ছবি: প্রসেনজিৎ নাথ।
এখনও ব্যাপারটা বিশ্বাস করতে পারছে না হৈমন্তী। নিজের চোখে দেখেনি, কিন্তু নিজের কানে তো শুনেছে! বাবুকে, বাবুর বৌকে, নাতিকে এখনও পর্যন্ত কিছু বলেনি সে। বললে বলবে কানের ভ্রম। ভ্রম-ট্রম কিছু নয়, হৈমন্তী বুঝতে পেরেছে বাবুর বাবা মরেও মরেনি! বাবু, বাবুর বন্ধুরা ম্যাটাডোরে চাপিয়ে খই ছড়াতে ছড়াতে কেবল বাবুর বাবার খোলসটাকে নিয়ে গেছে। ভিতরের অংশটা বাড়িতেই আছে। ভিতরের অংশ ভাবলে তেমন একটা ভয় করছে না। কিন্তু আত্মা ভাবলেই হৈমন্তীর গায়ের লোম খাড়া হয়ে উঠছে।
বাবুর বাবার শরীরটা ক’দিন থেকে বেশ খারাপ যাচ্ছিল। প্রেশার হাই। শুগার লেভেলও খুব চড়া। সারা জীবন হৈমন্তীর একটাও কথা শোনেনি বাবুর বাবা। বার্ধক্যে এসে আরও বেয়াড়া হয়ে গিয়েছিল। সারা দিন শুধু খাই-খাই। শরীর খারাপ নিয়েও বাজার যাওয়া চাই। বাজারে গেলেই ছোট মাছ নেওয়া চাই।
এ বাড়িতে রান্নার লোক রাখার নিয়ম নেই। কেবল থালা-বাসন মাজা এবং ঘর মোছার এক জন ঠিকে ঝি আছে। আর এক জন সপ্তাহে দু’দিন এসে জামাকাপড় কেচে দিয়ে যায়। শাশুড়ির আমলে একটাও কাজের লোক ছিল না। সব কাজ শাশুড়িকেই করতে হত। হৈমন্তী এই বাড়িতে বৌ হয়ে আসার পর যতটা পারত শাশুড়িকে সাহায্য করত। বাবুর ছেলে হওয়ার পর বাড়িতে প্রথম কাজের লোক ঢোকে।
জ্যান্ত কই, মাগুর, শিঙি... হৈমন্তীকেই কাটতে হয়। কই, শিঙি মাঝে মাঝে মাছওয়ালারা কেটে দিলেও খলসে, চাঁদা, মৌরলা কেটে দেয় না। এক ঘণ্টা ধরে সেই মাছ বেছে ঠিকে ঝিয়ের হাতে-পায়ে ধরতে হয়, “একটু ঘষে দে মা মাছগুলো। ধুয়ে দে। কোমর কনকন করছে। আজ মনে হয় আর হাঁটতে পারব না।”
মালতী অত নিষ্ঠুর নয়। বাবা-বাছা করে বললে ঘষে-ধুয়ে দেয়।
কিন্তু বাবুর বাবার মতো নিষ্ঠুর মানুষ হৈমন্তী দুটো দেখেনি। হৈমন্তীর কষ্ট হয় দেখেও ওই সব মাছ আনে।
পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে জ্বালিয়ে মেরেছে। সব সময় নিজের কথাটা আগে ভেবেছে।
হৈমন্তীর ভাগ্যে চাকরিওয়ালা বর জুটতে জুটতে জোটেনি। শেষ পর্যন্ত মুদির বৌ হতে হয়েছে।
বড় দোতলা বাড়ি। নীচের তলায় বিশাল মুদিখানার দোকান। ‘লক্ষ্মী ভাণ্ডার’। শ্বশুর মারা যাওয়ার পর পুরো দোকান বাবুর বাবার। বাবুর বাবার একটাই ভাই। সে গুজরাতে নামকরা কাপড়ের মিলের ম্যানেজার। খুব ভাল মাইনে। ওখানেই বৌ নিয়ে থাকে। ছেলেমেয়েরা প্রতিষ্ঠিত। ছেলে দিল্লিতে চাকরি করে। মেয়ে দাঁতের ডাক্তার। হৈমন্তীর শ্বশুর খুব রক্ষণশীল ছিলেন। মেয়েদের ব্যাপারে তাঁর ভাবনাচিন্তা খুবই সেকেলে ছিল।
নিজের দুটো মেয়েকে সেভাবে পড়াশোনা করাননি। বিয়ে দিয়েছেন অজ পাড়াগাঁয়ে। নিজের স্ত্রীর হাতে কখনও টাকাপয়সা দেননি। হৈমন্তী এ-বাড়ি এসে দেখেছে, শাশুড়ি শুধু রান্নাঘর আর ঠাকুরঘর সামলায়।
শ্বশুর নিজে অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার আর ওষুধের ব্যবস্থা হয়ে যেত। শাশুড়ি অসুস্থ হলে কবিরাজি ওষুধ এবং টোটকা চলত। দীর্ঘকাল অস্বাস্থ্যকর রান্নাঘরে রান্না করে শাশুড়ি শ্বাসের রোগ বাধিয়েছিল। ভীষণ হাঁপাত। খুব মায়া হত হৈমন্তীর। বুকে তেল মালিশ করে দিত। খুব নরম এবং ভিতু ছিল তার শাশুড়ি। যৌবনে শ্বশুর প্রায়ই শাশুড়ির গায়ে হাত তুলত। ভাত একটু গলে গিয়েছিল বলে কানের দুল এমন টেনে ধরেছিলেন যে, কান কেটে দুল শ্বশুরের হাতে চলে এসেছিল। কানের চিকিৎসা হয়নি। ছোট ছেলে বাবার অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করত। বাবার আচার-ব্যবহার দেখে নিজেই দূরে চাকরি নিয়ে চলে যায়। মায়ের মৃত্যুর খবরে এসেছিল। বাবার বেলায় আসেনি।
শ্বশুরের মতো বাবুর বাবাও মহিলাদের সম্মান দিয়ে কথা বলেনি কোনও দিন। কথায় কথায় বলত, “মেয়েছেলে, মেয়েছেলের মতো থাকো। বিপ্লবী হতে যেয়ো না।”
অকারণে ছেলের সামনে ছোট করত। ব্যঙ্গ করে কথা বলত। বাবার দেখে ছেলেও হৈমন্তীকে অশ্রদ্ধা করতে শিখেছে। অথচ ছেলের যত্নের ব্যাপারে কোনও ত্রুটি রাখেনি সে। ছেলে কথার মাঝখানে মাঝে মাঝেই হৈমন্তীকে থামিয়ে দিয়ে বলে, “চুপ করো তো! তুমি কিছু জানো না।”
সেই সবজান্তা ছেলে পড়াশোনায় তেমন সুবিধা না করতে পেরে চাকরিবাকরি কিছু বাগাতে পারেনি। এ দিকে যে বিয়ে করবে, তারও উপায় নেই। বেকার ছেলেকে কে বিয়ে করবে! মুদিওয়ালা হওয়ার ইচ্ছে নেই। মরিয়া হয়ে একে-তাকে ধরে একটা সরকারি হাসপাতালে মাছ জোগান দেওয়ার কাজ পেল।
জেলেদের কাছ থেকে সরাসরি কিনলে মাছ সস্তায় পাওয়া যায়। তাতে প্রচুর লাভ থাকে। সেই লাভের টাকায় নিজের ঘরটা সাজাল। এসি বসাল। পাত্রী চাই-এর বাজারে বাবুর দর উঠল অবশেষে। হৈমন্তী বুঝেছিল, এই বাড়িতে যে-ই বৌ হয়ে আসুক, সে মেয়ের দুর্গতির অন্ত থাকবে না।
হলও তা-ই। একটা শিক্ষিত মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে এল, অথচ তাকে চাকরি করতে দিল না।
বাবু তার বাবার উপযুক্ত ছেলে। বৌকে ঘরের দাসী করে রাখল। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বৌটাকে পোয়াতি বানিয়ে দিল।
হৈমন্তীর হাতে কখনও টাকাপয়সা দেয়নি বাবুর বাবা। বলত, “মেয়েছেলের হাতে পয়সা গেলে তাদের চরিত্র নষ্ট হয়।” আরও বলত, “খাওয়া-পরা সবই তো জুটছে, টাকা নিয়ে করবেটা কী! ওড়ানোর জন্য এত কষ্ট করে রোজগার করি না। নিজে ইনকাম করো না তো, তাই টাকার মর্ম বোঝো না।”
অযথা তর্ক করত বাবুর বাবা। যুক্তিতে হেরে গেলে রাগে ফেটে পড়ত। হেল্পার ছেলেটি কখনও না এলে বাবুর বাবা জোর করে হৈমন্তীকে দোকানে বসাত। খদ্দেরকে গুড়াখু, জিরেগুঁড়ো, মশা মারার ধূপ, অড়হর ডাল, গুঁড়ো সাবানের প্যাকেট দিতে ভাল লাগত না হৈমন্তীর। দোকানে ইঁদুর আর আরশোলার আধিক্যে গা গুলিয়ে উঠত।
বাবুর বাবা গেল-রবিবার রাতে ফুলকপি-ভেটকি আর ছোলার ডাল দিয়ে ভাত খেয়ে সেই যে ঘুমোল, সকালে আর উঠল না। মাঝরাতে এক বার ঘুম ভেঙেছিল হৈমন্তীর। বাবুর বাবার নাক ডাকার ভয়ঙ্কর আওয়াজটা শোনা যাচ্ছিল না বলে একটু সন্দেহ হয়েছিল। কিন্তু ঘুম ভাঙালে বাবুর বাবা প্রচণ্ড মেজাজ দেখায়, সে কারণে আর ডাকেনি। কাঁথাটা ভাল করে টেনে নিজেকে ঢেকে নিয়েছিল হৈমন্তী। সকালে চা দিয়ে ডাকতে গিয়ে দেখে, বাবুর বাবার গা ঠান্ডা। নিঃশ্বাস পড়ছে না, মোটা পেটটাও ওঠানামা করছে না।
বাবুর বন্ধুরা এল। পাড়া-প্রতিবেশীরা এল। গুজরাত থেকে দেওর আর তার বৌ এল অনেক পরে। বাবুর বাবাকে বারান্দায় বিছানা পেতে শোয়ানো হল। আত্মীয়রা আসতে শুরু করল। লোকজনে বাড়ি ভর্তি হয়ে গেল।
হৈমন্তী বাথরুম যাবে বলে পা বাড়িয়েছে, কে যেন কানের কাছে বলে উঠল, “এখনই বাথরুম যেতে হবে? মাথামোটা মেয়েছেলে কোথাকার! ঘরে গিয়ে দেখো গে তোমার ছোট বোনের নাতি ড্রয়ার খুলে আমার দামি ঘড়িটা বার করে মেঝেয় ঘষছে।”
আঁতকে উঠল হৈমন্তী। এ যে বাবুর বাবার গলা! কিন্তু ওই তো বডিটা বারান্দায় শোয়ানো। বেশ কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। পাশ-করা ডাক্তার ডেথ সার্টিফিকেটও দিয়ে দিয়েছে। তা হলে!
আবার বাবুর বাবার গলা, “আলমারিতে তালা দিয়ে চাবি ঝুলিয়ে রাখার কী ফল, দোতলায় গিয়ে দেখে এসো। মাল কেনার কুড়ি হাজার টাকা বাবুর শালা এইমাত্র পকেটে পুরল। এই জন্যই মেয়েছেলের হাতে সংসারের দায়িত্ব দিতে নেই। বাবা একদম ঠিক বলত।”
মারা যাওয়ার পরেও কী শান্তি দেবে না লোকটা!
হৈমন্তী বলল, “কবে দিয়েছ দায়িত্ব? সারা জীবন তো চাকরানি বানিয়ে রেখেছিলে!”
