বাড়িতে জগদানন্দ িসংহদেও। ছবি: সুজিত মাহাতো।
বনভূমি কমছে। তাই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে বন্যপ্রাণী। লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় অনেক সময় মানুষের হাতে মৃত্যু হচ্ছে তাদের। ২-৮ অক্টোবর পুরুলিয়া জেলায় হয়ে যাওয়া বন্যপ্রাণ সপ্তাহের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আক্ষেপের সুরে এক সময়ের শিকারি জগদানন্দ প্রসাদ সিংহ দেও বলেন, ‘‘বন্যপ্রাণ বাঁচানোর জন্য যেমন আইন করা হচ্ছে তেমনি জঙ্গল না বাড়ালে বন্যপ্রাণ থাকবে কোথায়!’’
একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে পঞ্চকোট রাজবংশের উত্তর পুরুষ জগদানন্দবাবু বলেন, ‘‘কোটশিলার পাশে জয়পুরের হাড়গাড়া গ্রামে একটি চিতাবাঘ ঢুকেছিল। বাঘ ঢুকে পড়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। বাঘটির কিছু একটা ব্যবস্থা করতে বন দফতরের পক্ষ থেকে আমাদের অনুরোধ করা হলেছিল। সেটা ৭০ দশকের মাঝামাঝি বা তার পরে হবে। তার কিছুদিন আগেই শিকার নিষিদ্ধ হয়েছে। বন্দুক তুলে রেখেছি।’’ এলাকায় বাঘের আতঙ্ক ছড়ানোয় সেখানে গিয়েছিলেন তিনভাই জগদানন্দবাবু, বিক্রমাদিত্য প্রসাদ সিংহ দেও এবং ছোটভাই কামাখ্যা প্রসাদ সিংহ দেও পুরুলিয়া যাঁকে চেনে কে পি সিংহ দেও নামে। জগদানন্দবাবু বলেন, ‘‘গিয়ে দেখি খেতের মধ্যে চিতাবাঘটি বসে রয়েছে। দূরে প্রচুর লোক। আচমকা চিতাবাঘটি আমার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ল। গুলিও চালিয়েছিলাম লাগেনি। তাই বন্দুক ওর মুখে ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম। কাছেই কে পি ছিল। সে বাঘটার পেটে গুলি না করলে আমাকে হয়তো শেষই করে ফেলত। এ সময় উপস্থিত এক পুলিশকর্মীও গুলি চালান। সেই গুলি আমার বাঁ পায়ের হাঁটুতে লাগে। এখনও যন্ত্রনা হয়। বন দফতরই আমার চিকিৎসা করিয়েছিল।’’ কে পি সিংহ দেও বলেন, ‘‘আমিই চিতাবাঘটাকে মেরেছিলাম। তা ছাড়া উপায় ছিল না।’’
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার মোট আয়তনের ২৭ শতাংশ বনভূমি। দিন দিন জেলার বনভূমি কমছে। এখন বনভূমিতে পাট্টা দেওয়া, অযোধ্যা পাহাড়ে জলবিদ্যুৎ উতপাদন কেন্দ্রের জন্য জঙ্গল কাটা ছাড়াও মাফিয়াদের হাত—সব মিলিয়ে জঙ্গল কমছে। এ কথা অনুষ্ঠানে স্বীকারও করেছেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি সৃষ্টিধর মাহাতো। বন্যপ্রাণ সপ্তাহে ‘বন্যপ্রাণ’কে রক্ষার কথা ছাত্রছাত্রীদের কাছে তুলে ধরেছিল জেলা বিজ্ঞানকেন্দ্র।
জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের আধিকারিক ঋতব্রত বিশ্বাস বলেন, ‘‘বন্যপ্রাণ তো অবলুপ্তির পথে। কীভাবে তাদের রক্ষা করা যায় সে কথাই আমরা নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের সামনে তুলে ধরছি।’’ জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ হলধর মাহাতো বলেন, ‘‘জেলায় বনভূমি যে কমছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমরা বনভূমি বাড়ানোর চেষ্টা করছি।’’