ফ্লরিডার কেনেডি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে রওনা দিচ্ছে নাসার ওরিয়ন মহাকাশযান। ছবি: সংগৃহীত।
চার মহাকাশচারীকে নিয়ে চাঁদের মুলুকে পাড়ি দিল আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসার মহাকাশযান। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিট (ভারতীয় সময় অনুসারে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টে ৪ মিনিট) ফ্লরিডার কেনেডি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে রওনা দেয় ওরিয়ন মহাকাশযান। শক্তিশালী রকেট ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ মহাকাশযানটিকে বায়ুমণ্ডলের স্তর পেরিয়ে উপরে উঠতে সাহায্য করে। পরিকল্পনামাফিক উৎক্ষেপণের ঠিক আট মিনিট পরে রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয় মহাকাশযানটি।
দীর্ঘ পাঁচ দশক পরে চাঁদে মানুষ পাঠাল নাসা। ১৯৭২ সালে চাঁদে যাওয়ার জন্য নাসার অ্যাপোলো প্রকল্প শেষ হয়েছিল। তার আগে , ১৯৬৯ সালেই চাঁদে পা রেখেছিলেন মার্কিন মহাকাশচারী। বর্তমান অভিযানের নাম রাখা হয়েছে ‘আর্টিমিস ২’। এটি সফল হলে প্রায় ৫৩ বছর পরে চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন মহাকাশচারীরা। মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক পার করবে আমেরিকা।
যে চার মহাকাশচারীকে নিয়ে নাসার যান চাঁদের উদ্দেশে পাড়়ি দিয়েছিল, তাঁরা হলেন কমান্ডার রিড ওয়াইসম্যান (প্রাক্তন নৌসেনা পাইলট, ১৬৫ দিন মহাকাশে কাটানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে), পাইলট ভিক্টর গ্লোভার (নাসার ক্রু-১ অভিযানে শামিল হয়েছিলেন), অভিযান বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কচ (মহিলা হিসাবে সবচেয়ে বেশি সময় স্পেসফ্লাইট চালিয়েছেন) এবং জেরেমি হানসেন (কানাডার মহাকাশ সংস্থার মহাকাশচারী, প্রথম বার মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছেন)।
যদি কোনও কারণে আবহাওয়া খারাপ থাকে বা কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়, তা হলে মহাকাশযান ৬ এপ্রিল পর্যন্ত কোনও একটি উপযুক্ত সময়ে পাড়ি দেবে চাঁদে। তার মধ্যেও না-হলে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়ে রাখা হয়েছে। এই চার মহাকাশচারী অবশ্য চাঁদে নামবেন না। বরং পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ থেকে অন্তত ১০০০ মাইল দূরে থাকবেন তাঁরা। পরবর্তী সময়ে চাঁদে মহাকাশচারীদের পাঠানোর ক্ষেত্রে কী কী সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখবেন তাঁরা। তা ছাড়া মহাকাশযানের ‘লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম’ এবং অন্যান্য ব্যবস্থাও পরীক্ষা করে দেখবেন তাঁরা। ১০ দিনের অভিযান শেষ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন চার মহাকাশচারী। তবে ২০২৮ সালে নাসার যান মহাকাশচারীদের নিয়ে চাঁদে অবতরণ করতে পারে।