জয় শাহ। —ফাইল চিত্র।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নতুন করে আবেদন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আবেদন করা হয়েছে আইসিসির ডিসপুট রেজোলিউশন কমিটির (ডিআরসি) কাছে। অথচ, এই কমিটির এই ধরনের আবেদন শোনার এক্তিয়ারই নেই! আইসিসি কর্তারা আর সময় নষ্ট করতে রাজি নন। শনিবারই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন জয় শাহেরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে মরিয়া বাংলাদেশ। আইসিসি বোর্ডের সিদ্ধান্ত জানার পরও আশায় রয়েছেন আমিনুল ইসলামেরা। ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না-খেলার দাবিতে অনড় থেকেই আইসিসিকে ফের চিঠি দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি নিরপেক্ষ কমিটির (ডিআরসি) কাছে পাঠানোর আর্জি জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।
কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের আবেদন শোনার এক্তিয়ারই নেই ডিআরসির। কারণ বিসিবির এই আবেদন আইসিসির যে কোনও সাব কমিটির এক্তিয়ারের বাইরে। তাই ইংল্যান্ডের মাইকেল বেলের নেতৃত্বাধীন এই কমিটিতে নতুন করে কোনও শুনানির সম্ভাবনা নেই। ডিআরসির শর্তাবলীর ১.৩ ধারা অনুযায়ী, তারা আইসিসির সিদ্ধান্ত বা আইসিসির বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করতে পারে না। ডিআরসি আইসিসির কোনও নিয়ম বা বিধি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোনও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কমিটি হিসাবেও কাজ করবে না।
আইসিসির সংবিধান অনুযায়ী, বিসিবি ডিআরসির কাছে আবেদন করতে পারে। কিন্তু আইসিসি বোর্ডের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুনানির এক্তিয়ার নেই বেলের কমিটির। আইসিসির এক কর্তা পিটিআইকে বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশ ডিআরসিতে যেতেই পারে। কিন্তু পরিচালন পর্ষদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির ক্ষমতা ওই কমিটির নেই।’’
তা হলে বিসিবি কেন ডিআরসির কাছে আবেদন করল? আইসিসির কাছে যাওয়ার এই একটি পথই খোলা ছিল বাংলাদেশের কাছে। সংস্থার সংবিধান অনুযায়ী, শুধু তারা আপত্তি বা উদ্বেগের কথা জানাতে পারে ওই কমিটিকে। বিসিবি অবশ্য শুধু আইসিসির দিকেই তাকিয়ে নেই। তারা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে যাওয়ার কথাও ভাবছে। বিসিবির এক কর্তা সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, ‘‘বিসিবি আইসিসির ডিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমরা বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা এবং পথগুলি খোলা রাখতে চাইছি। ডিআরসিও বিসিবির বিরুদ্ধে রায় দিলে আমাদের সামনে একটিই পথ থাকবে। আমরা সুইৎজারল্যান্ডের কোর্ট অফ আরবিট্রেশন অফ স্পোর্টসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি।’’
আইসিসির বোর্ডের ভোটাভুটিতে ১৪-২ ব্যবধানে হারার পরও বাংলাদেশের অনড় মনোভাব দেখে আইসিসি সভাপতি জয় ক্ষুব্ধ বলে জানিয়েছেন ওই কর্তা। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য জয় নামিবিয়ায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই আইসিসি বোর্ডের বৈঠকে যোগ দেন। দুবাই ফিরে নিজের অসন্তোষ গোপন করেননি আইসিসির অন্য কর্তাদের কাছে। নতুন করে তিনি আর কোনও আলোচনার পক্ষে নন বলে জানা গিয়েছে। শনিবার বাংলাদেশের পরিবর্ত দল ঘোষণা করে দিতে পারে আইসিসি। সরকারি ভাবে ঘোষণা না হলেও বোর্ডের বৈঠকের পর স্কটল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ওই কর্তা বলেছেন, ‘‘আইসিসি বোর্ডের সদস্যেরা বিসিবি সভাপতির উপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। আইসিসিকে জানানোর আগে একটি সংবাদিক বৈঠক করা হয়েছিল। মূলত আসিফ নজরুল কথা বলেছিলেন। যিনি আইসিসির কাছে গ্রহণযোগ্য নন। আইসিসিকে নিজেদের অবস্থান জানানোর আগে আমিনুল কী করে এমন একজনকে সাংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে দিতে পারেন? এটা একদমই উচিত হয়নি।’’
ডিআরসিতে শেষ বার ২০১৮ সালে গিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। দ্বিপাক্ষিক খেলতে না চাওয়ায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেছিল তারা। পিসিবির সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়।