ড্যামিয়েন মার্টিন। —ফাইল চিত্র।
মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ফিরেছেন। জীবনের কঠিনতম সময় পাশে থাকার জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী প্রাক্তন ক্রিকেটার ড্যামিয়েন মার্টিন। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করলেন অস্ট্রেলিয়ার জোড়া বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার।
মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে কোমায় চলে গিয়েছিলেন মার্টিন। গত ৩১ ডিসেম্বর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল প্রাক্তন ক্রিকেটারকে। তার পর কোমায় চলে যান তিনি। চিকিৎসকেরা অবশ্য হাল ছাড়েননি। গত ৪ জানুয়ারি কোমা থেকে বেরিয়ে আসেন। আরও চার দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফিরেছিলেন মার্টিন। আপাতত বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন তিনি। চিকিৎসা চলছে এখনও। তাঁর ফাঁকেই ভক্ত, শুভানুধ্যায়ীদের কঠিন সময় পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার।
১৯৯৯ এবং ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য মার্টিন সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘এই পোস্ট আমার পরিবার, বন্ধু এবং অগণিত যে সব উদ্বিগ্ন মানুষ আমার খবর জানতে চেয়েছেন, তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য। গত ২৭ ডিসেম্বর জীবনের নিয়ন্ত্রণ আমার হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল। মস্তিষ্কে মেনিনজাইটিস হয়েছিল। এই ভয়াবহ অসুখের সঙ্গে লড়াই করার জন্য আমাকে আমার অজান্তেই আট দিনের জন্য কোমায় রাখা হয়েছিল। আমি লড়াই করেছি।’’
মার্টিন জানিয়েছেন, তাঁর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল ৫০ শতাংশ। তিনি লিখেছেন, ‘‘আমার কাছে ৫০-৫০ সুযোগ ছিল। তবে আট দিন পর লড়াই করে আমি কোমা থেকে ফিরে আসি। হাঁটতে বা কথা বলতে পারছিলাম না তখন। চার দিন পর হাঁটতে শুরু করি। কথা বলতেও শুরু করি। চিকিৎসকেরাও আমার উন্নতি দেখে চমকে গিয়েছিলেন। প্রমাণ করে দিয়েছিলাম, আমায় হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া উচিত। বাড়ি ফিরে সমুদ্র সৈকতে বালির উপর হাঁটতে পেরে ভীষণ ভাল লাগছে। আমি খুব খুশি। যাঁরা আমার এবং আমার পরিবারের পাশে ছিলেন, তাঁদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এই অভিজ্ঞতা আমায় বুঝিয়েছে, জীবন কতটা অনিশ্চিত। ২০২৬ শুরু হয়ে গিয়েছে। আমিও আবার ফিরে এসেছি।’’ মার্টিন আরও লিখেছেন, ‘‘এই বিশ্বে কত অসাধারণ সব মানুষ আছেন। প্যারামেডিকস থেকে শুরু করে চিকিৎসক ও নার্সেরা। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং এমন মানুষ যাঁদেরকে আমি চিনি না। আমার মনে হচ্ছে, গত তিন সপ্তাহে আমি দুর্দান্ত কিছু মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি। তাঁরা ভালোবাসা এবং সহানুভূতির বার্তা নিয়ে আমার দিকে এগিয়ে এসেছেন।’’ লেখার সঙ্গে সমুদ্র সৈকতে নিজের হাঁটার একটি ছবিও পোস্ট করেছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রায় ১৫ বছর খেলেছেন মার্টিন। ৬৭টি টেস্টে ৪৬.৩৭ গড়ে করেছেন ৪৪০৬ রান। ১৩টি টেস্ট শতরান রয়েছে তাঁর। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২০৮টি এক দিনের ম্যাচে ৪০.৮০ গড়ে ৫৩৪৬ রান রয়েছে তাঁর। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে মার্টিনের শতরানের সংখ্যা পাঁচটি। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে শেষ খেলেন প্রাক্তন ব্যাটার।