NASA Satellite Crashing

মহাকাশে নিয়ন্ত্রণ হারাল নাসা! ৬০০ কেজির স্যাটেলাইট ধেয়ে এল পৃথিবীর দিকে, কী পরিণতি

২০১২ সালের অগস্টে নাসা ‘ভ্যান অ্যালেন প্রোব এ’-কে মহাকাশে পাঠিয়েছিল। পৃথিবীর বিকিরণ বলয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্রে আটকে থাকা কণাগুলিকে পর্যবেক্ষণ করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ১৮:১৬
Share:

নাসার কৃত্রিম উপগ্রহ ধেয়ে এসেছে পৃথিবীর দিকে। ছবি: নাসা।

মহাকাশে নিয়ন্ত্রণ হারাল আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ১৪ বছর ধরে তাদের যে স্যাটেলাইট (কৃত্রিম উপগ্রহ) পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছিল, তা আচমকা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। মহাকাশ থেকে তীব্র গতিতে সেটি ধেয়ে আসে পৃথিবীর দিকে। বুধবার পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করেছে নাসার সেই ‘ভ্যান অ্যালেন প্রোব এ’। এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর নেই।

Advertisement

২০১২ সালের অগস্টে নাসা ‘ভ্যান অ্যালেন প্রোব এ’-কে মহাকাশে পাঠিয়েছিল। পৃথিবীর বিকিরণ বলয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্রে আটকে থাকা কণাগুলিকে পর্যবেক্ষণ করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। এই ধরনের বলয় ক্ষতিকর বিকিরণ এবং সৌরকণার হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে। নাসার এই কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশের ‘হাওয়া’ বুঝতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করেছিল। প্রাথমিক ভাবে দু’বছরের জন্য ‘ভ্যান অ্যালেন প্রোব এ’-কে মহাকাশে পাঠিয়েছিল নাসা। তবে তার পরেও প্রায় সাত বছর ধরে এই স্যাটেলাইট বিজ্ঞানীদের তথ্য সরবরাহ করে গিয়েছে। অবশেষে ২০১৯ সালে এর জ্বালানি ফুরিয়ে আসে এবং তার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

২০১৯-এর পর থেকে মহাকাশে নিষ্ক্রিয় ভাবেই পড়ে ছিল নাসার স্যাটেলাইট। তাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার কোনও পরিকল্পনা বিজ্ঞানীরা করেননি। তবে সম্প্রতি পরিস্থিতি বদলেছে। বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলীয় টানাপড়েনে ‘ভ্যান অ্যালেন প্রোব এ’-র কক্ষপথ ক্ষয়ে গিয়েছে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলও আগের চেয়ে সম্প্রসারিত হয়েছে। এর ফলে অপ্রত্যাশিত টান পড়েছে নাসার উপগ্রহে। তা পৃথিবীর দিকে নেমে এসেছে। প্রাথমিক ভাবে বিজ্ঞানীরা মনে করেছিলেন, ২০৩৪ সাল পর্যন্ত ‘ভ্যান অ্যালেন প্রোব এ’ তার কক্ষপথেই নিষ্ক্রিয় ভাবে থেকে যাবে। কিন্তু শক্তিশালী আকর্ষণে প্রত্যাশার অনেক আগেই তা নেমে এল।

Advertisement

৬০০ কেজির স্যাটেলাইট পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এলেও তাতে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা প্রায় নেই, জানিয়েছিল নাসা। বলা হয়েছিল, এই স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ থেকে ক্ষতির সম্ভাবনা ৪,২০০ বারের মধ্যে এক বার মাত্র। পৃথিবীর ৭১ শতাংশই জল। ধ্বংসাবশেষ যদি কিছু থেকেও থাকে, তা জলে পড়ার সম্ভাবনাই ছিল বেশি। বাস্তবেও তা-ই হয়েছে। পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করেছে ‘ভ্যান অ্যালেন প্রোব এ’। এই স্যাটেলাইটের বেশিরভাগ অংশই বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে জ্বলে যাওয়ার কথা। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, কোনও কোনও অংশ বেঁচে গিয়েছে। তার খোঁজ চলছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement