Weird Looking Reptile

আধা কুমির, আধা ডাইনোসর! জুরাসিক যুগের অদ্ভুতদর্শন প্রাণীর মিলল সন্ধান, দেখতে কেমন অধুনাবিলুপ্ত সেই সরীসৃপ?

অদ্ভুতদর্শন এই প্রাণী ছোটবেলায় যে ভাবে চলাফেরা করত, বড় হওয়ার পরে তা সম্পূর্ণ বদলে যেত। ছোটবেলায় এরা হাঁটত চার পায়ে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরে দু’পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে শুরু করত এরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫১
Share:

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

কুমিরের সঙ্গে কিছু মিল রয়েছে, তবে পুরোপুরি নয়। ডাইনোসরদের কিছু প্রজাতির সঙ্গেও তার মিল রয়েছে। ছোটবেলায় এরা হাঁটত চার পায়ে। বড় হওয়ার পর দু’পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে শুরু করে। এমনটাই এক অদ্ভুতদর্শন এক প্রাণীর জীবাশ্মের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা।

Advertisement

আজ থেকে প্রায় ২০ কোটি বছর আগের কথা। ওই সময়ে পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াত বিভিন্ন প্রজাতির ডাইনোসর। তাদের সঙ্গেই ঘুরে বেড়াত এরাও। বিজ্ঞানীদের অনুমান, এখন আমরা যে কুমির দেখি, এরা ছিল সেই কুমিরদেরই কোনও এক আদিম প্রজাতির নিকটাত্মীয়। তবে ডাইনোসর বা কুমিরের সঙ্গে এদের কোনও প্রত্যক্ষ যোগ নেই। এরা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন গোত্রের এক প্রজাতি।

আমেরিকার দক্ষিণপশ্চিমে আরিজ়োনা প্রদেশে এই অদ্ভুতদর্শন প্রাণীর কিছু জীবাশ্মের সন্ধান মিলেছে। আরিজ়োনার পেট্রোফাইড ফরেস্ট ন্যাশনাল পার্কে একটি গবেষণা চালাচ্ছিলেন ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাশ্মবিদেরা। তাঁরাই এই জীবাশ্মগুলি খুঁজে পান। আমেরিকার এই জাতীয় উদ্যানটিতে মেসোজ়োয়িক যুগের বিভিন্ন পর্বের পাথরের স্তর পাওয়া যায়। মেসোজ়োয়িক যুগের মোট তিনটি পর্ব রয়েছে— আদি কাল থেকে ধরলে প্রথমে ট্রায়াসিক যুগ, তার পরে জুরাসিক যুগ এবং শেষে ক্রিটেসিয়াস যুগ।

Advertisement

ডাইনোসরদের আবির্ভাব হয়েছিল ট্রায়াসিক যুগেই। জুরাসিক যুগে (আজ থেকে প্রায় সাড়ে ১৪-২০ কোটি বছর আগে) গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে ডাইনোসরদের ‘আধিপত্য’। ক্রিটেসিয়াস যুগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায় ডাইনোসরেরা। পেট্রোফাইড ফরেস্ট ন্যাশনাল পার্কের এমনই এক প্রাচীন শিলাস্তরে পাওয়া গিয়েছে অদ্ভুতদর্শন এই প্রাণীর জীবাশ্ম। শিলাস্তরটি প্রায় ২০ কোটি বছরের পুরনো। অর্থাৎ, জুরাসিক যুগের। গবেষকেরা এই নতুন প্রজাতির নাম রেখেছেন ‘সনসেলাসুচাস সেড্রাস’। কুমিরের আদিম প্রজাতির নিকটাত্মীয়েরা সেই সময়ে কেমন দেখতে ছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে এই গবেষণায়। সম্প্রতি ‘জার্নাল অফ ভার্টিব্রেট প্যালিওন্টোলজি’ সাময়িকীতে এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।

আরিজ়োনার এই জাতীয় উদ্যান থেকে অতীতেও বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর হাড় এবং জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এই আধা কুমির, আধা ডাইনোসর গোছের প্রজাতিরও ৩৬টি প্রাণীর জীবাশ্ম পেয়েছেন গবেষকেরা। এর মধ্যে বেশির ভাগ জীবাশ্মই বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। ফলে প্রাথমিক ভাবে গবেষণায় কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। তবে জীবাশ্মের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে ‘সনসেলাসুচাস সেড্রাস’-এর দেহের গড়ন এবং বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক বৃদ্ধি কেমন হয়েছিল, তা বুঝতে সুবিধা হয়।

গবেষকেরা বলছেন, ‘সনসেলাসুচাস সেড্রাস’ দেখতে আধুনিক কুমিরের মতো ছিল না। কুমিরের আদিম প্রজাতির এই নিকটাত্মীয়দের দেহ ছিল কিছুটা লম্বা। সামনের দু’টি পা ছিল তুলনায় ছোট। সামনের দু’টি পায়ের তুলনায় পিছনের দু’টি পায়ের জোর ছিল অনেক বেশি। তা ছাড়া এদের দাঁত থাকত না। এর পরিবর্তে পাখির মতো চঞ্চু থাকত এদের। সেটিও বেশ শক্ত।

এই প্রাণীটি ছিল অধুনাবিলুপ্ত শুভোসরিডি গোত্রের। এই গোত্রের অনেক প্রজাতিরই দু’পেয়ে ডাইনোসর গোত্র থেরোপডের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। এই ‘সনসেলাসুচাস সেড্রাস’-এর সঙ্গে কুমিরের বেশ কিছু সাদৃশ্য থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু ডাইনোসর প্রজাতির সঙ্গেও এদের মিল পাওয়া যায়। গবেষকদের দাবি, এটি হল প্রাণীজগতের অভিসারী বিবর্তনের (ভিন্ন ভিন্ন গোত্রের প্রাণীদের মধ্যে কোনও ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র না থাকলেও তাদের মধ্যে একই রকম বৈশিষ্ট্য বিকশিত হওয়া) অন্যতম উদাহরণ।

গবেষণায় আরও জানা গিয়েছে, এই অদ্ভুতদর্শন প্রাণীরা ছোটবেলায় যে ভাবে চলাফেরা করত, বড় হওয়ার পর আর তেমন ছিল না। ছোটবেলায় এই প্রাণীদের সামনের এবং পিছনের পা প্রায় একই আকারের ছিল। যা ইঙ্গিত করে, ছোটবেলায় চার পায়েই হাঁটত এই প্রাণীরা। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক প্রাণীদের জীবাশ্মে দেখা যায়, পিছনের দু’টি পা অনেক লম্বা এবং মজবুত। কিন্তু সামনের পা জোড়া ছোটই রয়ে গিয়েছে। এই পরিবর্তন ইঙ্গিত দেয়, প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যাওয়ার পরে এই সরীসৃপেরা দু’পায়ে ভর দিয়ে হাঁটত। গবেষকদের দাবি, ‘সনসেলাসুচাস সেড্রাস’-এর দেহের সামনের দিকে অঙ্গগুলি পিছনের অঙ্গগুলির তুলনায় ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই পার্থক্যের কারণে তাদের হাঁটার ধরনও বদলে গিয়েছিল।

এদের পিছনের পা ছিল তুলনায় লম্বা এবং পিছনের পায়ের উরুর হাড়ও ছিল তুলনায় বেশি মজবুত। যা ইঙ্গিত করে এই প্রাণীরা দ্রুত চলাফেরা করতে পারত। তবে এরা কী ধরনের খাবার খেত, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। এদের চঞ্চুর গড়ন দেখে গবেষকদের একাংশের অনুমান, এরা সম্ভবত গাছপালার নরম অংশ খেয়ে বেচে থাকত। যদিও এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement