কালোজিরে ভর্তার রেসিপি। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
শীতের অলস দিনে এক গুচ্ছ ধাপ মেনে রান্না করতে মন চায় না। এ দিকে গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সঙ্গে এমন খাবার খেতে ইচ্ছে করে, যা খেলে শরীর গরম থাকে। এমন সময়েই সহায় হতে পারে কালোজিরের ভর্তা। নামমাত্র উপকরণ দিয়ে, মিক্সির সাহায্যে চটজলদি এই খাবার বানিয়ে নিতে পারবেন। সর্দি, কাশি, ঠান্ডা লাগার ধাত থাকলে এই খাবার পথ্য হয়ে উঠতে পারে। রইল ভর্তা বানানোর রন্ধনপ্রণালী।
উপকরণ
৫০ গ্রাম কালোজিরে
২ টেবিল চামচ সর্ষের তেল
৪-৫টি শুকনো লঙ্কা
আধ কাপ পেঁয়াজকুচি
৬-৭ কোয়া রসুন
স্বাদমতো নুন
প্রণালী
শুকনো খোলায় কালো জিরেগুলি নিয়ে অল্প ভেজে নিন। গ্যাস যেন ঢিমে আঁচে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে কালোজিরে ভাজতে ভাজতে সময়ের জ্ঞান থাকে না। কারণ কালো রঙে পোড়ার ছাপ পড়লে তা স্পষ্ট হয় না। ফলে বেশি ভেজে ফেললেই তেতো হয়ে যায়। তাই বেশ খানিক ক্ষণ ধরে ধীরে ধীরে কালো জিরেগুলি শুকনো খোলায় নাড়াচাড়া করতে হবে। ঠিক যখন, চিরচির করে আওয়াজ হবে এবং জিরের গন্ধ বেরোবে, তখনই বুঝবেন যে, কালোজিরেগুলি রোস্ট হয়ে গিয়েছে। কড়াই থেকে তুলে ফেলতে হবে এ বার। গরম কড়াইয়ে রেখে দেবেন না ভুলেও। নয়তো তাপে বেশি জিরেগুলি পুড়ে যেতে পারে।
এ বার কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে শুকনো লঙ্কা ছেড়ে দিন। চাইলে কাঁচালঙ্কাও দেওয়া যায়। ঝালের প্রয়োজন বুঝে লঙ্কার পরিমাণ নির্ধারণ করে নিন। লঙ্কাগুলি ভাজা হয়ে গেলে তুলে ফেলুন। এ বার তেলের উপর পেঁয়াজকুচি, রসুন দিয়ে না়ড়াচাড়া করে নিন। হালকা বাদামি হয়ে এলে পেঁয়াজ আর রসুন নামিয়ে নিন কড়াই থেকে।
এ বার ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কালোজিরেগুলি শিলনোড়ায় বা মিক্সিতে ভাল করে পিষে নিন। কেউ মিহি পছন্দ করেন, কারও আবার মুখে দানা পড়লে বেশি তৃপ্তি। আপনার প্রয়োজন মতো কালোজিরে পিষে নিন। একটি বাটিতে তুলে রাখুন কালো জিরেগুলি। এ বার মিক্সিতে ভেজে রাখা শুকনোলঙ্কা, পেঁয়াজ, রসুন, নুন ও অল্প সর্ষের তেল দিয়ে বেটে নিন। এক বার ভাল ভাবে বাটা হয়ে গেলে গুঁড়ো করা কালোজিরে ঢেলে দিন মিক্সিতে। সব কিছু একসঙ্গে পিষে নিন। মাথায় রাখবেন, হালকা আঠালো হতে হবে মিশ্রণটি। খুব শুকনো মনে হলে আরও একটু সর্ষের তেল ব্যবহার করতে পারেন।
মিক্সি থেকে বার করে হাতের চাপে গোল করে নিন। চাইলে কাঁচালঙ্কা আর ধনেপাতা উপর দিয়ে ছ়ড়িয়ে দিন। গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সঙ্গে তৃপ্তি করে খেতে পারবেন।