বিরাট কোহলি। —ফাইল চিত্র।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু আইপিএলের ফাইনালে উঠলেও ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ হারাতে পারে। আইপিএলের ফাইনাল-সহ প্লে-অফ পর্বের চারটি ম্যাচের সূচি এখনও ঘোষণা করেনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। ম্যাচগুলি পঞ্জাব এবং বেঙ্গালুরুতে হওয়ার কথা। রাজনৈতিক কারণে ফাইনাল এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে না-ও হতে পারে।
সাধারণ ভাবে যে দু’টি দল ফাইনালে ওঠে, তাদের ঘরের মাঠেই পরের আইপিএলের প্লেঅফ পর্বের চারটি ম্যাচ হয়। ফাইনাল হয় চ্যাম্পিয়ন দলের ঘরের মাঠে। সেই হিসাবে এ বারের ফাইনাল হওয়ার কথা গত বারের চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরুর ঘরের মাঠে। কিন্তু এ বার অন্য রকম ভাবনা রয়েছে বিসিসিআই কর্তাদের। অভিযোগ, সমস্যা তৈরি করেছেন কর্নাটকের শাসকদল কংগ্রেসের বিধায়কেরা।
আইপিএল শুরুর সময় থেকেই সমস্যা শুরু। প্রথম ম্যাচে সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদের মুখোমুখি হয়েছিল বেঙ্গালুরু। সেই ম্যাচের আগে কর্নাটকের কংগ্রেস বিধায়ক বিজয়ানন্দ কাশাপ্পানাভার দাবি করেন, রাজ্যের সব বিধায়ককে পাঁচটি করে ভিআইপি টিকিট দিতে হবে। তাঁরা টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়াতে পারবেন না। তাঁর বক্তব্য ছিল, তাঁদের সাহায্যেই চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আইপিএলের ম্যাচ হতে পারছে এ বছর। কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থা আপত্তি করায় তিনি পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন বলেও অভিযোগ।
পরে কর্নাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার বলেন, বিধায়ক এবং সাংসদেরা পাঁচটি নয়, তিনটি করে টিকিট পাবেন। তাঁরা পরিবার নিয়ে খেলা দেখতে পারবেন। অন্য কাউকে টিকিট দেওয়া যাবে না। এই দাবি মানতে নারাজ বিসিসিআই। কারণ, কর্নাটকে বিধায়কের সংখ্যা ২২৮। তাঁদের সকলকে তিনটি করে টিকিট দিতে হলে প্রায় ৭০০ টিকিট দিতে হবে। তা হলে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্সে বিধায়ক এবং তাঁদের পরিবার ছাড়া আর কাউকে বসতে দেওয়া যাবে না।
সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে বিসিসিআইয়ের এক কর্তা বলেছেন, ‘‘শেষ বারের চ্যাম্পিয়নেরাই সাধারণত ফাইনাল আয়োজনের দায়িত্ব পায়। কিন্তু বিধায়কেরা এ ভাবে টিকিট দাবি করায় পরিস্থিতি এ বার জটিল হয়ে গিয়েছে। এই সমস্যার সমাধান না হলে ফাইনাল বেঙ্গালুরু থেকে সরিয়ে নিতে হতে পারে।’’
বিসিসিআই সূত্রে খবর, আইপিএলের ফাইনাল হতে পারে গত বারের রানার্স পঞ্জাব কিংসের ঘরের মাঠে। মুল্লানপুরের নতুন স্টেডিয়াম আধুনিক। গত বার বিরাট কোহলিরা প্রথম বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বিজয় উৎসবে পদপিষ্ট হয়ে ১১জন সমর্থকের মৃত্যু হয়েছিল। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তার পর এ বার আইপিএলের ম্যাচ বেঙ্গালুরুর এই স্টেডিয়ামে হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সেই সমস্যা মিটলেও নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে ফাইনাল নিয়ে।