ছবি: সংগৃহীত।
নামটি বেশ অদ্ভুত! কিন্তু অর্থটি সোজা। ‘ভেন্ডাকাই’ হল ঢেঁড়স আর ‘সাসিভে’ আদতে সর্ষে। অর্থাৎ সর্ষে ঢেঁড়স। কিন্তু রান্নাটি বাঙালির চিরচেনা সর্ষে দিয়ে ঢেঁড়সের ঝাল নয়। এ রান্না খাস কর্নাটকের। এই রান্নায় পড়ে কিছুটা দই, সামান্য নারকেল কোরানো আর অন্য রকম কিছু ফোড়ন।
যাঁরা ঢেঁড়স খেতে ভাল বাসেন তাঁদের তো ভাল লাগবেই, যারা ঢেঁড়সের পিচ্ছিল ভাবের জন্য খেতে পারেন না, তাঁরাও এই খাবার চেটে পুটে খাবেন। কারণ, এ রান্নাটি করার আগে ঢেঁড়সকে হালকা তেলে নেড়ে নেওয়া হয়। ফলে পিচ্ছিল ভাব কেটে যায়।
কর্নাটকে এই রান্না পরিবেশন করা হয় গরম ভাত এক বিশেষ ধরনের নুড্লসের মতো দেখতে পাঁপড়ভাজার সঙ্গে। ডাল, অন্য সব্জি ভাজা, বাড়তি তরকারি—কিছুরই দরকার পড়ে না। শুধু সুগন্ধের জোরেই উঠে যায় এক থালা ভাত। আবহাওয়া ক্রমশঃ তপ্ত হচ্ছে এই সময় হালকা আর ঠান্ডা খাবার খেতে বলা হয় এই তরকারি পেট ঠান্ডা করার জন্য আদর্শ। আবার চাইলে অতিথির পাতেও সাজিয়ে দিয়ে চমকে দেওয়া যাবে।
উপকরণ:
১.৫ কাপ কুচানো ঢেঁড়স
৩ টেবিল চামচ তেল
৩/৪ কাপ টাটকা কোড়ানো নারকেল
১ চা চামচ সর্ষে
১–২ টি কাঁচা লঙ্কা
১ চা চামচ জিরে
১ টি শুকনোলঙ্কা
৭-৮টি কারিপাতা
এক চিমটি হিং
প্রণালী
১. একটি প্যানে ২ চামচ তেল গরম করে কুচানো ঢোঁড়সগুলো দিয়ে দিন। ভালো করে নাড়াচাড়া করে ভাজুন যতক্ষণ না ঢেঁড়স সেদ্ধ হচ্ছে এবং এর পিচ্ছিল ভাব চলে যাচ্ছে। ভাজা হয়ে গেলে আঁচ বন্ধ করে এটি সম্পূর্ণ ঠান্ডা হতে দিন।
২. কোরানো নারকেল, সর্ষে, কাঁচা লঙ্কা এবং সামান্য জল দিয়ে মসৃণ ভাবে বেটে নিন।
৩. একটি বড় পাত্রে তৈরি করা বাটা মশলা দিয়ে দিন। এতে ১/২ কাপ দই, ভেজে রাখা ঢেঁড়স এবং স্বাদমতো নুন দিয়ে মিশিয়ে নিন।
৪. ছোট একটি প্যানে এক চামচ তেল গরম করে তাতে জিরে, শুকনো লঙ্কা, কারিপাতা এবং হিং ফোঁড়ন দিন। মশলা ভাজা হয়ে সুন্দর গন্ধ বেরোলে ওটি ঢেঁড়স এবং দইয়ের মিশ্রণের ওপর ঢেলে মিশিয়ে দিন। তা হলেই তৈরি হয়ে যাবে ভেন্ডকাই সাসিভে