শ্মশানের কাজ মিটল। আত্মীয়রা যে যার নিজের বাড়ি ফিরে গেল। কিন্তু বাবুর বাবা গেল না। দিনরাত্তির হৈমন্তীর আশপাশেই ঘুরঘুর করতে লাগল আর ফিসফিস করে বলতে লাগল, “ছেলের বৌয়ের জন্য মাছ রাঁধতে গিয়ে তুমি যেন দু’পিস খেয়ে ফেলো না। মুখে অত ক্রিম ঘষার কী আছে! তোমার না স্বামী মারা গেছে! চুলে রং করার আর দরকার নেই। আমি নেই, কাকে দেখাবে!”
সব শুনে পঁয়ষট্টি বছরের সুন্দরী হৈমন্তী বলল, “মরণ! যাও তো এখান থেকে। সারা জীবন জ্বালিয়ে মেরেও শান্তি হয়নি?”
সাদা শাড়ি পরতে ভাল লাগে না হৈমন্তীর। ওই তো চৌধুরীদের বড় ছেলেটা মারা গেল। কিন্তু তার বৌ রিনা কখনও সাদা শাড়ি পরে না! রিনা অবশ্য হৈমন্তীর থেকে বয়সে ছোট। কতই বা ছোট! বড়জোর দু’-তিন বছরের।
আলমারি গাঢ় রঙের শাড়িতে ভর্তি। বাবুর বিয়ের পরে বেয়ানও পুজোপার্বণে খুব সুন্দর দামি শাড়ি উপহার দিয়েছে। কতগুলো পরাই হয়নি। সারা দিন কাজেকর্মে কাটত বলে ভাল শাড়ি পরাই হত না। অশৌচ কেটে গেলে হালকা রঙের শাড়িগুলো পরবে বলে কয়েকটা আলাদা করে বেছে রেখে দিল হৈমন্তী।
এদিকে বাবু বলল, তার পক্ষে সাদা কাছা পরে খালি পায়ে শোক পালন সম্ভব নয়। হাসপাতালে নাকি ওসব চলে না। হাসপাতালে কেন ওসব চলে না, হৈমন্তী বুঝল না। বাবু আরও জানিয়ে দিল, ন্যাড়া-ফ্যাড়া সে হতে পারবে না। তাকে নাকি তার বাবা জীবিত অবস্থায় কোনও এক দিন ন্যাড়া হতে বারণ করেছিল। হৈমন্তীর মনে পড়ল না, বাবুর বাবা কবে এ কথা বলেছিল।
তবে হৈমন্তী স্পষ্ট বলে দিয়েছে, ক’টা দিন সে বাড়িতে আমিষ ঢোকাবে না।
এর মধ্যে বাবুর বাবা চিবিয়ে চিবিয়ে কানের কাছে বলতে শুরু করে দিল, “আমি বাবুকে কবে ন্যাড়া হতে বারণ করেছিলাম! দেখেছ তো, কেমন একটা জানোয়ার ছেলের জন্ম দিয়েছ তুমি।”
হৈমন্তী হাসল। হাসলে হৈমন্তীকে ভারী সুন্দর দেখায়। এই বয়সেও।
“অত আহ্লাদিপানা হাসির কী আছে? স্বামী মরেছে বলে তোমার দেখছি মনে আনন্দ আর ধরছে না!”
মুখের হাসিটি বজায় রেখে হৈমন্তী জবাব দিল, “বাবু তো একেবারে তোমার মতো... বুঝতে পারছ না? আমার পেট থেকে বেরোলেও বাবু তোমারই প্রতিচ্ছবি।”
ওদিক থেকে কোনও উত্তর পেল না। ঘরে গিয়ে দেখল, হালকা রঙের যে শাড়িগুলো পরে পরবে বলে আলাদা করে রেখেছিল, সেই শাড়িগুলো কে যেন ছিঁড়ে রেখে দিয়েছে! কার কাজ বুঝতে অসুবিধে হল না।
ছেলেকে ডেকে দেখাল হৈমন্তী। ছেলে তার স্বভাবসুলভ মেজাজ দেখিয়ে বলল, “শ্মশানে নিজের হাতে মুখে আগুন দিয়ে এসেছি। আর বাবা নাকি মরেনি! যত্তসব ফালতু কথা। নতুন শাড়ি নেবে বলে তুমি নিজেই এগুলো ছিঁড়েছ।”
ছেলের কথা শুনে একটুও অবাক হল না বা কষ্ট পেল না হৈমন্তী। এ বাড়ির ছেলেরাই এমন। ব্যতিক্রম শুধু তার দেওর।
রাতে ঠাকুরমশাইকে ডেকে পাঠিয়েছিল হৈমন্তী।
বাবুর বাবার ব্যাপারে সবটা খুলে বলল। ঠাকুরমশাই বিষয়টা সিরিয়াসলি নিলেন এবং বললেন, “মাঝে মাঝে এমন হয়। কিছু আত্মা বাড়ির মায়া ত্যাগ করতে পারে না। শ্রাদ্ধশান্তির পর আর এমন না হওয়ারই কথা। মা জননী, যদি তার পরেও যদি বাবুর বাবা আপনাকে বিরক্ত করে, বাবুকে গয়ায় গিয়ে পিণ্ডদান করতে হবে। তবেই বাবুর বাবার মুক্তি ঘটবে।”
পরের দিন বেলার দিকে সুশান্তকে ডেকে পাঠাল হৈমন্তী। সুশান্ত কাঠের কাজ করে। সুশান্তর বাবাও কাঠের কাজ করত। মারা গেছে। বিয়ের পর বাবুর বাবাকে মনে না ধরলেও তাদের শোয়ার ঘরটা খুব পছন্দ হয়েছিল হৈমন্তীর। দোতলায় খুব বড় ঘর। লাল রঙের মেঝে।
দক্ষিণ দিকে পালঙ্কের গা ঘেঁষে মস্ত জানালা। কাঠের পাল্লা আর লোহার শিক। উঠোনের মুচকুন্দ চাঁপা গাছটা তখন প্রায় দোতলা ছুঁই-ছুঁই। পাশে একটা নিমগাছ। মুচকুন্দ চাঁপার বড় বড় পাতার ফাঁক দিয়ে পাঁচিলের ওদিকে নৃপেন সমাদ্দারের শৌখিন বাড়িটি দেখা যেত। অকৃতদার নৃপেনবাবু কাজের লোকজন নিয়ে সে বাড়িটায় থাকেন। কাঠের ব্যবসা। গাড়ি ছিল দুটো। সকালে বারান্দায় বসে চা খেতেন। সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি পরা নৃপেনবাবুকে এক ঝলক দেখে বাংলা সিনেমার নায়ক বসন্ত চৌধুরীর কথা মনে হয়েছিল। সে কথা স্বামীকে খুব উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছিল হৈমন্তী।
ফলস্বরূপ সেদিনই সুশান্তর বাবাকে ডেকে বাঁশের বাতা দিয়ে জানলাটা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বাবুর বাবা।
সে কষ্ট অনেক দিন কুরে কুরে খেয়েছিল হৈমন্তীকে। তার পর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ জানলার অভ্যেস হয়ে গিয়েছিল।
সুশান্তকে ডেকে বাতা হটিয়ে জানলাটা খোলাল হৈমন্তী। ঘরটা আলো-বাতাসে ভরে গেল।
তার পর থেকেই অদ্ভুত ভাবে বাবুর বাবার গলা আর শুনতে পেল না হৈমন্তী।
নির্বিঘ্নে শ্রাদ্ধের কাজ মিটে গেল। মুদিখানা তুলে দিয়ে কেক প্যাটিস কোল্ড ড্রিঙ্কসের দোকান দেবে, এমনটাই ভেবে রেখেছে হৈমন্তী। যে ছেলেটি বাবুর বাবার সঙ্গে দোকানে থাকত, তাকে সঙ্গে নিয়েই দোকান চালাবে। ‘লক্ষ্মী ভাণ্ডার’ বদলে হবে ‘হৈম কনফেকশনারি’।
এখন রোজ সকালে দক্ষিণের জানলা দিয়ে হাত বাড়িয়ে চাঁপাফুল তোলে হৈমন্তী।
নৃপেনবাবুর দরাজ গলায় বলা “গুড মর্নিং”-এর জবাবে হৈমন্তী হেসে দক্ষিণের জানলা দিয়ে উত্তর দেয়, “ভেরি গুড মর্নিং!”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে