ছবি: মহেশ্বর মণ্ডল।
ঘন ঘন হাতঘড়ি দেখছিল সম্বিত। আর ছটফট করতে করতে মেট্রো গেটের এধার-ওধার ঘুরছিল। সাড়ে তিনটেয় সময় দিয়েছিল ত্রিধা। এখন সোয়া চারটে প্রায়। ফোন নট রিচেবল। মেট্রোয় আছে কি? থাকলেও পঁয়তাল্লিশ মিনিটে এক বারও কল লাগবে না— এটা অসম্ভব!
ত্রিধা অনেক কিছু বোঝালেও বোঝে না। যেমন আজ তার বোঝা উচিত ছিল, সম্বিত প্রাণের আনন্দে দেখা করতে আসেনি। এসেছে বকেয়া বিষয়-আশয় ফেরত নিতে। সেটাও ইচ্ছের বিরুদ্ধে। খান পাঁচেক গল্প-উপন্যাসের বই, একটা দামি কলম, দু’খানা চাদর, মোবাইলের পাওয়ার ব্যাঙ্ক— যেগুলো প্রত্যেকটাই ত্রিধার মতে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’, তাই ফেরত নিতে হবে। সম্বিত নিজে চায়নি। ত্রিধাই এক রকম জোর করে রাজি করিয়েছিল। কোনও পাওনাগন্ডা, ধারদেনা, বকেয়া ফেলে রাখতে চায় না সে। ত্রিধার মতে, সম্পর্কে ইতি মানে ‘জাগতিক উপহার-টুপহার’ সব কিছু ফিরিয়ে নেওয়ার পালা।
“স্মৃতি, পিছুটান বাড়ায় এমন কিছু বয়ে বেড়ানোর ইচ্ছে বা শক্তি আমার নেই সম্বিত। ও-সব কাব্যি আমার আসে না!”—শেষ ফোন-কলে ঠান্ডা গলায় এমনটাই জানিয়েছিল ত্রিধা। আজ সে-সব নিতে আসতে হয়েছে। তাও অফিসে বিস্তর কাঠখড় পুড়িয়ে। নভেম্বরের গোড়ায় পাবলিশিং হাউসগুলোয় চূড়ান্ত কাজের চাপ। পরীক্ষার মরসুম শুরু হব-হব করছে। সময়ের মধ্যে একগাদা বই ছাড়ার তাগাদা। যে কারণে বস আগেভাগে বেরোনোর পারমিশন দিতে রাজি হয়নি। রেপুটেশন বিগড়ে যেতে পারে ভেবে সম্বিতও যথেষ্ট ব্যাকফুটে ছিল। “মা-কে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে”—বলতে যতটা উৎকণ্ঠা আর আবেগ থাকা উচিত, ততটা নিখাদ আর্তি তার গলায় জাগছিল না। বসের সন্দেহ স্বাভাবিক। ভুরু কুঁচকে খানিক তাকিয়ে বেশ খানিকটা বিরক্ত হয়েই হাত নেড়ে ইশারায় চলে যেতে বলেছে। তাড়াতাড়ি বেরোনোর চক্করে দুপুরের লাঞ্চও স্কিপ করতে হয়েছে।
“স্যরি, একটু লেট হয়ে গেল। লাঞ্চ করেছ দুপুরে?”
আচমকা প্রশ্নে সম্বিতের সমস্ত চিন্তা তালগোল পাকিয়ে গেল। ছেলেবেলা থেকেই এটা হয়। আচমকা প্রশ্ন, সাক্ষাৎ, হাসিকান্না এবং বিচ্ছেদ—কোনওটাই স্থির ভাবে নিতে পারে না সে। চটজলদি নিজের অনুভূতি গুছিয়ে নিতে বিস্তর বেগ পেতে হয়। এবারও সেটাই হল। ত্রিধাকে অনেক দিন পর দেখে এবং আচমকা বিনা ভূমিকায় লাঞ্চ-সংক্রান্ত প্রশ্ন শুনে কী বলবে ভেবে পেল না সম্বিত। উসখুস করতে করতে কোনও মতে বলল, “হ্যাঁ… ওই, না মানে… অফিস থেকে বেরিয়ে…”
“বুঝেছি। কিছুই খাওনি। আমারও খালি পেট। চলো, কিছু খাওয়া যাক। একটু পরেই সোদপুর যেতে হবে। মঞ্জরীর মা খুব অসুস্থ...” কান থেকে ইয়ারফোন খুলে পার্সে ঢোকানোর ফাঁকে চুইংগাম চিবোতে চিবোতে জানাল ত্রিধা। সম্বিত স্থিরচোখে ওর দিকে তাকিয়েছিল। ত্রিধাকে আজ অন্য রকম লাগছে। শান্ত। পরিণত। বিষাদের লেশমাত্র নেই। আবার চাপল্যও স্পর্শ করেনি এতটুকু। মাপা কথা। চাপা স্বর। অনেক পরিপাটি। পারফেক্ট। প্রফেশনাল। আচ্ছা, ত্রিধা নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর অভিনয় করছে না তো? যদি করে থাকে, তা হলে সেটাও নিখুঁত হচ্ছে। একের পর এক চিন্তা মাথায় ঘা মারতেই হেসে উঠল সম্বিত।
“হাসছ যে? আমি কি মজার কিছু বলে ফেলেছি?” বিরক্তিভরা গলায় জিজ্ঞেস করল ত্রিধা।
একটু অপ্রস্তুত হয়ে সম্বিত যেই জবাব দিতে যাবে, অমনি দেখতে পেল খানিক দূরে ফোনে কথা বলতে বলতে তার দিকে এক জন ইশারায় হাত নাড়ছে। ভাল করে তাকাতেই চিনতে পারল। অগ্নিদা। অগ্নীশ্বর ব্যানার্জি। কলেজের সিনিয়র। এখন টাকির কাছে একটা স্কুলে পড়ায়। ত্রিধাকেও ভাল করে চেনে। নাকতলায় ফ্ল্যাট কিনেছে। গৃহপ্রবেশের দিন ত্রিধা আর অগ্নিদার বৌ বনশ্রীদি মিলে ভোর থেকে সন্ধে পর্যন্ত পুজোর জোগাড়যন্ত্র, অতিথিদের আদর-আপ্যায়ন, সব কিছু সামলেছিল। দেখা হলে ওরা আজও সেদিনের কথা তোলে। এটা-সেটা বলার পর সব শেষে “ত্রিধা খুব লক্ষ্মী মেয়ে, মিষ্টি মেয়ে...” ইত্যাদি জানাতে ভোলে না। সে-সব শুনে এত দিন চাপা গর্ব বোধ করত সম্বিত।
“দাঁড়াও তোমায় আধ ঘণ্টা বাদে কল করছি...” বলে ফোন কেটে এগিয়ে এল অগ্নিদা, “আরিব্বাস! কত দিন পর দম্পতির দেখা পেলাম। তার পর? সব ঠিকঠাক তো?”
সাধারণ প্রশ্ন। অন্য দিন হলে ধরাবাঁধা উত্তর দেওয়া যেত। আজ মাথা ফাঁকা। কী বলা উচিত? সম্বিত ভেবে পেল না। আড়চোখে ত্রিধার দিকে তাকাল। সেও চোখ নামিয়ে ঠোঁট কামড়াচ্ছে। এর সোজা মানে, সম্বিতকেই সামলাতে হবে।
অস্বস্তিকর নৈঃশব্দ্য পেরিয়ে গলাখাঁকারি দিয়ে সম্বিতকেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে হল, “হ্যাঁ। ওই আর কী! ধর্মতলা এসেছিলাম। বিধান মার্কেটে। জার্সি কিনতে।”
হঠাৎ ফ্যাক করে হেসে ফেলল ত্রিধা। উত্তর শেষ হওয়ার আগেই। পরক্ষণে নিজেকে সংযত করল। কিন্তু তার পরই পাগলের মতো হেসে চলল। কিছুতেই থামার নাম নেই!
সম্বিত হতভম্ব। এমনটা আশা করেনি সে। প্রথমে নিজে ভিজে বেড়াল সেজে চুপচাপ থেকে তাকে কেস খাওয়াল। এখন বেয়াড়ার মতো অট্টহাসি হেসে আর এক দফা কড়া কেস। অগ্নিদা বুদ্ধিমান। যদি পেট থেকে আসল ব্যাপারটা বার করে ফেলে? তখন সামলাবে কে?
“সমু মিথ্যে বলছে, তাই তো? অ্যাই ব্যাটা! তুই না জানিস ক্রিকেট, না বুঝিস ফুটবল। তোর আবার কিসের জার্সি কেনা? বল না, বিরিয়ানি সাঁটাতে এসেছিস। তাতে কী হবে? বড়জোর আমি খেতে চাইব এবং তুই স্পনসর করবি। আর এমনিতেও তোর নতুন চাকরির ট্রিট পাওনা আছে। আমার হাতের কাজ শেষ। এখন বাড়ি ফেরার তাড়া নেই। খিদেও পেয়েছে জম্পেশ। বিরিয়ানি-অভিযান হয়ে যাক একটা!”
অগ্নিদার অগ্নিবাণের প্রত্যুত্তর সম্বিতের জানা ছিল না। এদিকে ত্রিধারও তখন অন্য মেজাজ! কে বলবে, মিনিট পাঁচেক আগেই ওকে নিয়ে কী সব অ্যাসেসমেন্ট করেছিল সে! দিব্যি প্রাণ খুলে অগ্নিদার সঙ্গে হাসিঠাট্টায় মেতে উঠেছে! অথচ এ-সব তো আজকের অ্যাজেন্ডায় ছিল না। বকেয়া জিনিস আদানপ্রদানই ছিল এক এবং একমাত্র কাজ। তার বদলে কী সব বিরিয়ানি-অভিযানের প্ল্যানিং চলছে! ত্রিধা তার সঙ্গে প্র্যাঙ্ক করছে না তো? হাবিজাবি ভাবতে ভাবতে পায়ে পায়ে অগ্নিদা আর ত্রিধার পিছু নিল সম্বিত।
*****
“তোমরা টাকিতে যাচ্ছ কবে? বনশ্রীদি কি ওখানেই থাকবে আপাতত? আচ্ছা, তোমাদের কেরল-ট্যুর কবে যেন? ডিসেম্বরে না?” চামচে রেজালার গ্রেভি নেওয়ার ফাঁকে জিজ্ঞেস করল ত্রিধা।
ত্রিধা আগুন নিয়ে খেলছে। প্রশ্ন করছে ভাল কথা। কিন্তু অগ্নিদা ঘুরিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করলে কী বলবে, সে খেয়াল আছে ওর? ব্রেক-আপের পর গত ছ’মাস দু’জনের সেভাবে কোনও কথা হয় না। কেউ কারও বর্তমান-ভবিষ্যৎ জানে না। একই প্রশ্নের দু’ধরনের জবাব আসার ষোলো আনার সম্ভাবনা। এ কেমন ছেলেমানুষি করছে ত্রিধা! নাঃ! বিষয়টা একদম পোষাচ্ছে না।
“কী রে! কী ভাবছিস এত?” অগ্নিদার প্রশ্নে সম্বিতের হুঁশ ফিরল।
“আরে কিছু না!”
“কিছু না বললেই হবে? তার পর? বিয়ের প্ল্যান-প্রোগ্রাম কদ্দূর?”
প্রশ্ন শেষ হওয়ামাত্র গলায় গ্রাস আটকে জটিল বিষম খেল সম্বিত। আচমকা এবং সাংঘাতিক বিষম! জল খেয়ে-টেয়ে কোনও মতে স্বাভাবিক হল ঠিকই, কিন্তু মনে মনে চাইছিল, কাশির দমক যেন না কমে। অন্তত আগামী আধ ঘণ্টা তো নয়ই। কারণ, এর পরই যে-পরিস্থিতি তৈরি হবে, তার মুখোমুখি হওয়ার হালত আপাতত উধাও।
“ভাই, বিয়ে শুনেই বিষম খাচ্ছিস? বিয়ে করলে কী হবে? ত্রিধা, পারবি তো একে সামলাতে?”
টিসু দিয়ে হাত মুছছিল ত্রিধা। অত্যন্ত সংযত গলায় বলল, “অগ্নিদা, বিষম খাওয়া তো আটকাতে পারব না। কিন্তু জলের গ্লাস বাড়ানো, ‘বালাই ষাট’ বলে পিঠে হালকা চাপড় মারার টোটকা যদি কাজে দেয়, তা হলে সামলে নেব, আশা করি।”
“উফ! তুই পাক্কা গৃহিণী হয়ে উঠেছিস দেখছি! আর ফেলে রাখিস না। বিয়েটা করেই ফেল।”
“তার পর অশান্তি হলে তুমি মিটমাট করতে আসবে তো?” বেমক্কা পাল্টা প্রশ্ন কী ভাবে বেরিয়ে এল, সম্বিত ঠাহর করতে পারল না। ত্রিধার চোখমুখও হঠাৎ বেশ সিরিয়াস দেখাচ্ছে। স্বাভাবিক। বিরক্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রবল লজ্জায় আর অস্বস্তিতে নিজেকে ধিক্কার দিতে দিতে ফিরনির বাটি নাড়াচাড়া শুরু করল সম্বিত।
“আরে আসব না মানে! আলবাত আসব। শোন, ঝগড়া হলে দু’জনের মধ্যে যে নিজেকে বেশি ভিক্টিম মনে করবি, সে আমায় সব কিছু গুছিয়ে জানাবি। তার পর আমি আর বনশ্রী দেরি না করে গাড়ি হাঁকিয়ে ছুটে আসব। তোদের দুটোকে বগলদাবা করে নিয়ে যাব টাকি। শীতকাল হলে বাড়ির বাগানে বনফায়ার। বর্ষায় ইলিশ-খিচুড়ি। সম্বিতের জন্য টাকিতে একটা গিটার কিনে রেখেছি। খিচুড়ি খেয়ে মন চাঙ্গা হবে নিশ্চিত। এর পর ফুরফুরে মনে যুগলে মিলে ‘ভিনদেশি তারা’ ডুয়েট গাইবি। গান শেষে হালকা সুরা সহযোগে জীবন-যৌবন নিয়ে গভীর আলোচনা। বল, এর চেয়ে ভাল ম্যারেজ কাউন্সেলর তোরা পাবি? তাও ফ্রি অব কস্ট!”
অগ্নিদার কথায় হেসে উঠল। এ বার দু’জনেই।
“সে না হয় হল। কিন্তু ধরো, যদি রেগুলার ঘর-গেরস্থালির কাজকম্ম নিয়ে ঝামেলা লাগে? যেমন আমার মশারি টাঙাতে ভাল লাগে না। ও রান্নার কিচ্ছু জানে না। আমার হাইজিনের বাতিক আছে। ও বাইরে থেকে এসে পা না ধুয়ে বিছানায় ওঠে। এ-সব নিয়ে ঝামেলা লাগলে ঠেকাবে কে?” উজ্জ্বল চোখে প্রশ্ন করে ত্রিধা।
“সহজ করে ভাবতে চাইলে শক্ত সমস্যার গাঁটও চট করে আলগা হয়ে যায়। শুধু দু’জনকেই একটু সহজ হতে হয়। মুখোমুখি বসে কথা বলতে হয়। ব্যস, এই তো!” বলে অগ্নিদা।
ত্রিধার গলা অনেকটা নরম শোনাল। কান্নাভেজা নয়, বড্ড মায়াময়। ফার্স্ট ইয়ারে কলেজ ক্যান্টিনে এক দিন ছেলেবেলার কথা বলছিল ত্রিধা। পুরী বেড়াতে গিয়ে ভিড়ে বাবার কোলছাড়া হয়ে যাওয়ার গল্প। সেদিনও ত্রিধার গলার স্বর এক গহন খাদে নেমে এসেছিল। বকুলঝরা শেষ বিকেলে ক্যাম্পাসের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে আচমকা সম্বিত ওকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিল। অনেক ক্ষণ। কারণ জিজ্ঞেস করায় কোনও উত্তর দেয়নি। শুধু বলেছিল, “চুপ! একদম চুপটি করে থাক। কথা বলিস না!”
আজ বিকেল শেষের মৃদু আলোয় সম্বিত দেখতে পেল, ত্রিধার ব্যাগে রাখা বইয়ের মলাট। ‘দিবারাত্রির কাব্য’। আজ এটা ফেরত নিতে ইচ্ছে করছে না। কিছুতেই না।
*****
ধর্মতলার এল-২০ বাসস্ট্যান্ডের পাশে মেট্রো গেট। অফিসফেরত জনতার ভিড়। সম্বিতের তাড়া নেই আজ। সূর্যাস্ত-রাঙানো ছাপছোপ কোদালকুড়ুলি মেঘে ছেয়ে আছে গোটা আকাশ। আর কিছুক্ষণ। তার পর হঠাৎ সব কিছু কালচে হতে হতে আবছায়ায় মিলিয়ে যাবে। ত্রিধা পাশে থাকলে এই অল্প সময়টুকু হয়তো আকাশের দিকে চুপচাপ তাকিয়ে থাকত দু’জনেই।
“প্রেম কতদিন বাঁচে— এর উত্তরে হেরম্ব বলেছিল, এক দিন, এক সপ্তাহ, বড়জোর এক মাস। এক মাসের বেশি প্রেম নাকি সহ্য করা যায় না! কথাটা ভেবে দেখেছ কখনও?” ত্রিধা নীরবে কখন পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, সম্বিত টেরও পায়নি।
“সোদপুর গেলে না?”
“নাঃ। শেয়ালদায় যাত্রী অসন্তোষ। লোকাল ক্যানসেল। খবরে দেখাচ্ছে। বাবা বলল। বাড়ি ফিরে যাব। তার আগে মানিকের উপন্যাস আর বিশেষ করে হেরম্বের ওই কথাটা নিয়ে একটু কাটাছেঁড়া করতে চাই। চলো, কোথাও গিয়ে বসি কিছুক্ষণ। অসুবিধে নেই তো?”
“তার আগে আকাশটা চেয়ে দেখো। এর চেয়ে সুন্দর ক্যানভাস পাবে না। কী অদ্ভুত কার্নিভাল!”
“সেটা হাতে চায়ের ভাঁড় নিয়েও তো দেখা যায়… ”
ব্যস্ত শহরের চিৎকার ঠেলে দু’জনে চুপচাপ হাঁটতে থাকল। তার পর ভীষণ মরিয়া হয়ে বলে উঠল সম্বিত, “বইয়ের আলমারি কিনেছি গত সপ্তাহে, বেশ পেল্লায় গোছের!”
“বেশ তো। ভালই হল। আজ যে বইগুলো দেব, সুন্দর করে সাজিয়ে রেখো!” মৃদু গলায় জবাব দিল ত্রিধা। স্বর আঁধার-বিষাদে মেদুর।
“আমি তো রাখবই। চাইলে তুমিও তোমার আঁকার সরঞ্জাম এনে গোছাতে পারো!” বলামাত্র অনুমতির তোয়াক্কা না করে ত্রিধার হাতে হাত রাখল সম্বিত। সর্পিল আশ্লেষে আঙুলে আঙুল জড়াল। আর আড়চোখে নয়। ভীষণ এক অভিমানে চেয়ে রইল দু’জন। বেয়াড়া চোখের জল… সেও উথলে উঠল। মোছার প্রয়োজন অনুভব করল না কেউই!
“ক্যানভাসটা কোথায় থাকবে? জুতোর র্যাক কিনেছ? এখনও আরশোলা উড়ে বেড়ায়? একটাও যদি দেখি, আমি কিন্তু সেকেন্ড টাইম যাব না! আচ্ছা সম্বিত, কেন তুমি সেদিন ওভাবে…”
কথার পিঠে জমে উঠল কথা। শহিদ মিনারের আড়ালে রঙিন মেঘের স্তম্ভ। তার পাড় ঘেঁষে উড়ে চলেছে ব্যস্ত পাখির ঝাঁক। পথ এখনও অনেকটা দূর। রঙিন মেঘ কালচে হতে বেশি দেরি নেই। আলো পুরোপুরি নিবে যাওয়ার আগে তাদের বাসায় ফিরতে হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে