Salinity of Indian Ocean

নুন কমে যাচ্ছে ভারত মহাসাগরের এক নির্দিষ্ট অংশের জলে! দায়ী বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তিত চরিত্র, ছাপ পড়বে পরিবেশে

গত শতাব্দীর বিভিন্ন দশকে ভারত মহাসাগরের নির্দিষ্ট ওই অংশের জলে কতটা নুন ছিল, সেই পরিসংখ্যান সংগ্রহ করেছেন বিজ্ঞানীরা। তা মিলিয়েই তাঁরা জেনেছেন, সম্প্রতি সেখানে নুনের পরিমাণ কমেছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৬
Share:

নুনের পরিমাণ কমছে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের জলে। ছবি: সংগৃহীত।

দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের জল তুলনামূলক বেশি নোনতা! ওই মহাসাগরের বাকি অংশ, এমনকি বাকি বেশ কয়েকটি সাগর, মহাসাগরের জলের চেয়ে সেখানে নুনের পরিমাণ বেশি ছিল। সমুদ্র নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেন, তাঁরা শতাধিক বছর ধরে গবেষণা করে তা দেখেছিলেন। এ বার সেই বিজ্ঞানীদের একাংশই বলছেন, দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের জলে নুনের পরিমাণ কমছে। কেন, তার প্রভাবই বা কী, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন গবেষণা।

Advertisement

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রখর সূর্যরশ্মির কারণে দক্ষিণ মহাসাগর থেকে জল দ্রুত বাষ্পীভূত হয়। সাগরে বেশি পরিমাণ নুন থিতিয়ে পড়ে। সে কারণে গোটা দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে নোনতা জল মেলে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে।

ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে বিভিন্ন সাগর, মহাসাগরের জল নিয়ে পরীক্ষা করছেন বিজ্ঞানীরা। কোথাকার জলে কতটা নুন, তা পরীক্ষা করে সেই সূত্র ধরে সমুদ্রস্রোতের গতি, দিক নির্ণয় করতে সমর্থ হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বরাবরই তাঁরা এই দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের জল নিয়ে তুলনামূলক বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। আর সেখানকার জলে নুনের মাত্রা পরীক্ষা করেই বুঝতে পেরেছেন, দক্ষিণ গোলার্ধে সমুদ্রস্রোত কোন দিকে বয়ে চলে। গত শতাব্দীর বিভিন্ন দশকে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের জলে কতটা নুন ছিল, সেই পরিসংখ্যান রয়েছে বিজ্ঞানীদের কাছে। তা মিলিয়েই তাঁরা জেনেছেন, সম্প্রতি সেখানে নুনের পরিমাণ কমেছে। বিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করেন, ওই অংশে কোনও জায়গা থেকে বিশুদ্ধ মিষ্টি জল প্রবাহিত হয়ে আসছে। তার জেরেই মহাসাগরের ওই অংশের জলে নুনের পরিমাণ কমছে।

Advertisement

এই গবেষণা মূলত করেছেন কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী। তাঁরা গত ৬০ বছরের পরিসংখ্যান ধরে বিশ্লেষণ করেছেন। আর তাতে দেখেছেন, দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের জলে নুনের পরিমাণ গত ৬০ বছরে কমেছে ৩০ শতাংশ। প্রথমে তাঁরা মনে করেছিলেন, ওই অংশে গত কয়েক বছরে বৃষ্টিপাত বেড়ে গিয়েছে। সে কারণে সাগরের জলে নুনের পরিমাণ কমেছে। পরে তাঁরা দেখলেন, ওই মিষ্টি জল আসলে বিশাল এক জলাধারের থেকে আসছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক ফ্রেশওয়াটার পুল’। নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চল থেকে পূর্ব ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে সেই হ্রদ। ওই অংশে নাগাড়ে বৃষ্টি হওয়ার কারণে সমুদ্রের উপরিভাগের জলে নুনের পরিমাণ কমে যায়। সেই জলই এসে ঢুকছে দক্ষিণ মহাসাগরের দক্ষিণ অংশে।

বিজ্ঞানীদের মতে, বায়ুমণ্ডলের সঞ্চালনের ধরন (অ্যাটমোস্ফিয়ারিক সার্কুলেশন প্যাটার্ন) পাল্টেছে। তার প্রভাবে সাগরে স্রোতের অভিমুখও বদলে গিয়েছে। সে কারণে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক ফ্রেশওয়াটার পুল’ থেকে তুলনামূলক কম নোনতা জল দক্ষিণ অভিমুখে গিয়ে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করে, যেখানকার জল তুলনামূলক বেশি নোনতা ছিল। দীর্ঘ দিন ধরে এই প্রক্রিয়া চলছে। তার জেরে ওই অংশের জলে নুনের পরিমাণ কমছে।

তার প্রভাব কী?

দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের জলে যে নুনের পরিমাণ কমছে, বিজ্ঞানীরা বলছেন, তার প্রভাব পড়তে পারে পরিবেশেও। সমুদ্রের জলে কতটা নুন রয়েছে, তার উপর নির্ভর করে তার ঘনত্ব। আর সেই ঘনত্ব প্রভাবিত করে প্রবাহকে। জলের ঘনত্ব বেশি হলে স্রোতের গতি কমবে। সমুদ্রস্রোতের প্রবাহের উপর অনেকটাই নির্ভর করে বৃষ্টি, এমনকি আবহাওয়া। বাতাসের সঞ্চালনের ধরনে বদলের কারণে অ্যামাজ়ন অরণ্যের কিছু অংশে ৪০ শতাংশ বৃষ্টি কমে গিয়েছে। দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে নোনতা ভাব কমে যাওয়ার কারণেও তেমনটা হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীদের একাংশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement