Gautam Gambhir

ভারত এতটাই শক্তিশালী, সুবিধামতো পিচ বানানোর দরকারই পড়ে না! অভিযোগ উঠতেই মুখের উপর জবাব গম্ভীরের

গম্ভীর বলেছেন, ভারতীয় দল এতটাই শক্তিশালী যে, তাদের সুবিধামতো পিচ বানানোর দরকারই পড়ে না। গম্ভীরের বক্তব্য, বিতর্ক তৈরি করা এবং নজর কাড়ার জন্যই পিচের সমালোচনা করা হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ১৩:২৮
Share:

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে গৌতম গম্ভীর ও সূর্যকুমার যাদব। —ফাইল চিত্র

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত যে ভাবে পর পর আড়াইশোর উপর রান করেছে, তাতে অনেকেরই অভিযোগ, ভারতীয় দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা ভেবেই উইকেটগুলি তৈরি করা হয়েছিল। এই কথা কানে যেতেই ক্ষুব্ধ গৌতম গম্ভীর। সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন ভারতীয় দলের কোচ।

Advertisement

বিশ্বজয়ী গম্ভীর বলেছেন, ভারতীয় দল এতটাই শক্তিশালী যে, তাদের সুবিধামতো পিচ বানানোর দরকারই পড়ে না। গম্ভীরের বক্তব্য, বিতর্ক তৈরি করা এবং নজর কাড়ার জন্যই পিচের সমালোচনা করা হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের কোচ বলেন, “আমি এই বিষয়ের সঙ্গে একমত নই। আমরা কেন কোনও কিছু আলাদা ভাবে তৈরি করতে যাব? সত্যি বলতে, ভারত এতটাই ভাল দল যে, আমরা এই ধরনের কিছু করার কথা ভাবতেও পারি না।”

Advertisement

এখানেই থামেননি গম্ভীর। মনে করিয়ে দিয়েছেন, কেবল ঘরের মাঠেই নয়, অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশেও ভারতীয় দল একই ভাবে বড় রান করেছে। তিনি বলেন, “টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে তাকালে দেখা যাবে, সেখানেও আমরা ২০০ রান করেছি। কিন্তু ভারতে ২০০ রান করলেই বলা হয়, পিচ বিশেষ ভাবে তৈরি করা হয়েছে। আমার মনে হয় কিছু মানুষ শুধু বিতর্ক তৈরি করতে চায়। স্রেফ ভিউ আর টিআরপির জন্য দেওয়া এই ধরনের বক্তব্য ধর্তব্যের মধ্যেই আনাই উচিত নয়।”

গম্ভীর মনে করিয়ে দেন, বিশ্বকাপে পিচ তৈরির বিষয়টি আইসিসি তদারকি করে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড নয়। বলেন, ‘‘ক্রিকেটারদের যথাযথ কৃতিত্ব দেওয়াটাও কিন্তু দরকার। আমরা যে শুধু ভারতের উইকেটেই বড় রান করেছি তা নয়। আইসিসি-র যে কোনও প্রতিযোগিতায় উইকেট তৈরির দায়িত্ব তাদের, বিসিসিআই-এর নয়।”

কলম্বোয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচের উদাহরণ টেনে গম্ভীর বলেন, ভারত ঘূর্ণি উইকেটেও বড় রান করেছিল। সেখানে অন্য দলগুলো লড়াই করতে হিমশিম খেয়েছে। গম্ভীর বলেন, “আমরা কলম্বোয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রায় ১৮০ রান করেছিলাম। বাকি দলগুলো ১৪০ রানের আশপাশে করছিল। আমরা পাকিস্তানকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছিলাম। তখন কেউ পিচ নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি।”

রান যে হচ্ছে, তাতে খুশি গম্ভীর। বলেন, “কেউ ১২০ রানের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দেখতে আসে না। সবাই হাই-স্কোরিং ম্যাচ দেখতে চায়। গোটা বিশ্বেই এখন এটা প্রবণতা।”

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও গম্ভীরের মাথায় রয়েছে লাল বলের ক্রিকেটে ভারতের ধারাবাহিক ব্যর্থতার কথা। তিনি চান ২০২৫-২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের বাকি তিনটি সিরিজ়ে দল ভাল খেলে ফাইনালে উঠুক।

গম্ভীরের মতে, কোচ হিসাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পর তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য ২০২৭ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠা। এখন মাত্র ৪৮.১৫ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে ভারত তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তৃতীয় বার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে ভারতকে বাকি ন’টি টেস্টের মধ্যে অন্তত সাতটিতে জিততে হবে। এই বছরে শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডে দুটি করে এবং ২০২৭ সালের শুরুতে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে ভারত।

গম্ভীর বলেন, ‘‘টেস্ট ক্রিকেট আমার হৃদয়ের খুব কাছে। এই ফরম্যাট আমার অত্যন্ত প্রিয়। আশা করি আমরা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারব। এটাই আমার পরবর্তী লক্ষ্য। আমাদের এখনও ন’টা টেস্ট ম্যাচ বাকি আছে এবং আমাদের পুরো ফোকাস সেখানেই থাকবে।’’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘আমরা একটা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। সাদা বলের ক্রিকেটের তুলনায় লাল বলের ক্রিকেটে এই রূপান্তর সব সময়েই কঠিন। দলে কিছু তরুণ খেলোয়াড় আছে যাদের আমরা টেস্ট ক্রিকেটে খেলিয়ে যাব। কারণ টেস্ট ক্রিকেট কখনওই সহজ নয়।’’

গম্ভীরের দাবি, ভারতের অধিকাংশ ক্রিকেটারই টেস্ট ক্রিকেটে নিয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস। বলেন, ‘‘তিনটে ফরম্যাটের কথা বললে লাল বলের ক্রিকেট আমার সবচেয়ে প্রিয়। আমি এখনও প্রথাগত ঘরানায় বিশ্বাস করি এবং আমার মনে হয় অধিকাংশ ক্রিকেটারও তাই। ওরা সত্যিই টেস্ট ক্রিকেটে ভাল করতে চায়। কারণ এখানেই প্রকৃত জাত তৈরি হয়। এই ফরম্যাটই সবচেয়ে তৃপ্তি দেয়। টেস্টই একমাত্র ফরম্যাট, যেখানে ২০০ বা ৩০০ রান করার সুযোগ পাওয়া যায়। অন্য কোনও ফরম্যাটে এই সুযোগ নেই। পাঁচ দিনের কঠোর পরিশ্রমের পর একটা টেস্ট জয়ের চেয়ে বড় সুখ আর কিছু হতে পারে না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল হোক বা ৫০ ওভারের ম্যাচ, টেস্ট ক্রিকেটই চূড়ান্ত আনন্দ দেয়।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement