মানবিক: ছুটির দিনে প্রশিক্ষণও দেন আরশদীপ। —ফাইল চিত্র।
‘ফুরফুরে মেজাজ। মুখে এক গাল হাসি। সোনায় বাঁধিয়ে রাখার মতো মন।’ আরশদীপ সিংহকে এ ভাবেই ব্যাখ্যা করলেন তাঁর কোচ যশবন্ত রাই। ছোটবেলায় যে অ্যাকাডেমিতে বিনামূল্যে ক্রিকেটের শিক্ষা পেয়েছেন, তাদের কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতীয় পেসার।
চণ্ডীগড়ের ওম সাই ক্রিকেট অ্যাকাডেমি থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল আরশদীপের। বিশ্বকাপ জিতে সেই অ্যাকাডেমির দুঃস্থ ক্রিকেটারদের বিনামূল্যে ক্রিকেট সরঞ্জাম দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে ২০টি ব্যাট, নতুন প্যাড, গ্লাভস দিয়েছেন। স্পনসরের কাছ থেকে পাওয়া অনুশীলনের বিভিন্ন জার্সিও খুদে ক্রিকেটারদের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি। এমনকি নতুন ঘড়ি, ব্র্যান্ডেড টি-শার্ট, বিদেশ থেকে আনা জামাকাপড়ও ক্রিকেটারদের হাতে তুলে দেন নিয়মিত।
আরশদীপের ছোটবেলার কোচ যশবন্ত আনন্দবাজারকে বলছিলেন, ‘‘আরশদীপ নিজে খুব কষ্ট করে বড় হয়েছে। প্রায় ১৩ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে অ্যাকাডেমিতে আসত। সরঞ্জাম কেনার টাকা থাকত না। অ্যাকাডেমিই ওকে জুতো, ব্যাট সব উপহার দিয়েছিল। দ্বিতীয় বার বিশ্বকাপ জিতে অ্যাকাডেমির ক্রিকেটারদের জন্য কিছু করতে চাইছে।’’ যোগ করেন, ‘‘ওম সাই ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে অনেক দুঃস্থ ক্রিকেটারেরা খেলা শেখে। বিনামূল্যেই তাদের অনুশীলন করাই। অনূর্ধ্ব-১৩, অনূর্ধ্ব-১৫ স্তরে স্পনসর পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই। ওরা ক্রিকেট সরঞ্জাম পাবে কোথা থেকে? আরশদীপই ওদের সরঞ্জামের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। ২০-২৫ জনকে নতুন ব্যাট দিয়েছে। প্যাড-গ্লাভসও দিয়েছে। সারা দেশ জানে ও কত বড় ক্রিকেটার। কিন্তু ও কতটা ভাল মানুষ, তা শুধু আমরাই জানি।’’
অবসর সময়ে আরশদীপ নিজে অ্যাকাডেমিতে এসে তরুণ ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ দেন। কোচ বলছিলেন, ‘‘আমাদের অ্যাকাডেমি থেকে পঞ্জাব রাজ্য দলের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক বিভাগে ক্রিকেটারেরা খেলছে। তাদের নিয়ে বিশেষ ক্লাস করায় আরশদীপ। ওকে দেখে অনেকেই স্পিন ছেড়ে পেস বোলিং শুরু করেছে। অনেক ডান হাতি পেসার বাঁ-হাতি হয়ে গিয়েছে। দেশের হয়ে একটি বিশ্বকাপ জিততেই সারা জীবন চলে যায়, অথচ ও দু’টি বিশ্বকাপ জিতিয়ে এসেছে। আরশদীপের সাফল্যে আমাদের ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে আগের চেয়ে অনেক বেশি ক্রিকেটারেরা ভর্তি হচ্ছে।’’
আরশদীপ নিজেই যে তরুণ ক্রিকেটারদের কাছে উদাহরণ। শেষ দু’টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। মোট ২২টি ম্যাচে পেয়েছেন ৩৬টি উইকেট। এ বার ৮ ম্যাচে তাঁর উইকেটসংখ্যা ৯। ফাইনালের আগে জায়ান্ট স্ক্রিন বসানো হয়েছিল অ্যাকাডেমিতে। কাপ জেতার উৎসব করেননি? কোচের কথায়, ‘‘অবশ্যই! ফাইনাল জেতার পরের দিন অ্যাকাডেমির সকলকে মিষ্টি খাওয়ানো হয়েছে। আমরা ঠিক করেছি আরশদীপের নামে একটি প্রতিযোগিতা শুরু করব অনূর্ধ্ব-১৫ স্তরের ক্রিকেটারদের নিয়ে। ওর অবসর সময়ই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে, যাতে মাঠে এসে ম্যাচ দেখতে পারে।’’
কোচের ইচ্ছে, তাঁর ছাত্রের মতো আরও ক্রিকেটার উঠে আসুক অ্যাকাডেমি থেকে। বলছিলেন, ‘‘আরশদীপই তো সকলের প্রেরণা। ওর মতো আরও কয়েক জন এই অ্যাকাডেমি থেকে উঠে এলে ভারতীয় ক্রিকেটেরই উপকার হবে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে