দুরন্ত শট জালে জড়িয়ে গ্লেনের দৌড় বা বল পায়ে মেন্ডির স্কিল। এসব এতদিন ছোট-বড় পর্দায় দেখে এসেছেন শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকার আপামর ‘ঘটি-বাঙাল’। এবার ডার্বি দ্বৈরথ চোখের সামনে উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছিলেন বাসিন্দারা। কিন্তু সেই খুশিতে ‘গুড়ে বালি’। এখনও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে।
ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ডার্বি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ১৭ মার্চ কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে আসছেন অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন(এআইএফএফ) প্রতিনিধিরা। তার আগেই স্টেডিয়ামকে খেলার উপযুক্ত করে গড়ে তোলার জন্য বার্তা দেওয়া হয়েছে স্টেডিয়াম কমিটি ও ক্রীড়া পরিষদকে। কিন্তু বার্তা সত্ত্বেও প্রস্তুতি শুরু নিয়ে এখনও চাপানউতোর চলছে কমিটি ও পরিষদের মধ্যে।
পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমস্ত কাজ শেষ করতে প্রায় এক মাস সময় দরকার। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শুরু হলে তবেই ম্যাচের সাতদিন আগে মাঠ প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। সেক্ষেত্রে ১৭ মার্চের মধ্যে অন্তত ৮০-৯০ শতাংশ পরিকাঠামো প্রস্তুত সম্ভব হবে।
ম্যাচের আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছেন শিলিগুড়ি মহকুমা ক্রীড়া পরিষদের কর্তারা। অন্যদিকে মাঠ ও স্টেডিয়ামের অন্য পরিকাঠামো তৈরির দায়িত্ব স্টেডিয়াম কমিটির। ফলে ওই কমিটি মাঠ তৈরি করে না দিলে কোনও কাজ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পরিষদ কর্তারা। এমনকী ম্যাচ স্থানান্তরিত হয়ে গেলেও তার দায় নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া পরিষদ সচিব অরূপরতন ঘোষ। তিনি বলেন,‘‘আগে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা স্টেডিয়াম ঘুরে দেখেন। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিমার্জনের ব্যাপারে স্টেডিয়াম কমিটিকে জানান।’’ তার পরেও কাজ শুরু না হওয়ায় কমিটির সচিবকে দায়ী করেন অরূপবাবু।
শিলিগুড়ির মহকুমাশাসক রাজনবীর সিংহ কপূর স্টেডিয়াম কমিটির সচিব। বেশ কিছুদিন তিনি ছুটিতে রয়েছেন, কারও উপর দায়িত্বও দিয়ে না যাওয়াতে কাজ স্তব্ধ হয়ে আছে বলে অভিযোগ। মহকুমাশাসক বলেন, ‘‘জেলাশাসককে লিখিত জানিয়েছি। উনিই যা করার করবেন।’’ কিন্তু এই দাবির বিরোধিতা করেছেন স্টেডিয়াম কমিটিরই একাধিক সদস্য। তাঁদের দাবি, বড় মেরামতি ও সংস্কারের ক্ষেত্রে জেলাশাসকের হস্তক্ষেপ দরকার হলেও মহকুমাশাসককে প্রয়োজন। মাঠ তৈরি, ঘাস কাটার মতো কাজের ক্ষেত্রে পরে বিল জমা দেওয়া হয়। মহকুমাশাসক সহযোগিতা না করায় কোনও কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁদের।
দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানান ফেডারেশনের চিঠির ব্যাপারে তাঁকে কিছুই জানানো হয়নি। তবে যুব কল্যাণ বিভাগের ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে শীঘ্রই কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।