Antarctica Ice Shelf

নীচ থেকে গলছে আন্টার্টটিকার বরফ! যা ভাবা হত, তার চেয়েও দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে পারে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা

আন্টার্কটিকা মহাদেশের মূল ভূখণ্ড সংলগ্ন সমুদ্রে ছড়িয়ে রয়েছে ‘আইস শেল্‌ফ’। এগুলি হল আন্টার্কটিকার মূল ভূভাগে থাকা হিমবাহের অংশ, যা প্রসারিত হয়ে সমুদ্র পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। এই বরফের তাকগুলি মূল হিমবাহকে সমুদ্রে মিশে যাওয়া থেকে আটকায়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ০৯:০৩
Share:

আন্টার্কটিকায় ভাসমান ‘আইস শেল্‌ফ’। ছবি: সংগৃহীত।

ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। যার অন্যতম প্রধান কারণ আন্টার্কটিকার বরফের গলন। আন্টার্কটিকায় যে হারে বরফ গলছে, তাতে প্রতি বছর প্রায় তিন মিলিমিটার করে বৃদ্ধি পাচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে— এত দিন যা মনে করা হত, তার চেয়েও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। কারণ, নীচ থেকেও গলতে শুরু করেছে আন্টার্কটিকা।

Advertisement

বিশ্বের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তের এই মহাদেশ হল পৃথিবীর বৃহত্তম তুষার মরুভূমি। চার দিকে চাঁই চাঁই বরফ। সমুদ্রেও ভেসে বেড়াচ্ছে বরফ। আন্টার্কটিকায় কোনও স্থায়ী মনুষ্যবসতি নেই। গবেষণার জন্য সেখানে সাময়িক আস্তানা তৈরি হয়। এখন অবশ্য আন্টার্কটিকায় পর্যটনও শুরু হয়েছে। তবে দৃশ্যত জনমানবহীন এই মহাদেশে উঁকি মারতে শুরু করেছে এক লুকানো বিপদ।

আন্টার্কটিকা মহাদেশের মূল ভূখণ্ড সংলগ্ন সমুদ্রে ছড়িয়ে রয়েছে ‘আইস শেল্‌ফ’ (বরফের তাক)। এগুলি হল আন্টার্কটিকার মূল ভূভাগে থাকা হিমবাহের অংশ, যা প্রসারিত হয়ে সমুদ্র পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। হিমবাহ রক্ষায় এই বিশালাকার ভাসমান বরফের চাদরগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। এই বরফের তাকগুলি মূল হিমবাহকে সমুদ্রে মিশে যাওয়া আটকায়। এগুলিকে মূল হিমবাহ এবং সমুদ্রের মাঝে একটি ‘বাঁধ’ বলা যেতে পারে। এই বরফের তাকগুলি না থাকলে আন্টার্কটিকার মূল ভূভাগের হিমবাহ আরও দ্রুত সমুদ্রে মিশে যেত।

Advertisement

সম্প্রতি এই বরফের তাকগুলিকে নিয়ে একটি গবেষণা করেন নরওয়ের আইসি৩ পোলার রিসার্চ হাবের টোর হ্যাটারম্যান এবং আকভাপ্লান-নিভা সংস্থার কিন ঝোউ। তাঁদের ওই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার কমিউনিকেশন্‌স’-এর জার্নালে। নতুন এই গবেষণায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগে যা ভাবা হয়েছিল, তার চেয়েও দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে পারে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। কারণ, অনুমানের চেয়ে অনেক দ্রুত হারে গলে যাচ্ছে অ্যান্টার্কটিক বরফের তাকগুলির নীচের (সমুদ্রে নিমজ্জিত) অংশ। এই ‘আইস শেল্‌ফ’গুলির নীচে বিভিন্ন ছোট-বড় প্রণালী বা ‘চ্যানেল’ থাকে। সেখান থেকে সমুদ্রের জল প্রবাহিত হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ প্রণালীগুলিতে সমুদ্রের জল অপেক্ষাকৃত উষ্ণ, যা সেখানে বরফ গলার হারকেও বৃদ্ধি করে।

হ্যাটারম্যান, ঝোউ এবং তাঁদের সহযোগীরা পূর্ব আন্টার্কটিকার ফিম্বুলিসেন আইস শেল্‌ফে গবেষণটি চালান। এখানে বরফের নীচে গভীর প্রণালী রয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, সমুদ্রের উষ্ণ জল বরফ-প্রণালীর মধ্যে আটকা পড়ে যায়। এর ফলে কোনও কোনও অঞ্চলে বরফ গলার হার প্রায় দশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। জলবায়ুগত ধাক্কার দিক থেকে পূর্ব আন্টার্কটিকাকে তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ অংশ বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক এই গবেষণা বলছে, সেখানেও দ্রুত হারে গলে যেতে পারে বরফ। গবেষকদলের প্রধান হ্যাটারম্যানের কথায়, “আমরা দেখেছি ফিম্বুলিসেন আইস শেল্‌ফের নীচে সামান্য পরিমাণ উষ্ণ জলও বরফ গলার হারকে উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি করতে পারে। এর ফলে প্রণালীগুলি ক্রমশ বড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ধীরে ধীরে পুরো আইস শেল্‌ফটিকেই দুর্বল করে দিতে পারে।”

এই গবেষণার জন্য হ্যাটারম্যানেরা ফিম্বুলিসেন ‘আইস শেল্‌ফ’-এর নীচের অংশের ম্যাপিং করেন। সমুদ্রে নিমজ্জিত অংশের কোথায় কী গহ্বর রয়েছে, কোথায় কতটা গভীর প্রণালী রয়েছে, সব ধরা পড়ে ওই কম্পিউটার মানচিত্রে। গবেষণার জন্য হ্যাটারম্যান নিজে কয়েকশো দিন কাটিয়েছেন আন্টার্কটিকায়। যে প্রণালীগুলি অপেক্ষাকৃত ছোট সেগুলিতে আটকে থাকা জলও পরীক্ষা করে দেখেন তাঁরা।

গবেষকদের আশঙ্কা, প্রণালীগুলির মধ্যে বরফের গলনের হার বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব বিপজ্জনক হতে পারে। প্রণালীগুলি আরও প্রশস্ত হতে থাকলে বরফের স্তর বিভিন্ন অংশে অসম ভাবে পাতলা হয়ে যেতে পারে। একটি পর্যায়ে গিয়ে আইস শেল্‌ফগুলি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়বে যে সেগুলির আর পিছনের মূল হিমবাহকে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে আসার গতি কমানোর মতো শক্তি থাকবে না। এখন আন্টার্কটিকার এই আইস শেল্‌ফগুলির আরও বিশদে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। ওই বিশদ গবেষণা থেকেই বোঝা যেতে পারে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আগের চেয়ে কতটা দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement