অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ছবি: রয়টার্স।
অ্যাশেজ়ে ৫-০ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। মেলবোর্নে চতুর্থ টেস্টে চার উইকেটে জিতেছে ইংল্যান্ড। পঞ্চম টেস্টের আগে দল থেকে দুই ক্রিকেটারকে ছেড়ে দেওয়া হল। তাঁরা হলেন, বিউ ওয়েবস্টার এবং জশ ইংলিস। এ দিকে, মেলবোর্নে দু’দিনে খেলা শেষ হয়ে যাওয়ার পর পিচ দেখে অবাক খোদ নির্মাতাই।
অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, ওয়েবস্টার এবং ইংলিস বিগ ব্যাশ লিগে খেলতে পারেন। তাঁরা যোগ দেবেন নিজেদের দল হোবার্ট হারিকেন্স এবং পার্থ স্কর্চার্সে। পঞ্চম টেস্ট শুরু হবে ৪ জানুয়ারি, সিডনিতে। ওয়েবস্টার অ্যাশেজ়ের একটিও টেস্টে খেলেননি। ইংলিস দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ম্যাচে খেললেও ব্যাট হাতে কোনও প্রভাব ফেলতে পারেননি।
এ দিকে, মেলবোর্নে দু’দিনে ৩৬টি উইকেট পড়ার পর অবাক পিচ নির্মাতা ম্যাট পেজ। তিনি বলেছেন, “প্রথম দিন ২০টা উইকেট পড়ার পর আমি খুবই আঘাত পেয়েছিলাম। এক দিনে এতগুলো উইকেট! কোনও দিন এমন টেস্ট দেখিনি। আশা করি ভবিষ্যতেও দেখতে হবে না। দু’দিন ধরে বিরাট উত্থান-পতন হয়েছে খেলায়। তবে আমরা এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেব। আরও ভাল কিছু করার চেষ্টা করব। যেমনটা করেছিলাম গত বছর। আমরা যে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব সেটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।”
মেলবোর্নের উইকেটে ১০ মিলিমিটার ঘাস ছিল। পিচ দেখে শুরুতেই অবাক হয়েছিলেন ক্রিকেটারেরা। দু’দল থেকে বাদ দেওয়া হয় স্পিনারকে। শুধু পেসারদের নিয়েই নামে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। সেই পেসারেরাই দু’দিন ধরে দাপট দেখান। দু’দিনে পড়ে মোট ৩৬ উইকেট। তার মধ্যে প্রথম দিনই ২০ উইকেট পড়ে, যা অ্যাশেজ়ে ১১৬ বছরে রেকর্ড। শেষ বার এই ঘটনা ঘটেছিল ১৯০৯ সালে। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ১৫ বছর পর সে দেশে টেস্ট জেতে ইংল্যান্ড। কিন্তু তাতে পিচ নিয়ে বিতর্ক কমেনি।
সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক কেভিন পিটারসেন। তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, “যখন ভারতের মাটিতে প্রথম দিন এ ভাবে উইকেট পড়ে, তখন ভারতকে নিশানা করা হয়। ভারত হলে তো তুলোধনা হত। অস্ট্রেলিয়ায় হবে না কেন? এখানেও তো একই ঘটনা হল। আশা করছি এই পিচ নিয়ে তদন্ত হবে। নিয়ম সকলের জন্য এক হওয়া উচিত।” পার্থে দু’দিন টেস্ট শেষ হওয়ার পরেও কেউ পিচ নিয়ে প্রশ্ন করেননি। সেই কারণেই হয়তো আরও বেশি ক্ষুব্ধ পিটারসেন।
এই উইকেটে ব্যাট করা যে কঠিন তা স্বীকার করে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের আর এক প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল ভন। বিবিসি-কে তিনি বলেন, “ব্যাটারদের সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে। পিচে বোলারদের জন্য অনেক কিছু আছে। দু’দলের ব্যাটারেরাই সমস্যায় পড়ছে।” আর এক প্রাক্তন ইংরেজ অধিনায়ক স্যর অ্যালিস্টার কুকও ভনের সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, “ঠিক জায়গায় বল ফেললে বোলারকে আর কিছু করতে হবে না। বাকিটা পিচ করে দেবে। ব্যাটারেরা কী করবে? অন্যায় হচ্ছে। বোলারদের উইকেট নিতে তেমন পরিশ্রমই করতে হচ্ছে না।”