অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে মহাকাশে পাড়ি ইসরোর পিএসএলভি রকেটের। ছবি: পিটিআই।
বছরের প্রথম অভিযানেই আবার ধাক্কা খেয়েছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। পিএসএলভি রকেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করা যায়নি ১৫টি কৃত্রিম উপগ্রহকে। তার মধ্যে অন্তত আটটি বিদেশি পেলোডও ছিল। অভিযানকে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে ব্যর্থ বলে ঘোষণা করেনি সংস্থা। তবে মনে করা হচ্ছে, সব ক’টি কৃত্রিম উপগ্রহই মহাশূন্যে হারিয়ে গিয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল? কোথায় ভুল হল ইসরোর?
সংস্থার তরফে বিশদে কিছুই জানানো হয়নি। ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন কেবল বলেছেন, ‘‘মিশনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা গিয়েছে। আমরা তথ্যগুলি বিশ্লেষণ করছি এবং যত দ্রুত সম্ভব বিস্তারিত জানাব।’’ তবে পিএসএলভি-র ব্যর্থতা এই প্রথম নয়। ২০২৫ সালেও এই রকেটের অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, এ বারের মতো গত বারও অভিযানের তৃতীয় ধাপেই হয়েছিল বিপত্তি।
পিএসএলভি রকেটটি সোমবার সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপিত হয়। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজ়েশন (ডিআরডিও)-এর তৈরি বিশেষ কৃত্রিম উপগ্রহ ‘অন্বেষা’ও (যার পোশাকি নাম ইওএস-এন১) এই রকেটে ছিল। উৎক্ষেপণ সফল হয়েছিল। নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছোনোর জন্য প্রথম দু’টি ধাপও পার করে দেয় পিএসএলভি। কিন্তু বাদ সাধে তৃতীয় ধাপ। উৎক্ষেপণের ৮-১০ মিনিটের মধ্যে সেখানেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং কাঙ্ক্ষিত কক্ষপথ থেকে দূরে সরে যায় রকেট। সাধারণত, পিএসএলভি অভিযানের চারটি ধাপ থাকে— দু’টি ‘সলিড’ এবং দু’টি ‘লিকুইড’ ধাপ। এর মধ্যে তৃতীয় ধাপে পৌঁছে হঠাৎ মহাকাশযানের উচ্চতা এবং গতিবেগ কমে যায়। বিচ্যুতি দেখা দেয় রোল রেট ও উড্ডয়নের পথে।
ইসরো প্রধান বলেন, ‘‘প্রাথমিক ভাবে রকেটের উড়ানের ধাপগুলি নির্বিঘ্নে পার করা গিয়েছিল। কিন্তু তৃতীয় ধাপে (পিএস৩) চেম্বারের চাপ আচমকা অনেকটা কমে যায়। ফলে প্রয়োজনীয় উচ্চতা পেতে পারেনি পিএসএলভি রকেট। নির্দিষ্ট পথ থেকে আমরা মহাকাশযানটিকে বিচ্যুত হয়ে যেতে দেখেছি। এর ফলে স্যাটেলাইটগুলিকে কক্ষপথে স্থাপন করা যায়নি।’’
পিএসএলভি ইসরোর অন্যতম নির্ভরযোগ্য মহাকাশযান। অতীতে এই রকেটের কাঁধে চেপেই বহু ছোটবড় অভিযানের বৈতরণী পার করেছে ভারতীয় সংস্থা। এই নিয়ে ৬৪টি অভিযানের মধ্যে পিএসএলভি ব্যর্থ হল মাত্র চারটিতে।
সোমবারের অভিযানে ইসরোর পিএসএলভি-তে একাধিক ভারতীয় কৃত্রিম উপগ্রহ ছাড়াও ছিল আটটি বিদেশি পেলোড। তাইল্যান্ড ও ব্রিটেনের যৌথ প্রচেষ্টায় গড়া পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী স্যাটেলাইট, মৎস্যজীবীদের দুর্ঘটনাগ্রস্ত নৌকাকে সাহায্যের প্রয়োজনে বিশেষ ভাবে তৈরি করা ব্রাজ়িলীয় স্যাটেলাইট। এ ছাড়া, স্পেনের একটি সংস্থায় তৈরি ‘রি-এন্ট্রি’ ক্যাপসুল, নেপালের ছাত্রদের তৈরি স্যাটেলাইটও পিএসএলভি-র মাধ্যমে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল।