Delhi High Court on Kejriwal Case

আবগারি মামলায় নিম্ন আদালতের মন্তব্যে স্থগিতাদেশ দিতে পারে দিল্লি হাই কোর্ট! জানতে চাইল কেজরীদের বক্তব্য

আবগারি দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টে গিয়েছিল সিবিআই। সেই মামলার যত ক্ষণ না নিষ্পত্তি হচ্ছে, তত ক্ষণ এই সংক্রান্ত ইডির মামলার শুনানি নিম্ন আদালতে পিছিয়ে দিতে বলেছেন দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ১৩:১২
Share:

নিম্ন আদালতের রায় ঘোষণার পরে (বাঁ দিকে) অরবিন্দ কেজরীওয়াল এবং মণীশ সিসৌদিয়া (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

আবগারি দুর্নীতি মামলায় অরবিন্দ কেজরীওয়াল, মণীশ সিসৌদিয়া-সহ ২৩ জনকে অব্যাহতি দিয়ে সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে যে পর্যবেক্ষণ ছিল নিম্ন আদালতের, তাতে স্থগিতাদেশ দেবে বলে জানাল দিল্লি হাই কোর্ট। তারা এই বিষয়ে কেজরীওয়াল-সহ ২৩ জনের বক্তব্য জানতে চেয়েছে। আগামী ১৬ মার্চ মামলাটির পরবর্তী শুনানি।

Advertisement

নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টে গিয়েছিল সিবিআই। সেই মামলার যত ক্ষণ না নিষ্পত্তি হচ্ছে, তত ক্ষণ এই সংক্রান্ত ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট)-র মামলার শুনানি নিম্ন আদালতে পিছিয়ে দিতে বলেছেন দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মা।

দিল্লি হাই কোর্টে সিবিআইয়ের হয়ে সোমবার সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি সওয়াল করে জানান, কেজরীওয়াল এবং সিসৌদিয়াকে বেকসুর খালাস করার যে রায় নিম্ন আদালত দিয়েছিল, তা ‘ন্যায়ভ্রষ্ট’। এই রায় দেওয়ার সময়ে সিবিআই এবং তার তদন্তকারী অফিসারকে নিয়ে নিম্ন আদালতের বিচারকের মন্তব্য নিয়েও সওয়াল করেন তিনি। জানান, বিচার ছাড়াই ওই পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে নিম্ন আদালত।

Advertisement

এর পরেই বিচারপতি শর্মার পর্যবেক্ষণ, ‘‘কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং তার তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে যে মন্তব্য করা হয়েছে, তাতে স্থগিতাদেশের নির্দেশ দেব। এই আদালতে শুনানির পরেই পিএমএলএ মামলা নিয়ে নিম্ন আদালতকে শুনানি করতে বলব।’’

কেজরীওয়ালদের অব্যাহতি দিয়ে সিবিআইয়ের উদ্দেশে নিম্ন আদালতের বিচারক জিতেন্দ্র সিংহ বলেছিলেন, “অভিযোগের সপক্ষে তথ্যপ্রমাণ দাখিল করতে না-পারলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর মানুষের আস্থা টলে যায়।” সিসৌদিয়াকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, সিবিআই এমন কোনও তথ্যপ্রমাণ দাখিল করেনি, যা থেকে সিসৌদিয়ার অপরাধমূলক আচরণের কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তদন্তকারী সংস্থার তরফে যে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথা বলা হয়েছিল, তা স্ববিরোধিতায় ভরা। এমনকি, সিবিআইকে ‘অর্থনীতিতে অজ্ঞ’ বলেও মন্তব্য করেছিল রাউস এভিনিউ আদালত।

এই নিয়ে দিল্লি হাই কোর্টে সিবিআইয়ের হয়ে সওয়াল করেন মেহতা। তিনি জানান, ওই মামলা ছিল দুর্নীতির, তা স্পষ্ট। তাঁর দাবি, কেজরীওয়াল, সিসৌদিয়া-সহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের মতোও যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে সিবিআইয়ের হাতে। এই মামলায় ঘুষ দেওয়ার প্রমাণও রয়েছে। তার পরেই বিচারপতি জানান, নিম্ন আদালতের ওই মন্তব্যে স্থগিতাদেশ দেবেন তিনি।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আবগারি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন সিসৌদিয়া। তখন তিনি দিল্লির আপ সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী। ১৮ মাস জেলবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্ত হন তিনি। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে এই মামলাতেই কেজরীওয়ালকে গ্রেফতার করে ইডি। তখন তিনি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। ইডির পাশাপাশি সিবিআই-ও এই মামলার তদন্ত করছিল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement