Debina-Gurmeet Jamaishasthi

তেল নয়, ঘিয়ে রাঁধি চিংড়ি, শুক্তো! তাতেই মুগ্ধ জামাই, পর্দার ‘রাম’ গুরমীতকে কী খাওয়ান দেবিনার মা

মুম্বইয়ের বাড়িতেই সকাল থেকে রকমারি বাঙালি পদ রাঁধেন অভিনেত্রী দেবিনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা। একদা পর্দার ‘রাম’, অধুনা বলি নায়ক গুরমীত চৌধরীর জামাইবরণ যেন দেখার মতো হয়! আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে অকপট আড্ডায় খুঁটিনাটি জানালেন দেবিনা ও তাঁর মা শবরী বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ১১:৫৮
Share:

দেবিনা-গুরমীতের জামাইষষ্ঠীর এলাহি খাবারের রেসিপি আনন্দবাজার ডট কম-এ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দিনভর জামাই-আদর। আর সেখানে দেবিনা বন্দ্যোপাধ্যায় আর গুরমীত চৌধরীর প্রসঙ্গ উঠবে না, তা হয়? মুম্বই নগরীতে আপাদমস্তক বাহারি বাঙালি পদ পরিবেশন করা হয় পর্দার ‘রাম’কে। দিন কয়েক আগে থেকে বাজারহাট শুরু হয়। সৌজন্যে দেবিনার মা। নিজে হাতে সমস্ত রান্না করেন ষাটোর্ধ্ব শবরী বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

সকাল থেকে ভরভরন্ত হেঁশেল থেকে আসে খুন্তির আওয়াজ, আনাজ কাটার শব্দ আর ভুরভুর করে আসা হরেক পদের সুগন্ধ। দেবিনার কথায়, ‘‘ওই একটা দিনই তো গুরমীত খেতে পারে, তাই মা জামাই-আদরে কোনও ত্রুটি রাখতে চায় না। নয়তো সারা বছরই কড়া ডায়েট চলে ওর। আর এখন আমাদের দুই মেয়েও এই ষষ্ঠীর দিন খুব আনন্দ করে। মায়ের হাতের রান্না খেতে ভালবাসে তারাও। আমাদের মতোই শুক্তোর প্রেমে পড়েছে গুরমীত আর দুই কন্যা।’’ তবে মাঝেমধ্যে গুরমীতের খাওয়ার ধরনে চটেও যান শাশুড়ি। এত এত পদ খেতে খেতে পেট ভরে গেলে কখনও-সখনও একসঙ্গে মেখে ফেলেন জামাই। আর রাঁধুনির তখন আক্ষেপের শেষ থাকে না। ধমকের পর যদিও ক্রম মেনেই খেতে থাকেন গুরমীত।

মুম্বই নগরীতে আপাদমস্তক বাহারি বাঙালি পদ পরিবেশন করা হয় পর্দার ‘রাম’কে। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

দেবিনার বন্ধুরা শুক্তো খেয়ে বড়ই অবাক হন। একটাই বিস্ময় — ‘ভরওয়া করেলা’ বা নিম-করলার জ্যুস ছাড়া এই দুই সব্জি যে এমন কোনও রান্নায় দেওয়া যেতে পারে, আর তা এত সুস্বাদু হতে পারে, ভাবতেই পারেন না তাঁরা। নিম-বেগুন ভাজা থেকে নিমপাতা ভাজা, বা উচ্ছে-আলুভাতে অথবা জিভে জল আনা শুক্তো! তারকা দম্পতির অবাঙালি বন্ধুদের কাছে অষ্টম বিস্ময়ের স্থান নিতে পারে এই রেসিপি। আগে গুরমীতও নাক সিঁটকাতেন, কিন্তু বাঙালি স্ত্রীর দৌলতে এখন প্রিয় খাবারের তালিকায় স্থান দখল করে নিয়েছে নিম, করলা, উচ্ছের মতো তেতো সব্জিগুলির পদ।

Advertisement

কেমন ভাবে শুক্তো বানান দেবিনার মা? রইল তার প্রণালী—

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বাংলার জামাই গুরমীত আদপে বিহারের মানুষ। তাঁর খাওয়াদাওয়ার সঙ্গে তেমন কোনও মিল নেই দেবিনার খাওয়াদাওয়ায়। কিন্তু সেই জামাই-ই বাঙালি খাবার খেতে বড় ভালবাসেন। মাছের মুড়ো থেকে পায়েস, বাসন্তী পোলাও থেকে চিংড়ির মালাইকারি যে ভাবে সাবাড় করেন, তাতে দেবিনা খানিক ভয়ই পান বটে। কারণ, খাওয়ার পর পাত ছেড়ে ওঠার ক্ষমতা থাকে না গুরমীতের। কিন্তু একটাই তো দিন, তাই বেশি বারণও করতে পারেন না দেবিনা।

জামাইষষ্ঠীতে বাঙালি খাবার চেটেপুটে খেতে পছন্দ করেন গুরমীত। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

প্রতি বছরই জামাইষষ্ঠীর দিন শবরী একা হাতে সমস্ত রান্না করেন। তবে রান্নার সময়ে বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয় তারকার শাশুড়িকে। সে বাড়িতে এখন আলু, চিনি, গুড় বা তেলের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়ে গিয়েছে। তাই যে কোনও খাবারই ঘি দিয়ে রাঁধা হয় সে বাড়িতে। আলুর জায়গা নিয়েছে রাঙাআলু, চিনির জায়গা নিয়েছে স্টিভিয়া আর তেলের গদি গিয়েছে ঘিয়ের কাছে। রান্না হয় সেইমতোই। গোবিন্দভোগ চাল দিয়ে বাসন্তী পোলাও, সাদা ভাত, বড়িভাজা, শাকভাজা, কুমড়োভাজা, পটলভাজা, বেগুনভাজা, শুক্তো, ছোলার ডাল, শুকনো ডালের ভর্তা, পনির, পাবদা মাছের ঝোল, মাছের মুড়ো, পোনা মাছের ঝোল, চিংড়ির মালাইকারি, কচি পাঁঠার ঝোল, গোবিন্দভোগ চালের পায়েস, টম্যাটোর চাটনি, পাঁপড়, মিষ্টি, সন্দেশ— এ তালিকার অন্ত খুঁজতে গেলে খানিক বেগ পেতে হবে। সবই হয়, কিছু উপাদান অদলবদল করে।

ঘি দিয়ে কী ভাবে চিংড়ির মালাইকারি বানান দেবিনার মা? দিলেন তার রেসিপি

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তবে শবরীর আক্ষেপ, ‘‘কলকাতার মতো সব্জি কোথায় পাওয়া যায়! তবু মুম্বইয়ের বাজারে গিয়ে যা যা ভাল পাই, সেগুলিই রান্নায় দিই। যথাসম্ভব ভাল করে খাওয়াতে চাই ওদের। যেমন গুরমীতের জন্য মাছের মুড়ো আর পেটি রাখাই থাকে। ও দিকে শুক্তো ওর খুব প্রিয়। চিংড়ি, পাবদার মতো মাছও খেতে ভালবাসে সে। তবে পোনা মাছ ভাজা খেতে না পারলে গুরমীতের জন্য ভাপা দইমাছ বানিয়ে দিই। বেগুনপ্রেমী গুরমীত আবার বেগুনপোড়াও খেতে চায় ভীষণ। আবার কখনও ডাল শুকনো করে পেঁয়াজভাজা, রসুনভাজা দিয়ে হাত দিয়ে মেখে দিলে চেটেপুটে খায়। সেটা ওর খুব পছন্দ। সে সব সাধারণ দিনেই বেশি করি। তবে ষষ্ঠীর দিন সবচেয়ে কঠিন হল, ওদের বন্ধুদের জন্য রান্না করা। কারণ, তাঁরা নানা ভাষাভাষী, নানা অঞ্চলের মানুষ। কেউ কেউ তার মধ্যে আবার নিরামিষাশী। তখন আমি একটু ভাবনায় পড়ে যাই।’’

রেঁধে বেড়ে জামাইকে নিজের হাতে খাওয়াতে ভালবাসেন শাশুড়ি শবরী। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

দেবিনা-গুরমীতের বাড়িতে কেবল জামাইকে তুষ্ট করা হয় না। বাঙালি খাবারের লোভে হাজির হন তারকা মহলের বন্ধুবান্ধব। তাঁদের কাছে উপলক্ষ একটিই, দেবিনার মা রাঁধবেন। শবরীর কথায় বোঝা গেল, কেবল অতিথিদের জন্যই নিরামিষ রাঁধেন তিনি, নিজেরা খান না। তাঁদের জন্য এক বার বাসন্তী পোলাও আর হিং দিয়ে মুগের ডাল বানিয়ে দিয়েছিলেন, চেটেপুটে খেয়েছিলেন সকলে। বড্ড আনন্দ পেয়েছিলেন তাঁরা। বাঙালির জন্য যে যুগলবন্দির কোনও মূল্যই নেই, তা দিয়েই জামাইবরণের দিন অতিথিবরণ হয়ে যায় শবরীর। তার সঙ্গে কখনও ছোলার ডাল, পনিরও অবশ্য বানিয়ে দেন তিনি।

কী ভাবে পনির বানান শবরী? তাঁর কথায়, ‘‘খুব সহজে চট করে পনিরের একটা কোনও পদ বানিয়ে দিই, তা-ই দেখি কী ভাল খায় সবাই’’। রইল তাঁর নিজস্ব রেসিপি—

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দেবিনা-গুরমীতের বাড়িতে সে দিন নেপাল, অসম, দেহরাদুন, বিহার থেকে আসা কর্মীরাও নিমন্ত্রিত থাকেন। তাঁরাও সে দিন এমন সব পদ খেয়ে বড় তৃপ্ত হন। ও দিকে পঞ্জাবি থেকে মরাঠি বন্ধুবান্ধব তো আসেনই। শবরী বলেন, ‘‘ষষ্ঠীর দিন আমাদের এই বাড়ি ছোটখাটো ভারতবর্ষে পরিণত হয়। আর তাঁদের সকলকে খাওয়াতে পারি আমি। বড় ভাগ্যবান মনে হয়। তাঁরা প্রশংসা করলে মন ভরে যায়।’’ সর্ষে দিয়ে ঝাঁজালো মাছের কষা হোক বা দইমাছ, করলা দিয়ে শুক্তো হোক বা নিম-বেগুনভাজা, অবাঙালি বন্ধুদের কাছে যা ছিল ‘আজগুবি’ খাবার, সেগুলিই দেবিনার মায়ের রান্নার গুণে উপাদেয় হয়ে উঠেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement