এই ধরনের খবরের ক্ষেত্রে আসল ছবি প্রকাশে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকে। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
দিল্লিতে ফের হেনস্থার অভিযোগ উঠল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এক তরুণীকে। ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির সাকেত জেলা আদালত চত্বরের কাছে একটি পার্কে। অভিযোগ, মণিপুরের ওই তরুণীর উদ্দেশে কুরুচিকর মন্তব্য করে চার কিশোর। প্রতিবাদ করায় তাঁর উপর চড়াও হয় অভিযুক্তেরা। তরুণীকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। ঘটনায় অভিযুক্ত চার কিশোরকে ইতিমধ্যে আটক করেছে পুলিশ।
জানা যাচ্ছে, রবিবার সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে পার্কে ঘুরতে গিয়েছিলেন আক্রান্ত তরুণী। অভিযোগ, সেই সময়েই একদল কিশোর তাঁদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য এবং অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে। তরুণী তার প্রতিবাদ করতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, কিশোরেরা ওই তরুণীকে মারধর করে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। রবিবার সন্ধ্যায় ওই ঘটনার পর পরই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে। সেখানেই তাঁর শারীরিক পরীক্ষা এবং চিকিৎসা হয়। সূত্রের খবর, তাঁর আঘাত গুরুতর নয়। হাসপাতাল থেকে শীঘ্রই ছুটি দিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও জানাচ্ছে ওই সূত্র।
রবিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজনীতিকেরা। মণিপুরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহ এবং মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা ইতিমধ্যে এ বিষয়ে সরব হয়েছেন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিজেপির অন্যতম বন্ধু কনরাড। তরুণী হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা শর্মার কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। এক্স হ্যান্ডলে রেখাকে ট্যাগ করে তিনি লেখেন, “উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষদের উপরে বার বার আক্রমণের ঘটনায় আমি ক্ষুব্ধ। দিল্লির সাকেত আদালতের কাছে মণিপুর এবং অসমের বাসিন্দাকে মারধর করা হয়েছে। জাতিবিদ্বেষমূলক এই নির্যাতনকে ‘নিউ নর্মাল’ বলে ধরা যাবে না। এর বিরুদ্ধে অবশ্যই কড়া পদক্ষেপ করতে হবে।”
জাতিবিদ্বেষমূলক এই হামলার অভিযোগ ঘিরে সরব হয়েছেন মণিপুরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বীরেনও। তিনিও ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে লেখেন, “এই ধরনের জাতিবিদ্বেষী আচরণের কোনও স্থান নেই আমাদের সমাজে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রত্যেক বাসিন্দাকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে নিরাপদে থাকতে দেওয়া উচিত। তাঁদের যথাযথ মর্যাদা এবং সম্মান দেওয়া উচিত।” উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দুই নেতার এই পোস্টের পর সোমবার দুপুরে দিল্লি পুলিশ জানায়, এক কিশোরকে ধরা হয়েছে। বাকিদেরও খোঁজ চলছে। বিকেলে পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত চার কিশোরকেই ধরা হয়েছে।
সম্প্রতি দিল্লির মালব্যনগরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিন তরুণীর সঙ্গে জাতিবিদ্বেষমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। ওই তিন তরুণী অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু ওই ঘটনার পর কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। জানিয়েছেন, কোনও অবস্থাতেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষদের প্রতি জাতিবিদ্বেষমূলক আচরণ বরদাস্ত করা হবে না।