়নার মতো জ্বলছে। বিভু অপেক্ষা করছিল।
“ব্যবসা চালাতে হলে কিছু দিতে হয় না, এমন তো কোথাও হয় না দাদা। আমরা টুকটাক ঠিকেদারি করি, একশো টাকার কাজে অফিসের বাবুরাই খেয়ে নেয় প্রায় ষাট টাকা। বাকি টাকায় কাজ তুলে নিজের ঘরে ম্যাক্সিমাম দশ টাকা থাকে। ওদের বিরুদ্ধে একটা আন্দোলন শুরু করুন না, আমরা আপনাকে সাপোর্ট দেব। আমরা কিন্তু পার্সোনাল লাভের জন্য আপনার কাছে ভিখ মাংতে আসিনি। পার্টির কাজ, অঞ্চলের উন্নয়নের কাজ, আপনি কি চান না আমাদের এরিয়ার উন্নতি হোক? সেটা তো আকাশ থেকে পড়বে না। সংগ্রাম করে সেটা আদায় করতে হবে। ফান্ড ছাড়া লড়াই হয় না। আপনার নামে হিসেব আমরা করে ফেলেছি। আপনি আপত্তি করলে আমাদের বাজেট ফেল করবে। সেটা কিন্তু ভাল দেখায় না। আমাদের বিধানসভা কেন্দ্রের প্রেস্টিজের ব্যাপার। বিভুদা, এটা আপনাকে দিতেই হবে। বিভূতিদা নিজে এসেছেন, সব জায়গায় কিন্তু বিভূতিদা যান না।”
‘আপনাকে দিতেই হবে’ কথাটা খট করে কানে বাজল বিধুর। এদের সঙ্গে সে কি লড়াইয়ে নামবে? লাভ নেই। কিন্তু কথাটায় একটা অপমানের সুর লেগে রয়েছে। সেটা বিভুর পোশাক ভেদ করে গায়ের চামড়ায় জ্বালা ধরিয়ে দিচ্ছে। ওদের চাহিদা অনুযায়ী অতটা না হলেও কিছু তো তাকে দিতেই হবে। এতকাল দিয়েই এসেছে। কিন্তু এ বার যেন জুলুম মনে হচ্ছে। সূক্ষ্ম একটা হুমকিও রয়েছে। বিভুর বুঝতে অসুবিধে হয় না।
“দেখো, দেব না বলিনি কিন্তু। আজ পর্যন্ত যত বার এসেছ, আমার সাধ্যমতো দিয়েছি। এ বার রেট এত বাড়িয়ে দিলে... আর, ‘দিতেই হবে’ এ রকম ভাবে আমার দিকে হাত তুলে কথা বোলো না। মনে হয় তোমরা জোর করছ আমার উপর। আমার পছন্দও নয়। আমার সাধ্যমতোই দেব। দুটোগাড়ি পাঠিয়ে দেব। ক্যাশ পঁচিশ দিচ্ছি। এখনইনিয়ে যাও।”
তারক শীল দুটো হাত মুঠো করে কোলের উপর রেখেছে। বিভূতি লস্করের দিকে তাকাল তারক। তারকের চোখে রাগ দেখতে পেল বিভু। বিভূতি লস্কর খুব ঠান্ডা, নিস্পৃহ চোখে তাকাল বিভু সমাদ্দারের দিকে।
“আজ আমরা উঠছি। এ বার আমাদের খরচ অনেক বেশি হচ্ছে। তাই ভরসা করে আপনার কাছে এসেছিলাম। পঁচিশ নয়, দিলে আপনি পঞ্চাশই দেবেন। ফোন করবেন, তারক এসেই নিয়ে যাবে। না দিতে চাইলে, দেবেন না। জোরজুলুম আমরা করি না। এই তারক, ওঠ। দাগা রাইস মিলে যেতে হবে। আরও কাজ আছে। চলি, নমস্কার।”
ওরা উঠে যাওয়ার পর বিভু দেখল, বিভূতি লস্কর চা খায়নি। তার কাপের ঠান্ডা চায়ের উপর পাতলা দুধের সর, তার উপর একটা মরা মাছি ভাসছে। মরা মাছিটা দেখে কেমন যেন শরীর শিরশির করে উঠল বিভু সমাদ্দারের।
৫
ঘুম ভাঙতেই মনোতোষ টের পেল, এ বার শিলিগুড়িতে আসল ঠান্ডা পড়তে শুরু করল। রাতে ঘুমের ভিতরেই মনে হচ্ছিল, চাদরের বদলে একটা কম্বল হলে ঘুমটা আরও জম্পেশ হত। চাদরটা বেশ মোটা এবং গরম, তবু শীত করছিল তার। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পেরিয়ে যাচ্ছে, তবু সেই শীত এখনও পড়ছে না বলে সবাই খুব আফসোস করছিল।
শিলিগুড়ির পুরনো মানুষজন আগে কেমন শীত পড়ত, সে কথা বলার সময় আহ্লাদে যেন গলে পড়ত, “এখানে ভাই দুটোই সিজ়ন ছিল, শীত আর বর্ষা। অন্যগুলো কখন আসত আর কখন যেত, টেরই পেতাম না। এখন সব পাল্টে গেছে। আরও যাবে। আগে আমরা কলেজের মাঠ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পরিষ্কার দেখতে পেতাম। তিলক ময়দানে গোল হলে সারা শহরের মানুষ চিৎকার শুনতে পেত। বৈকুণ্ঠপুর ফরেস্ট থেকে টিয়ার ঝাঁক উড়ে আসত শহরে। শিলিগুড়ির চারপাশে ছিল ঘন সবুজ। চা-বাগান, জঙ্গল। এখন চা-বাগান তুলে দিয়ে আবাসন-প্রকল্প, ফরেস্টের মাথায় টাক পড়তে পড়তে সব শাল-সেগুন হাওয়া। সেখানে এখন উপনগরী, নামকরা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, নার্সিং হোম। ওসব জায়গায় এখন আমাকে ছেড়ে দিয়ে এলে পথ চিনে বাড়ি ফিরতে পারব না। মহানন্দার জল ছিল টলটলে সবুজ। আর এখন দেখেছ তার অবস্থা! সারা শহরের আবর্জনা নিয়ে তেল-মোবিল ভাসা কালো জলের একটা নালা। মাঝে মাঝে শোনা যায় মহানন্দা অ্যাকশন প্ল্যানের কথা। বেঁচে থাকতে অ্যাকশন দেখে যেতে পারব কি না, কে জানে।”
ক্রমশ
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে